শেষ বাস । সালেহা চৌধুরী

Comments

একেবারেই বিগড়ে গেলো বাসটা। সবগুলো যাত্রী বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর একজন একজন করে বাস থেকে নেমে পড়ে। শেষ যাত্রী পরাশর। বাসের এককোনে বসে সাদা বিড়ি ফুঁকছে। চারপাশের জায়গাটা চেনা নয়। জানালা দিয়ে অনেকক্ষণ বাইরে তাকিয়ে থাকে। কিছু দোকান, কিছু মানুষ, একটি ময়লা রাস্তা। আর একটু দূরে কচুরিপানার বড় দিঘি। মনে হয় বাসটা আজ বোধহয় আর ঠিক হবে না। পরে আরো বাস আছে। পরাশর হাতের ব্যাগ নিয়ে নিচে নামে।

সকলে এখানে ওখানে ছড়িয়ে গেছে। কেউ চায়ের দোকানে, কেউ গাছের নিচে, কেউ হাঁটতে বেরিয়েছে। পরাশর আগে দোকানে ঢুকে এককাপ গরম দুধ চা পান করে কয়েকটি বিস্কুটের সঙ্গে। সহযাত্রীদের দুএকজন পরাশরের দিকে তাকিয়ে হাসে। পরাশরও হাসে, তারপর চায়ে ডুবিয়ে ডুবিয়ে বিস্কুট খায়। একসময় চামচে চায়ের জন্য রাখা একটুখানি পড়ে থাকা দুধের উপরের সর তুলে খেয়ে ফেলে চারপাশে তাকিয়ে।

টি শার্টটি নীল। আর একটি খাকি ট্রাউজার। পায়ে এক জোড়া ভারী মজবুত টাটা কোম্পানির স্যান্ডেল সু। সু’র বয়স এখন পুরো পাঁচ বছর। আরো কয়েক বছর চলবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বছর খানেক আগে যে জুতো জোড়া সে পেয়েছিলো তা এখনো চকির নিচে র‍্যাপিং কাগজে মোড়ানো। চা খেয়ে একটি ডবল পান মুখে পুরে পরাশর হাঁটতে বেরোয়। দেখা যাক জায়গাটা কেমন। এ বাসটা তো ঠিক হবে না আর একটা আসবে পাঁচটায়। তারপর আর একটা অনেক রাতে। ভাবে পরাশর পাঁচটার বাসই ধরবোক্ষণ।

তার কাজ করবার দোকানের মালিকের বাপকে দেখে তার হাতে তিন হাজার টাকা গুঁজে দিয়ে আজ রাতেই ওর “কুতুবুদ্দিন চম চম হাউসে” ফেরত যাওয়ার কথা। মালিকের বাপের একখানা ছবি তুলবে বলে একটি সস্তা ক্যামেরা পকেটে। বাপের অসুখে ছেলে টাকা পাঠিয়েছেন। এবং তিনি কেমন আছেন এ কেবল মুখে নয় ক্যামেরার ছবিতে তুলে মালিকের কাছে নিয়ে যাবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাই ক্যামেরা। রশিদনগরের বাস। জায়গাটা মাইজদি কোর্ট থেকে তিন মাইল উত্তরে। আসল বাড়ি যে জেলা শহরে সেখানে অনেকদিন সে যায়নি।

– কুতুব চাচা, বাস বিগড়েছে। ঠিক হলিই যাবো। এমন এক বাণী কোনো মতে দোকানের ফোন থেকে পাঠাতে পেরে ব্যাগ হাতে হাঁটছে পরাশর। দোকানগুলো যখন শেষ হলো দেখা গেলো একটি আধা কাঁচা আধা পাকা রাস্তা ডানদিকের বটগাছ পার হয়ে কোথায় যেনো চলে গেছে। আর সে পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে আরো দেখা গেলো ইট বানানোর কারখানা। ব্রিকফিল্ড পার হতেই চোখে পড়লো ব্রিজ। তলা দিয়ে বয়ে গেছে তিরতিরে নদী। ব্রিজের উপর লাল ফুল ফুটেছে গাছে। পরশর ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে একটি সিগারেট টানে। টানতে টানতে মানুষ যেমন নদী, ব্রিজ, সবুজ মাঠ আর লাল ফুল দেখলে মনের ভেতর থেকে কোনো একটি ভালো ছবি ফট করে তুলে আনে, তেমনি একটি ছবি বুক থেকে তুলে বুক পকেটে রাখে পরাশর।

– তুমি কি ফুসফুসের অসুখে মরতে চাও? মতলবডা কি তোমার? সিগারেট পান করতে দেখলেই এমন প্রতিবাদ।
কত বছর আগের কথা? এক, দুই, তিন, চার। পরাশর অংকে চিরকালই কাঁচা। হিসাবটা মেলে না। নাকের উপর একটি লাল ফুল। তেলমাখা ঢিপির মত খোঁপা। আর কথায় কথায় হি হি।

