স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবীতে অভিনব আন্দোলন

Comments

এক অভিনব কায়দায় নিজেদের ক্যাম্পাসকে পুরোপুরি স্বায়ত্বশাসিত বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার আন্দোলন গড়ে তুলেছে জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইন্সটিটিউট(নিটার) এর ছাত্রছাত্রীরা। বিভিন্ন মত নির্বিশেষে এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের দাবী এখন একই বিন্দুতে মিলিত হয়েছে, ‘নিটারকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর চাই’।

ঝড় ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের বিতর্ক ও মতবিনিময় সভা

ঝড় ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের বিতর্ক ও মতবিনিময় সভা

এরই ধারাবাহিকতায়, নিটারের ডিবেটিং সোসাইটি এক মুক্ত বিতর্ক মঞ্চের আয়োজন করেছিল ২ এপ্রিল। যেখানে বিতর্কের বিষয় ছিলো, ‘নিটারকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার জন্য প্রশাসন নয়, শিক্ষার্থীদের ভূমিকাই মুখ্য’। এই বিতর্কে ও মত বিনিময় সভায় উঠে আসে লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসনের ভুমিকার কথা। তাছাড়া, শিক্ষার্থীরা কীভাবে এই আন্দোলনকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে সেই বিষয়গুলো। বিতর্কে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তারাও এই মত বিনিময় সভায় বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেন।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিকে পুরোপুরিভাবে পাবলিক করার দাবীটা আলোচনায় আসছে ২০১৪ সাল থেকেই। কিন্তু, ছাত্রছাত্রীদের কোন প্রতিনিধি না থাকায় ও কোন সংগঠনকে সেই ভাবে দাঁড়াতে না দেওয়ায় আন্দোলনটি টিকিয়ে রাখতে হয়েছে অনেকটা আন্ডারগ্রাউন্ড আন্দোলন হিসেবে। তবে এবারে তারা আশাবাদী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে। এই সময় তারা এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ আত্মপ্রকাশ করার দাবী জানান। নিটার এলামনাই এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি রনি মিয়া এসময় শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা পোষণ করেন ও জানান, এলামনাই এ্যাসোসিয়েশন সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

নিটারে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী

নিটারে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী

কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসের একটি অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে এলে, সেখানেও ছাত্রছাত্রীরা তাদের এই দাবীটি উত্থাপন করেন। তাছাড়া, ৮ এপ্রিল, নিটারে একটি গণস্বাক্ষর কর্মসূচী হাতে নিয়েছে নিটারের ডিবেটিং সোসাইটি। নিটারের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে বেশ কিছু শিক্ষকও তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। এর আগে, এটিকে ‘শেখ হাসিনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে প্রস্তাব করা হলেও শিক্ষার্থীরা চায় এটি যেনো একটি স্বায়ত্বশাসিত পাবলিক টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

আরও পড়ুন: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন দশম দিনে

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ইন্সটিটিউট হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে ২০১০ সাল থেকে। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বাঙালীয়ানা/টিডি

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.