সোনারগাঁওয়ের বড় সর্দার বাড়ী

Comments

সোনারগাঁওয়ের বড় সর্দার বাড়ীর ইটের ফাঁকে ফাঁকে ইতিহাস, বাতাসের অনুরনণে দুর্বোধ্যতা আর মেঝে জুড়ে রহস্য, রোমাঞ্চ।

খাজাঞ্চিখানা, দরবার কক্ষ, ঠাকুরঘর, গোসলখানা, কূপ, নাচঘর আর গুপ্তপথ নিয়ে বড় সর্দার বাড়ী। অবয়বে পুরনো বৈভব নেই কিন্তু বৈভবের চলে যাবার দাগ রয়েছে। বাড়ীর সামনে রয়েছে দীঘি; ঝলমল রাতে প্রাসাদের লাল, নীল, সবুজ চিনামাটির ভাঙা প্লেটের উপর চাদের আলো পরে আর তার ছায়া চিকমিক করে দীঘির পানিতে পড়ে অপরূপ ছায়াবাজির সৃষ্টি করে।

ইসা খাঁর সময়ের ইমারত

প্রচলিত আছে যে সোনারগাঁওয়ের এই দ্বিতল বড় সর্দার বাড়ীটি ঈসা খাঁ তৈরী করেছিলেন কিন্তু আসলে তা নয়। ঈসা খাঁর সময় এই জায়গায় একটি ইমারত ছিল কিন্তু এখন যেই বাড়ীটি দাঁড়িয়ে আছে সেটা কোন এক বাঙ্গালী ধনী বনিক ১৯ শতকের শেষদিকে তৈরী করেছিলেন। ইসা খাঁর সময়ের ইমারতটি এখনকার বাড়ীর মধ্যভাগে লাল রঙের বর্গাকৃতির একটি জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর দালানের সামনের অংশটি ১৯০২ সালে নির্মাণ করা হয়।

দালানের সামনের অংশ

দালানের সামনে ইটের তৈরী বাঁধানো ঘাটের দুই দিকে দুজন ইংরেজ অশ্বারোহীর মূর্তি রয়েছে। মোট ২৭ হাজার ৪০০ বর্গফুটের দালানটির নিচতলায় ৪৭টি ও দোতলায় ৩৮টি ঘর আছে। আশির দশকের গোড়ার দিকে প্রত্নতত্ত্ব্ব বিভাগ কর্তৃক উদ্ধার ও আংশিক সংস্কার করার পর এটিকে ন্যাশনাল ফোক আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট মিউজিয়াম হিসেবে গড়ে তোলে।

বড় সর্দার বাড়ী

২০১২ সালে কোরিয়ান ইয়াংওয়ান করপোরেশন ২০ কোটি টাকা দেয় দালানটির আদিরূপ ফিরিয়ে আনার জন্য। আদিরূপে ফিরিয়ে আনতে কারিগরেরা চীনামাটির ভাঙা প্লেট, চিটাগুড় ও তেঁতুলের বিচির প্রলেপ দিয়েছেন এখানে সেখানে, ভবনের মেঝেতে ব্যবহার করেছেন সুদ্রিস সুদৃশ্য টাইলস ও মার্বেল পাথর।

সোনারগাঁওয়ের বড় সর্দার বাড়ী

সোনারগাঁও একদিন ছিল জীবন্ত। এ শহর ছিল মসলিনের কেন্দ্র, ছিল তাঁত ব্যবসায়ীদের আবাসস্থল। পুব দিকের মেঘনা আর পশ্চিমের শীতলক্ষ্যা দিয়ে বিলেত থেকে তাঁত ব্যবসায়ীরা আনতেন থানকাপড় আর এদেশ থেকে পাঠাতেন মসলিন, চাল, মশলা। কিন্তু ইংরেজরা একসময় এখানে নীলের বাণিজ্যকেন্দ্র খুলে বসে আর ধীরে ধীরে মসলিনের বাজার দখল করে নেয়

সর্দার বাড়ীর সিঁড়িতে লেখক

বড় সর্দার বাড়ীটি সোনারগাঁওয়ের লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের সীমানায় অবস্থিত।  এর অবস্থান ঢাকা থেকে ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। ঢাকা থেকে যেতে হলে গুলিস্তান থেকে  বাসে করে সোনারগাঁওয়ের মোগড়া পাড়া বাস স্ট্যান্ডে নেমে সেখান থেকে অটোরিকশায় বড় সর্দার বাড়ী পৌঁছানো যাবে।  সোনারগাঁও ঢাকার কাছে তাই দিনে যেয়ে দিনে আসা যাবে। লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর ও পানাম সিটিও দেখে আসা যাবে এক সাথে।

 

 

 

 

 লেখক: ওয়াসীম সোবহান চৌধুরী

 

বাঙালীয়ানা/এজে/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.