– ও যমুনা এতো হাসলে কপালে দুঃখ আছে রে তোর? বিধবা মায়ের ভাবনা। কিন্তু যমুনা হাসবেই। বয়সটাই অমন ছিলো। ষোলো না হলে সতেরো না হলে আঠারো। আর পরাশরকে দেখলে হাসির গ্যাস লাগতো যেনো ওর নাকে, হাসছে আর হাসছেই। বুক পকেটের ছবিটা স্পষ্ট হলো। সিগারেটের বারো আনা টুপ করে পড়ে গেলো তিরতিরে নদীতে। যখন লাল ফুলের গাছটা বাতাস থামিয়ে পরাশরের দিকে আর তাকায় না, পরাশর আবার আপন মনে হাঁটে। তার কপাটের মতো বুকের ভেতরে যে ফুসফুস সেখানে অসুখ হবে এমন ভাবনায় ভীত একটি মেয়েকে ভাবে। তারপর হাঁটে। একটু বাঁক ঘুরতেই বেশ একটি নতুন শহরের মতো জায়গায় থমকে থামে। কারণ সেখানে একটি ছিমছাম নতুন শহর গড়ে উঠেছে। কতগুলো গাছ ঘেরা পথ। যাদের বলে এ্যাভিনিউ। বোর্ডে লেখা “শ্রাবস্তি হাউজিং সোসাইটি।” কেউ হয়তো একটি নতুন মডেল টাউন বানানোর চেষ্টা করেছে। নতুন বাড়ি ঘর। প্রতিটি বাড়িই দোতালা বাংলো। এক ধরনের ছন্দ আছে এ জায়গায়। পরাশর ছন্দের কারণে এ্যাভিনিউ ধরে পথ ভাঙতে থাকে। চারপাশে তাকিয়ে চোখ জুড়িয়ে যায়। নতুন গাছ তার চিকরি চিকরি পাতায় আলো আর ক্লোরোফিল মেখে পরাশরকে কি যেনো বলতে চাইছে। পরাশর জানে ক্লোরোফিলের আর এক নাম পত্রহরিৎ। পরাশর বাড়িগুলোর দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। নামটাও বেশ শ্রাবস্তি। আই এ পাশ হলেও পরাশর বি এ দিতে পারেনি। হতো যদি —- যাকগে সেসব কথা। বাংলা গল্পের বই পড়তে পারে। মাঝে মাঝে দুএকখানা বইও পড়ে এবং দু একটি কবিতা। কুতুবুদ্দিনের দোকানে নানা কাজ তার। অংকে কাঁচা হলেও খাতায় হিসাব তুলতে হয়। তারপর রাত বাড়তে থাকে। কাজ শেষ হলে কুতুবউদ্দিনের দোকানের উপর তলায় একটি ঘর আর একটি বারান্দার সংসারে উঠে আসে। ছাদ ঘরটা তার। ইলেটকট্রিক বাতি জ্বালায়। তারের সঙ্গে ঝুলে থাকা বাতিটা বাতাসে দোলে। তারপর সেই আলোতে বিছানা ঝাড়ে। দোকানের লুচি তরকারিতে পেট টইটম্বুর। কাজেই কিছু খায় না সে। তবে এক বছর হলো রুটিনটা একটু বদলেছে। এক বছর হলো ওকে দেখলে আর কেউ বলে না ঝড়ের কাক।

মা নেই। কাকা ও কাকিরা ওপারে। বহরমপুরে। বেশ কয়েকবছর আগে একবার পুজোতে গিয়েছিলে, আর যায় না।
– তোর চেহারাটা শালা একেবারে মোসলমানের মতো। ইয়ার্কি মেরে বলে দুএকজন বন্ধুর মতো মানুষ। মোমেন আর বাদশাহ। আয়নায় মুখ দেখলে ঠিক কোন জায়গাটা মুসলমানের মতো বুঝতে পারে না। দাড়ি গোঁফ নেই। কামানো মুখ। চিবুকের কাছে একটা ভাঁজ। চুলগুলো পরিপাটি করে রাখে। ধুতি তার জীবনেও নেই বাক্সেও নয়। কাজেই এইসব মিলিয়ে একটু মোসলমান মোসলমান ভাব হয়েছে হয়তো। কিছু যায় আসে না তাতে।

