সিস্টেম সোজা করতে চিমটি দিয়ে নয়, সামষ্টিকভাবে জড়িত সকলকে ধরতে হবে । ডা. নাজমুল হাসান

Comments

সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়ার চাকরির মেয়াদ শেষ হয় গত ১৩ আগস্ট ২০১৯ এ। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এক মাসের জন্য অর্থাৎ ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিএমপি কমিশনার হিসেবে তার চাকুরীর মেয়াদ চুক্তিভিত্তিক বাড়ানো হয়। চুক্তিভিত্তিক চাকুরীর মেয়াদ শেষ হবার পরদিনই অর্থাৎ ১৪ই সেপ্টেম্বর থেকে তাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীন জাতীয় নিরাপত্তা সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে ৩ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

যিনি ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় গাদা গাদা ক্যাসিনো সম্পর্কে রাষ্ট্রের নির্বাহি দায়িত্বে থাকা চেয়ারসমূহকে তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাকে কি করে জাতীয় নিরাপত্তা সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হলো? এই ব্যক্তির কাছে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার দায়িত্ব কতটা নিরাপদ?

অবৈধ ক্যাসিনো চলেছে আর পুলিশ বিভাগ তা জানে না, একথা বদ্ধ উন্মাদ‌ও বিশ্বাস করবে না, করার কথাও নয়। যে পুলিশ বিভাগের লোকজন ফুটপাতে বসে থাকা প্রত্যেক হকার থেকে দিনোহরা, সপ্তাহহরা, মাসোহারা তোলে তারা ক্যাসিনো থেকে সুবিধা নেয়নি সে কথা যদি কেউ বলে তাহলে তাকেই মানুষ পাগল বলবে। তারমানে এগুলো ছিল, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন সেটা জানত এবং সেখান থেকে তারা সুবিধা নিয়েছে। তাহলে এসমস্ত বাহিনীর লোকজনকে কেন জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে না?

আছাদুজ্জামান মিয়া ডিএমপি কমিশনার থেকে সরে যাওয়ার পরপরই বিষয়টি রাষ্ট্রের গোচরীভূত হলো, তারমানে এই নয় কি, যে তিনি এটি চেপে রেখেছিলেন? তিনি যদি বলেন, তার হাত-পা বাঁধা ছিল বলে কিছু করতে পারেননি- সেটাও তার ব্যর্থতা। পুলিশ বিভাগের এরকম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে যদি এ কথা বলেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?

সিস্টেম যদি সোজা করতেই হয় তাহলে চিমটি দিয়ে, খোঁচা দিয়ে, চুলকিয়ে, পানির ছিটা দিয়ে সোজা করা যাবে না, সামষ্টিকভাবে অপরাধ জগতের সাথে জড়িত সকলকে ধরতে হবে। তা যদি না করা হয় তাহলে মাঝেমধ্যে বাহবা পাবার মতো একেকটা ঘটনা ঘটবে, আমরা আশার আলো দেখব, হাততালি দেবো, প্রশংসা করবো এবং শেষ পর্যন্ত যেই তিমিরে সেই তিমিরেই থেকে যাবো।

সরিষায় ভূত বসে আছে। রাষ্ট্রের পরতে পরতে মিশে আছে মীরজাফর-মোস্তাক। জননেত্রী যে জায়গাগুলি মেরামতের জন্য হাত দিয়েছেন, সেটি যদি সফলভাবে করতে না পারেন, তাহলে এই মোস্তাক-মীরজাফর চক্র জননেত্রীর জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী যেভাবে উদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলেছেন, স্বয়ং জননেত্রীকে যেভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সেটাকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু সাম্প্রতিককালে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন যে, আওয়ামী লীগের পরিণতি ৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের মতো হতে পারে! তার সেই আশঙ্কাকে আমরা নানাভাবে ব্যাখ্যা করছি, প্রতিবাদ করছি, তাকে গ্রেফতার করার দাবি তুলছি। দুদুর থেকেও ওমর ফারুক চৌধুরীর উদ্ধত্যপূর্ণ চ্যালেঞ্জকে আমি গুরুত্ব দিয়ে আমলে নেবার পক্ষপাতী। অঘটন যদি ঘটে তাহলে আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে, আওয়ামী লীগের সহায়তা ছাড়া ঘটবে না। ফলে সর্ষের উপর আস্থা রাখা যাবে না, ভেজাল সর্ষেতে সয়লাব উপর থেকে নিচ।

লেখক:
Nazmul Hassan
ডা. নাজমুল হাসান, লেখক, গল্পকার, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

*এই বিভাগে প্রকাশিত লেখার মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাঙালীয়ানার সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাই এখানে প্রকাশিত লেখা বা লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা সংক্রান্ত আইনগত বা বানানরীতি বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় বাঙালীয়ানার নেই। – সম্পাদক

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.