ঋণ খেলাপিদের ‘বিশেষ সুবিধা’ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারের ওপর একমাসের স্থিতাবস্থা জারি করেছে হাইকোর্ট। আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত এই স্থিতাবস্থা জারি থাকবে।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদের বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সার্কুলার স্থগিত চেয়ে করা এক আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯, এই আদেশ দেয়।
এ আদেশের ফলে, ২৪ জুন, ২০১৯ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সার্কুলার কার্যকর হবে না। ফলে ঋণখেলাপিরাও এই সময় পর্যন্ত ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগটি নিতে পারবে না।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, ১৬ মে, ২০১৯, বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ঋণখেলাপিদের নতুন করে সুযোগ দিতে ২ শতাংশ সুদ জমা দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা রাখার সার্কুলারটি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়টি আমরা ১৬ মে বিকেলে আদালতকে অবহিত করি। পরে আমরা ওই সার্কুলার চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছি।
মনজিল মোরসেদ জানান, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে খেলাপিরা ঋণের হাত থেকে মুক্তি পাবেন। এতে করে সিআইবিতে তাদের নাম থাকবে না। তখন নতুন করে আবার হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার সুযেগ তৈরি হবে। এতে ব্যাংকের মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে। এ কারণেই আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম, মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত যেন সার্কুলারের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। আদালত সার্কুলারের কার্যক্রমের ওপর ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শুনানিতে আদালত বলেন, ঋণখেলাপিদের জন্য কাজ করতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উঠে পড়ে লেগেছে। ঋণ নিয়ে ব্যাংকের টাকা পাচার করে দিয়েছে— এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই বলেও আদালত উল্লেখ করেছেন।
ঐ সার্কুলার প্রকাশের আগে থেকেই অর্থমন্ত্রী ঋণ খেলাপিদের ‘বিশেষ সুবিধা’ দেবার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান।
বাঙালীয়ানা/এসএল