বড় গাছের নিচেইতো দাঁড়িয়েছিল ও। রং পালিশে ঝক ঝকে একটি বাড়ির সামনে। আমড়া কিনছিল। পরাশর পায়ে পায়ে একটু সামনে এসে দাঁড়ালো। হতবাক সে। বাকরুদ্ধ – যমুনা। ডাকটা সেই যমুনা নামের মেয়েটির কানে যেতেই হাত থেকে আমড়া পড়ে গেলো তার। মেয়েটিও হতবাক এখন। এসব কিছু বুঝতে না পেরে আমড়াওয়ালা চলে গেলো পথের উপর পড়ে থাকা আমড়া কুড়িয়ে। নির্নিমেষে তাকিয়ে রইলো যমুনা। পরাশরও। শাড়িটা সবুজ পাতার ছাপ ছাপ। কানে দুটো লাল ফুল। হাতে দুখানা সরু বালা। পরাশর যখন প্রাথমিক বিস্ময় কাটিয়ে চোখ তুলে তাকায় এবং যাকে সে দেখে তার সঙ্গে খানিক আগের লাল ফুল আর গভীর নদীর ভাবনার জগতের মেয়েটিকে মেলাতে পারে না। কিন্তু একেই তো ভাবছিলো পরাশর। ঠিক বয়স নয় মনে হয় কোনো এক দুর্দৈব নদীতে ক্রমাগত সাঁতরে এখন নদীর পাড়ে পা রেখেছে এই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়ে। বলে পরাশর – যমুনা।
– চিনতে পারলা?
– তা পারবো না কেনো যমুনা?
– কি জানি। এই বলে যমুনা চোখ নামায়। পরনের পাতা পাতা সবুজ শাড়িটা বাতাসে ফুলে ওঠে তারপর স্থির হয়। যেমন স্থির হয় যমুনা। হাতে দু’গাছা বালা। বোধকরি সিটি গোল্ডের। আর কানে দুটো লাল পাথর ঝুলছে ঘড়ির পেন্ডুলামের মতো। এই নারীর পেছনে যে বাড়ি সে দিকে তাকায় পরাশর। মাধবিলতার ঝাড় নেমেছে ছাদ থেকে। আর কি সব গাছপালায় যে বাড়ির নাম “আনন্দধাম” সেখানে তাকিয়ে ভাবে পরাশর, শেষপর্যন্ত যমুনাবতী সরস্বতী কি এমন একটি বাড়ির অধিকারী হয়েছে। নিরঞ্জনপুরের সকল কষ্টের পর? এওকি সম্ভব। আর তা ছাড়া বড় কপালটাতে রেখা, গালে ছিট ছিট মেছতা, চুলের মধ্যে আলোরোদ এবং খ্যাপা ফাঁকা শালবনের মতো কিছু খালি জায়গা। টেনে একটুখানি খোঁপা বেঁধেছে। পান খেয়েছে বলে তখনো একটু খয়ের লেগে আছে ঠোঁটে। কি বলবে পরাশর বুঝতে পারে না। যমুনা কথা বলে – এখানে কি করতে তুমি?
– মালিকের কাজ নিয়ে রশিদপুর যেতে গাড়ি বিগড়েছে। তাই একটু ঘুরতি বার হইছিলাম। তোমার দেখা পাবো ভাবিনি।
যমুনা হাসে। এবং তখনই যমুনাকে চেনা সেই মেয়ের মতো মনে হয়। পরাশর হাঁ করে যমুনার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।
– তুমি খুব বেশি বদলাওনি। বলে যমুনা।
উত্তরে যদি এমন কথা বলতে পারতো পরাশর খুশী হতো কিন্তু বলতে পারে না। সাত বছরে যমুনাবতী অনেক বদলেছে। বলে কেবল – খুব ভালো লাগতেছে যমুনা তোমাকে দেখে। যমুনা আবার হাসে। পরাশর এতো কাছে চলে আসে কেবল ওদের মধ্যে ব্যবধান একটি পাতলা বাখারির বেড়া।
– এই বাড়িতে আমি থাকি। বলে যমুনা নিজে থেকে।
আমি থাকি বলে – সেইসব মেয়েরা যারা বাড়িতে কাজ করে। পরাশর চেয়ে রয়।
– কতদিন থেকে?
– তা প্রায় পাঁচ বছর।
মাঝের দুই বছর যমুনা কি করেছে? ভাবে পরাশর। মাতবরের ছেলের ঘরে কয়েক রাত অবরুদ্ধ থাকবার পর যমুনা আর তার মা যখন গ্রাম ছেড়ে রাতের আঁধারে কোথায় হারিয়ে গেলো পরাশর আর এদের খোঁজ পায়নি।
– তেনারা সব ঢাকায় গেছে। রাত বারোটায় বাড়ি আসবেন।
– তেনারা? পরাশর যমুনার কথার পুনরাবৃত্তি করে।
– ডাক্তার সাহেব আর তার বউ। বলে যমুনা। তেনাদের বাড়িতেই আমি থাকি।
– ডাক্তার সাহেব?
– তুমি দেখি তোতাপাখির মতো আমি যা কচ্ছি তাই কও। ডাক্তার মনজুরে খোদা। বড় দয়ার শরীলগো তার। তার বউটাও বড় ভালোমানুষ।

