ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২০-এর সেরা চলচ্চিত্র ইরানের ক্যাসেল অব ড্রিমস

Comments
‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’- শ্লোগান সামনে রেখে শুরু হওয়া ‘অষ্টাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব- ২০২০’-এর শেষদিনে ঘোষিত হয় এবারের উৎসব চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিজয়ীদের নাম।

DIFF_Closing003

DIFF_Closing004

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ

রোববার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০ বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে ৯ দিনব্যাপী অষ্টাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব- ২০২০-এর সমাপনী দিনে আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অষ্টাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব নির্বাহী পরিষদ সদস্য ম. হামিদ।

DIFF_Closing002

লোকশিল্পীবৃন্দের পরিবেশনা

সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্রের কালজয়ী ৫টি লোক সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এ আয়োজনে দর্শক অনুরোধে উৎসবে নিজের চলচ্চিত্র ‘ফাইনালি ভালবাসা’ নিয়ে আসা পরিচালক ও জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী অঞ্জন দত্ত বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই দুটি গান পরিবেশন করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে উৎসবের বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এবার সেরা শিশুতোষ চলচ্চিত্র বিভাগে বাদল রহমান পুরস্কার জিতেছে ইরানের চলচ্চিত্র ‘লোকনাথ’। সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড সেকশনে সেরা দর্শক জনপ্রিয়তা পুরস্কার পেয়েছে অঞ্জন দত্ত পরিচালিত ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘ফাইনালি ভালোবাসা’। ওমেন ফিল্ম মেকার সেকশনের বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে ‘মাই নেম ইজ পেটিয়া’, ‘ভিডিও টেপ’, ‘দ্য হুয়াল অ্যান্ড দ্য রাবেন টিনি সোলস’র মতো চলচ্চিত্র। বাংলাদেশ প্যানোরোমায় সেরা হয়েছে ‘ন’ ডরাই’। স্পিরিচুয়াল বিভাগে শর্ট ফিকশনে সেরা ‘দ্য ফিস্ট অব দ্য গড’, শর্ট ফিল্মে সেরা ‘দ্যা স্ট্যাম্প’ এবং সেরা প্রামাণ্যচিত্র ‘বিলাভড’।

এশিয়ান প্রতিযোগিতায় সেরা চিত্রনাট্যকার হোসেন কারাবে, সেরা সিনেমাটোগ্রাফি ভারতের রেডিয়াস চলচ্চিত্রের জন্যে সপ্নিল সেতে ও অক্ষয় ইন্ডিকর। একই সেকশনে সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন আফগানিস্তান- ইরান- ফ্রান্সের প্রযোজনার চলচ্চিত্র আরিজো এরিয়াপো, ফেরেশতা আফসার ও হাসিবা ইব্রাহিমী। অ্যাডওয়ার্ডে অভিনয়ের জন্যে সেরা অভিনেতার পুরষ্কার পেলেন ফিলিপিন্সের লুইস অ্যাবইউয়েল।

এশিয়ান প্রতিযোগিতায় সেরা পরিচালক হিসেবে ক্যাসেল অব ড্রিমসের পরিচালক ইরানের মিরকারিমী রেজা এবং সেরা চলচ্চিত্রের পুরষ্কার পেলো ইরানের মিরকারিমী রেজার ‘ক্যাসেল অব ড্রিমস’।

বিদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা, চলচ্চিত্র বোদ্ধা, চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশকের উপস্থিতি এবং চলচ্চিত্রের সংখ্যা ও মান নিরিখে অষ্টাদশ ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসব একটি সফল সমাপ্তির পর্বে উপস্থিত হয়েছে। মূলধারার চলচ্চিত্রের বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতিতে দর্শক একটি মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র উৎসবের প্রত্যাশা পূরণে সফল হয়েছে বলেই মনে করেন উদ্যোক্তা ও উৎসবে আগত দর্শক ও অতিথিবৃন্দ।

সমাপনী দিনে উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বলেন, ‘আগামী উনিশতম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আরো সমৃদ্ধ এবং মান সম্পন্ন হবে। দেশি চলচ্চিত্র, শিল্প ও সংস্কৃতির বিশ্বায়নে আরো নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে দেখা হবে ‘উনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২১-এ ১৬ থেকে ২৪ জানুয়ারী ২০২১। উনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২১ উৎসর্গ করা হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে।’

DIFF_Closing005

অঞ্জন দত্তের পরিবেশনা

উল্লেখ্য, এবারের উৎসবেও এশিয়ান ফিল্ম প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ, বাংলাদেশ প্যানারোমা, সিনেমা অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, চিল্ড্রেন ফিল্মস্, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেন্স ফিল্ম মেকার সেকশনে ৭৪টি দেশের ২২০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে।

উৎসবের ২২০টির মধ্যে পূর্ণদৈর্ঘ্য (৭০ মিনিটের বেশি) চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১১৭টি, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১০৩টি ছিল। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ছিল ২৬টি যার মধ্যে ১৮টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন এবং ৮টি পূর্ণদৈর্ঘ্য। যে সব দেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শীত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আর্মেনিয়া, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বেলজিয়াম, ভুটান, ব্রাজিল, কানাডা, চিন, কিউবা, সাইপ্রাস, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, প্যালেস্টাইন, জার্মানি, গ্রিস, হংকং, হাঙ্গেরি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইটালি, জাপান, কাজাকস্তান, কসোভো, কিরগিস্তান, লাটভিয়া, লেবানন, লুক্সেমবার্গ, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নেপাল, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, কাতার, রাশিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, সিরিয়া, তাইওয়ান, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, আরব-আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভেনিজুয়েলা, সাইপ্রাস এবং স্বাগতিক বাংলাদেশ।

১২-১৩ জানুয়ারী দুদিন উৎসবের অংশ হিসেবে চলচ্চিত্রে নারীর ভূমিকা বিষয়ক ‘ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক উইমেন ফিল্ম মেকারস্ কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও অষ্টাদশ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অংশ হিসেবে ১৪ জানুয়ারী দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয় নির্মাতাদের মিথষ্ক্রিয়ামূলক দিনব্যাপী সেমিনার ‘ওয়েস্ট মিটস ইস্ট’।

DIFF_Closing006

পুরস্কারপ্রাপ্তদের সাথে জুরী ও আয়োজকদের একাংশ

এবারের উৎসবে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস, এস আলম গ্রুপ এবং সামিট গ্রুপ। উৎসব পার্টনার হিসেবে ছিল- বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, আঁলিয়স ফ্রঁসেজ ঢাকা, স্টার সিনেপ্লেক্স, মধুমিতা সিনেমা হল, নরওয়েজিয়ান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হাগুসেন্ড, রিলিজিওন টুডে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ঢাকা ক্লাব লিমিডেট, বালিক আর্ট, চ্যানেল আই, দুরন্ত টিভি, একাত্তর টিভি এবং সেন্স ফর ওয়েভ।

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.