পরাশর তাকিয়ে থাকে যমুনার মুখের দিকে। যমুনাবতী সরস্বতী কাল যমুনার বিয়ে/ যমুনা যায় বরের বাড়ি নাকে নোলক দিয়ে। এইসব বলে খ্যাপাতো পরাশর। তার কপাটের মতো বড় বুকটাতে যমুনাকে ধরে রাখতে পারবে কেমন করে তাই ভাবতে ভাবতে। গ্রামের মধ্যে এক সঙ্গে বড় হয়ে ওঠা যমুনা আর পরাশর। যমুনার ছিলো না বাবা আর পরাশরের ছিলো না মা। গ্রামে ভালোই ছিলো ওরা কেবল যমুনার যখন গা ভরে এলো রূপ, নিরুপায় হরিণীর মতো যমুনা শাড়ির আঁচল টেনেটুনে শরীর সামলাতে গিয়েও পড়েছিল কয়েকজনের চোখে। আহা যমুনা যদি কালো হতো, কুৎসিত হতো, যমুনার যদি হাতির মতো ছোটো ছোটো চোখ হতো, আর গলার স্বর হতো বিশ্রি আর মাথার চুল গুলো যদি ঝাঁটার কাঠির মতো, যমুনার গল্পটা কি অন্যমত হতো তাহলে? পরাশর কি যমুনাকে পেয়ে যেতো তার সেই ছোটো সংসারে? কে বলবে সে কথা। কিন্তু পরাশর তো যমুনাকেই ভালোবেসেছিল কেবল তার রং আর নাকচোখকে নয়। তার শরীরের বাঁক আর উপত্যকাকে নয়।
– মাসিমা কোথায় যমুনা?
বছর তিনেক আগে মরেছে। বলে যমুনা। এই বলে আঁচলে মুখটাকে মুছে ফেলে। পরাশর বলে – শুনে কষ্ট পেলাম।
তোমার বাস কখন? প্রশ্ন করলো যমুনা।
– শুনেছি দুই ঘন্টা অন্তর অন্তর বাস। নিজেদেরটা ঠিক না হলে ওরি কোন একটাতে উঠে পড়বো।
বলার সঙ্গে সঙ্গে বাখারির গেটটা খুলে ধরলো যমুনা। বললো – ভেতরে আসো।
– তেনারা জানতি পারলে তোমার ক্ষতি হবে না?
– না। পোলাটারে রেখে গেছে। ডাক্তার সাহেবের মিটিং আর তার বউয়ের পেটের আর বুকের ছবি তোলাবে আর চিকিৎসা করাবে বলে বাচ্চাটাকে নিতে পারে নাই। মরণ আমার! কেমন মানুষ গো তুমি, ডাক্তার বুঝতি পারছো না, পেটে আবার বাচ্চা এসেছে তার বউএর। বলে তাকায় যমুনা পরাশরের দিকে। যমুনার কথার সবটুকু বুঝতে না পেরেও যমুনার কথার ভঙ্গিতে হেসে ফেলে পরাশর। মনে পড়ে যমুনার কথা – কেমন মানুষগো তুমি সারা দুপুর কার জন্যে বসে আছি তা বুঝতে পারো না। যমুনা বদলালেও তার কথা বলার ভঙ্গিটা আগের মতোই লাগছে পরাশরের। বলে যমুনা আবার – পোলাটা বাড়িতে। আর ছেলেটাও আমারে পাইলে মা বাপ কাউকে চিনতে পারে না। জন্মের পর থেকে দেখছি তো। আমার কাছেই মানুষ।
– ওদের বাচ্চা?
– হ্যাঁ গো ওদের বাচ্চা।
– বয়স কত?
– চার বছর। ঘুমোচ্ছে।

এই বলে যমুনা বসার ঘরের দরজা খোলে। কাঠের দরজার উপরে বাজনার মতো কি যেনো বেজে উঠলো টুং টাং করে। দরজার ভারি কাজ দেখতে দেখতে পরাশর ঘরের ভেতরে ঢোকে। যেমন হয় বড়লোকদের বসার ঘর তেমনি একটি ঘরের ভেতর পা রাখে পরাশর। লালচে রংএর সোফায় বসতে ভয় করলো বলে ও দাঁড়িয়ে থাকে। যমুনা কি ভেবে একটি কাঠের চেয়ার এনে ফ্যানের নিচে রাখে। বলে – বস।

পরাশর বসে। আর যমুনা বসে ওর পায়ের কাছে মোড়া টেনে। এমন একজন ভালোমেয়ে যমুনা যে বাড়ির কর্তাগিন্নীর অবর্তমানেও তাদের সোফাতে নিজে বসে না আবার কাউকে বসায় না। আর বসবার পরপরই দুজনের কথা গেলো হারিয়ে। যমুনা মাটির দিকে চেয়ে কি ভাবছে আর পরাশর যমুনার দিকে চেয়ে। খানিকপর বলে যমুনা – কিছু খাবা?
– এক গ্লাস জল খাওয়াওতো দেখি যমুনা। গলাটা শুকিয়ে কাঠ।
যমুনা জল আনতে গেলে পরাশর দেয়ালের ছবি দেখে। সবাইকে দেখতে দেখতে ভাবে বেশ দেখতে এ বাড়ির মানুষগুলো। যে সব মানুষ “আনন্দধামে” বাস করে তারা সব। পিরিচে একটু মিষ্টি আর এক গ্লাস জল নিয়ে যমুনা এসে আবার সামনে দাঁড়ায়।
– খিদা নাই। খালি জল দাও। বলে পরাশর।
– খালি পেটে জল খায় না। বলে সন্দেশের থালা সামনে একটি ছোটো টেবিল এনে তার উপরে রাখে। আঁচল দিয়ে টেবিলটাকে ভালো করে মুছে দিয়ে।
পরাশর একটুকরো সন্দেশ মুখে পুরে ঢক ঢক করে পুরো জলটুকু খেয়ে ফেলে পকেটের রুমাল দিয়ে মুখ মোছে।
– তুমি আর মাসি যখন গাঁ ছাড়লা অনেক খুঁজেছি তোমাকে যমুনা। সেই যে হারালা আর —। এই বলে পকেটের রুমালে মুখ মোছে পরাশর আবার।
– হারালাম? তাহলে তাই।
– তাহলে কি? পরাশর ভাবে। পাঁচরাত এক পোড়োবাড়িতে আটকে থাকা যমুনাকে কেউ ধানদুর্বো দিয়ে পূজা করেনি। কি হয়েছিলো পাঁচরাত? দারোগা পুলিশ এলে সেই পাঁচরাতের হিসেব মেলেনি কোথাও। যেন মহাকালের খেরোবাঁধানো খাতা থেকে পাঁচটি রাত কঠিন রবারে মুছে দিয়েছে কেউ। ছয়দিন আগে যমুনা আর তার মা গাঁ ছেড়ে বোনপোর বাড়ি শহরে চলে গেছে। তাকে কে আর গাঁয়ে খুঁজে পাবে। এমনি রিপোর্ট লিখে দারোগা সাহেব জিপ চালিয়ে চলে গিয়েছিলেন। পৃথিবীর সব যমুনাদের দারোগা এক। ভেবেছিলো পরাশর।
– দারোগা সাহেব এ কথা সত্যি নয়। বলেছিলো পরাশর পথ রুদ্ধ করে। বুকটা খালি কপাটের মতো নয়, সাহসও ছিলো খুব।
পকেটভারি দারোগা গরম চোখে তাকিয়েছিলো পরাশরের দিকে।
শালা মালাওনের পুত কি কও তুমি?
– দারোগা সাহেব —।
– আর একটাও কথা কবা না। তাহলে সিধা চালান করবো। চালানের ভয় ছিলো না কিন্তু চালান হলে যমুনাকে খুঁজবার আর কেউ থাকবে না এই ভয়ে চালান হতে রাজি হয়নি। না হলে সে দারোগার জিপ উল্টে তাকে নদীতে ডোবাতো।

পরাশর ছাড়া গ্রামের আর কার ক্ষমতা ছিলো আর একটাও কথা বলবার? তারপর? শহরের সকল সম্ভাব্য জায়গায় এ মাথা থেকে আর এক মাথা চষে বেড়ানো অনেকদিন ধরে। একসময় যমনাুকে খুঁজে বের করার আশা ছেড়ে দিলো পরাশর। মরে গেছে, ফুরিয়ে গেছে, এমন ভাবনায় বোঝালো নিজেকে। অলি গলি নিষিদ্ধ গলি সব শেষ করে। এক একদিন যমুনার মতো কোনো একটি মুখ দেখলে চঞ্চল হতো পরাশর। তার হাত কেঁপে যেতো কাজ করতে করতে।
খুব চেনা দু’একজন বললো – ওরে দিয়ে আর পুজো হবে না পরাশর। পাঁচদিন পঞ্চাশজনের —।
কানে আঙুল চাপা দিতো পরাশর। এসব সে শুনতে চায় না।
– কত জায়গায় যে তোমারে খুঁজছি যমুনা। জলখাওয়া ঠোঁট রুমালে মুছে যেন আপন মনে কথা বললো পরাশর। এ কথা না বললেও হতো। যমুনা জানে।
– মেয়েমানুষ না কৈ মাছের প্রাণ। বললো যমুনা মুখ নিচু করে। তারপর তাকালো পরাশরের মুখের দিকে। বললো – তা তোমার খবর কি? বউ টউ ছেলে মেয়ে নাই?
যমুনাকে মিথ্যে বলতে প্রাণে বাধলো পরাশরের। বললো সে – বাবার মরার বছর বিয়ে করলাম। ছেলে মেয়ে নাই।
শুনে এতোক্ষণ পর জোরে হেসে উঠলো যমুনা। মনে হলো এতোবড় সুখের কথা ও আর আগে কখনো শোনেনি।
ব্যাস গল্পের বিষয় পেয়ে গেলো যমুনা। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে শুনে নিলো বউএর নাম, সে দেখতে কেমন, কি রাঁধতে পারে, পরাশরকে কতটা ভালোবাসে, সব কথা।
– পদ্ম? বাঃ ফুলের নামে নাম গো তার।
– আমি নদীর নামে মেয়ে খুঁজেছি যমুনা। ফুলের নামের নয়।
– বাজে কথা রাখো দিকি তুমি। নদীর নামের মেয়েদের কপালে অনেক দুঃখ থাকে। ফুলের নামের মেয়েরাই ভালো। দেবতাকে ফুল চড়িয়ে পূজা করতে পারবা।
এই কথাতেই যমুনাকে যারা পোকা খাওয়া ফুলেদের সঙ্গে তুলনা করেছে তাদের কথা মনে পড়ে গেলো। পরাশর গম্ভির হয়ে ওঠে। যমুনা তার রেখা জাগা কপাল এগিয়ে দেয়। বলে – কি দেখতে পাচ্ছো তুমি এই কপালে?
– কি আর দেখবো যমুনা তোমার কপাল দেখছি। এই বলে কপালটা ছুঁতে গেলেই যমুনা কপাল টেনে নেয়। – আমার কপাল ছুঁয়ে তুমি আর দুঃখ বাড়াবা না।
পরাশর সে কথা না শুনে যমুনার কপালের কয়েকটি চুল গুছিয়ে আবার উপরে তুলে দেয়।
– বললাম কপাল ছোঁবা না আবার কপাল ছোঁও। তা তোমার পদ্মফুলের কপাল কেমন?
– কেমন আবার?
– কপালে ফোঁটা কাটে না? প্রশ্ন করলো যমুনা। আর ওর কথা শেষ হতে না হতেই একটি চারবছরের ছেলে টলমল পায়ে ঘরে ঢুকেই যমুনার কোলে ছাঁপিয়ে পড়ে। কেবল ঘুম থেকে উঠেছে বুঝতে পারা যায়।
আমার সোনা আমার মানিক বলে বুকে করে একটু ঘুরলো যমুনা। তারপর কোলে নিয়ে বসলো আবার মোড়ার উপর। বললো – তুমি অরে একটু ধরতো দেখি আমি ওর খাবার আনি।
– আমার কোলে কি আসবে যমুনা। প্রশ্ন করলো পরাশর।
– এ হলো সোনার ছেলে। হাত পাতো দেখি কি কয় বাবুই। পরাশর হাত পাততেই যমুনার দিকে তাকিয়ে পরাশরের কোলে যাবে বলে পরাশরের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো বাবুই। – বলেছি না ও হলো সোনার ছেলে। ও তোমার পরাশর কাকা। বললো যমুনা চার বছরের বাবুইকে। বাবুই বললো – কাকা। তাতে পরাশরের দুই কান অমৃতে পূর্ণ হলো। – ওরে আমার সোনার ছেলে রে? এই বলে যমুনার ভাষায় আদর করলো ছেলেকে, কপাটের মতো বুকের মধ্যে বাবুইকে রাখলো পরাশর পরামানিক। যমুনা খাবার আনতে গেলো।

খানিক পর যমুনা ঘরে ঢুকে দেখতে পেলো বাবুই আর পরাশরে ভাব হয়ে গেছে। খুশী হলো যমুনা বাবুই-এর হাসি হাসি কথায়। – নাও এবার তুমি অরে কোলে করে রাখো আর আমি ওরে সুজি খাওয়াই। পরাশরে কোলে বসে যমুনার হাতের চামচ থেকে এক চামচ চামচ করে সুজির হালুয়া খেলো বাবুই। বাটি শেষ হলে তিনজনে হেসে উঠলো। পরাশর যমুনার দিকে তাকিয়ে রইলো। আর যমুনা পরাশরের দিকে। তারপর দুজনে আবার চোখ নামালো। যমুনা বললো – তোমারো বাবুই হবে।
পরাশর জানে যমুনার এ ভবিষ্যতবাণী সত্য হবে না। পদ্মের সাধ্য নেই কোনো বাবুই বা চড়ইকে তার সংসারে নিয়ে আসার। বউকে ভালোবাসে পরাশর। কিন্তু এই কারণে দুঃখ? হয়তো নেই।
বাবুইর খাওয়া হয়ে গেলে দুজনে বারান্দা ধরে হাঁটলো বাবুইকে নিয়ে। বসলো বাগানের বেঞ্চে। আর সেখানে নিজের পকেট থেকে একটি কমদামি ক্যামেরা বের করলো পরাশর পরামানিক। বাবুইকে মাঝখানে রেখে সুখী পরিবারের মতো একটি ছবি তুলবে বলে ঠিক করলো। আর কাউকে না পেয়ে ক্যামেরা হাত দিয়ে সামনে ধরে রেখে।
যখন যমুনা ঘর থেকে পাতা পাতা শাড়ি ছেড়ে নীল নদীর মতো শাড়ি পরে এসেছে তখনই তার দিকে তাকিয়ে মনে হলো পরাশরের যমুনা যেতে যেতেও কোথায় যেনো এখনো যমুনা হয়ে আছে।
– আমারে সকলে ডাকে আসিয়া। পরাশর কারণ বুঝতে পারলো ডাক্তার মনজুরে খোদার বাড়িতে যমুনা বলে ডাকায় বিপত্তি অনেক। অনেকেই আছে যমুনার হাতের ছোঁয়া জলটুকুও পানের অযো্গ্য মনে করে। কাজেই নামটাকে ওর দুটো ভালো শাড়ির মতো ভাঁজ করে বাক্সে রেখে দিয়েছে যমুনা। নেপথলিন ছিটানো নামটা যে আর কোনোদিন কারো কাজে লাগবে যমুনা ভাবে না। লাগবে না এ ব্যাপারে মোটামুটি নিশ্চিন্ত সে। পরাশর এসে নামটাতে সূর্যের আলো মাখায়, কাঁঠালিচাপার সুবাস মাখে। আর তাইতেই যমুনা বাবুইকে পরাশরের কোলে তুলে দিয়ে ঘর থেকে ভরন্ত যমুনা হয়ে আসতে চাইলো। চুলটাতেও চিরুনি পরেছে। একটু পাউডারের মতো আভা গালে আর কপালে। রেখাগুলো তবু জেগে আছে।
– ছবিটা তোমাকে পাঠাবো যমুনা। বললো পরাশর। রুমালে পাউডার একটু মুছে দিয়ে।
– সরে বসো দিকি। মুখ ঝামটা দিলো যমুনা। – ছবি কোনোদিন পাঠাবা না।
– কেনো?
– সাহেবরে কি জবাব দেবো? তুমি কে আমার?
– ক’য়ো কাকাতো ভাই।
– না। যমুনা তার বসকে মিথ্যে বলবে না। বললো সে গভীর গলায় – আসিয়ার কেউ নাই। যেমন আমারে তেনারা অনাথআশ্রম থেকে তুলে আনছে আসিয়া নাম দিয়ে আমি তেমনই থাকবো। তেনারা ভালো মানুষ।
এই বলে যমুনা গম্ভির হয়।
– তোমার ঠাকুর দেবতা?
– আছে একখানা দেবতা। সময় পেলে বাক্স খুলে পুজো করি।
– দেবতা? কোন দেবতারে যমুনা, শিব নয়তো?
– কি কথার ছিরি তোমার? শিব হতি যাবি কেনো? আমি শিব দিয়ে কি করবো কও দেখি। পঁচিশ বছরের যমুনা জানে না শিব দিয়ে কি করবে। একটু রসিকতা করে এবার গম্ভির হলো পরাশর। – বললে না তো কোন দেবতা? পরাশর দেবতার নাম শুনতে চাইলো।
– শুনে তোমার কি কাম? যমুনা বলে – দেবতা আছেন গো তিনি আছেন। আমার পূজো তো মিথ্যে হয়নি। তুমি সুখী হয়েছো। এই বলে দেবতার উদ্দেশ্যে করজোড়ে কপালে হাত ঠেকায় যমুনা। পরাশরের কপাটের মতো হৃদয়টা কেঁপে ওঠে। তার চোখ চিক চিক করে। – পুজোটা তাহলে?
– সরে বস দেখি। তোমার এই আগের মতো বসবার অব্যেস আর গেলো না। পরাশর সরে বসলো না আরো কাছে এলো যমুনার। বাবুই মাটিতে নেমে হেঁটে একবার এদিক আর একবার ওদিক ঘুরছে। পরাশর সেদিকে তাকিয়ে বলে – তোমার জীবনটা —
– কি হইছে আমার জীবনটা? মেয়েমানুষের জীবন। কৈ মাছের প্রাণ। খাচ্চি পরছি। তেনারা দয়া করেছেন। মাসের বেতন জমা করে দেন। আমার আবার কি কষ্ট। যমুনা বলে জোরে। তারপর পরাশরের দিকে চেয়ে বলে – টাকা পয়সার দরকার হলে —। তারপর চুপ করে।
পরাশর গলা নামিয়ে বলে – তাতো জানি যমুনা তবু।
– দেখো ভগবান আছেন। তুমি প্রাণে বেঁচে আছো তোমার ঘরসংসার বউ হইছে। তাহলে ভগবানরে কেনো আমি দোষ দেবো। যমুনা জানে না কেনো সে এখন ভগবানকে দোষ দেবে? ওর কাছে ভগবানের ঘাড়ে দোষ চাপানোর মতো এই মুহূর্তে আর কিছু নাই ।
পরাশর আর কিছু বললো না। বললো কেবল – সন্ধ্যা হয়ে এলো যমুনা এবার আমাকে যেতে হবে।
– তুমি কিছুইতো খাইলা না। পরাশরের খিদে পায়নি। পরাশর খেতে চায় না।
– অনেক বাস আছে। দুই ঘন্টা পর পর। শেষ বাস রাত এগারোটার সময়, বললো যমুনা। পরাশর যা বলেছিলো তারই পুনরাবৃত্তি করে।
– তুমি চাও আমি আরো থাকি। বেশ নরম সুরে উদ্বেল হয়ে প্রশ্ন করলো পরাশর।
– এ আবার কেমনতর কথা? যমুনা সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলো না। কিন্তু যমুনা তাকে যত্ন করে খাওয়ালো। সার্টের যে কোনটি বাখারির বেড়া দিয়ে ছিঁড়ে গেছে তাকে যত্ন করে সেলাই করে দিলো। তখনই কপাটের মতো বুকের দিকে একবার তাকিয়ে বললো – মনে হচ্ছে বউএর কথা মানো না। তোমার বুকের সব কটা হাড্ডি মাংসে ডোবা ছিলো এখন এমন করে বেরিয়ে আছে কেনো।

যমুনা যেনো আপনমনে কথা বললো। এ কথার উত্তর সে চায় না। তারপর দাঁত দিয়ে সুতো কেটে বললো – তুমি গায়ে দাও। আমি তোমার খাওয়ার ব্যবস্থা করি। তেনাদের ডাইনিং চেয়ারে নয় যমুনা মাটিতে বসালো পরাশরকে যেমন করে অনেক আগে মাটিতে আসনপিঁড়ি হয়ে বসতো পরাশর। কথা শুনলো না যমুনা। সে বসলো না খেতে। সে কেবল পাতে এটা ওটা তুলে দিতে লাগলো।
বাবুই যখন ঘুমিয়ে গেলো যমুনা বাতির আলোতে পায়ের কাছে এক থোপ বেড়ালের মতো বসে বললো – কথা দাও আর কখনো আসবা না।
পরাশর বললো – কথা দিতে পারবো না।
যমুনা এ নিয়ে আর জেদ করলো না। কেবল বললো – তেনারা বড় ভালোমানুষ। আমি সেই কোন জন্মের একজনের সঙ্গে এসব করি এভালো জিনিষ নয়।
– কি সব?
– এই যে গোপনে দেখাশোনা।
– আমিও ভালো মানুষ যমুনা। বললো পরাশর।
যমুনা বললো – তা জানি। মোড়লের বেটার হাতে প্রাণটাই যেতো তোমার। ভগবান! ভগবান! বলে কপালে আবার হাত ঠেকালো যমুনা। বললো – আছেন গো আছেন। তিনি আছেন।
তিনি আছেন কি নেই তা নিয়ে পরাশর কোনোদিন ভাবেনি। যদিও যমুনার এই ভাবে বেঁচে থাকার কোনো অর্থ সে পেলো না কেবল বললো – হয়তো আছেন।

যমুনা বেড়ার ওপারে দাঁড়ালো। ত্রয়োদশীর চাঁদের আলো পড়লো পরাশরের মুখে। কোনো এক গাছের পাতার আড়ালে যমুনার মুখের ও কপালের সব রেখা ঢাকা পড়ে গেছে। আঁধারে “ফেসলিফ্ট” হয়েছে যমুনার। আট আটটি ঘন্টা তারা কাটালো এক সঙ্গে। সময় চলে গেলো আট মিনিটের মতো। একটি কথা যমুনা পরাশরকে বলতে পারেনি পঞ্চাশ জনের কার যে সন্তান সে নয়মাস বহন করেছিলো জানে না। একবার কান্নার আওয়াজ পেয়েছিলো যমুনা। তারপর কোথায় আছে কে জানে। এরপর ফর ফর করে মাথার সব চুল উঠে গেলো যমুনার। এ ছাড়া নয় মাসের আর কোনো চিহ্ন নেই কোথাও। যমুনার সেই হারানো সন্তান আর পরাশরের অজাত সন্তান বাবুই হয়ে এখন একটি ছবিতে একটি সুখী দম্পতির কোলে বসে মিষ্টি করে হাসছে। যমুনা ছবিটা চায় না।
বললো সে আবার – কথা দিচেছা তুমি আর আসবা না?
একটু রেগে বললো পরাশর – তেনাদের মতো আমিও ভালোমানুষ যমুনা। তারপর পরাশর আর কোনো কথা বললো না। কথা না দেবার ব্যাপারটি যমুনা ঠিক কি ভাবে মেনে নিলো পরাশর জানতে পারলো না।
দূর্গা! দূর্গা! বলে কপালে হাত ঠেকালো যমুনা।

বড় বড় পা ফেলে শেষ বাস ধরবে বলে পরাশর বড় রাস্তায় ওঠে। পরাশর ফিরে তাকালে কি দেখতো? থাক। পরাশর, পদ্ম, বাসটা পেয়ে গেলেই ভালো।

লেখক:
Saleha Chowdhury
সালেহা চৌধুরী, গল্পকার

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.

About Author

বাঙালীয়ানা স্টাফ করসপন্ডেন্ট