হাত কিন্তু এখনো সচল । অনন্য আজাদ

Comments
সিটি কলেজের সামনে দিয়ে একটি মেয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এমন সময়ে একজন ভদ্রলোক মেয়েটির শরীরে হালকাভাবে স্পর্শ করে। মেয়েটি বিব্রতবোধ করে। মেয়েটি বুঝতে পারে যে, এটা স্বাভাবিক কোন স্পর্শ নয়। এই স্পর্শের পেছনের রহস্য বহুদিন পুরনো। যে হাত মেয়েটির নিতম্বে বাতাসের মতন ছুঁয়ে গিয়েছিলো, সে হাতটিও স্বাভাবিক নয়। এই হাতটি যে এই প্রথম কোন নিতম্ব ছুঁয়েছে তাও নয়, মেয়েটি বুঝতে পারে। মেয়েটি বুঝতে পারে যে এই হাতটি নতুন। কিন্তু স্পর্শটি তার পরিচিত। পূর্বেও এভাবে অসংখ্য হাত ছুঁয়ে গেছে।  মেয়েটি প্রতিবাদ না করে ভাবতে ভাবতে হেঁটে চলছে।

ভদ্রলোকটি আরও উৎসাহী হয়ে উঠল। ভদ্রলোকটি ভেবেই নিলো যে মেয়েটি বুঝি অবলা! বোবা। কথা বলতে পারে না। ভদ্রলোকটি আরও ভাবল, ছোটবেলা থেকেই তো মেয়েদের কণ্ঠনালি কেটে দেওয়া হয়েছে। আর একটু আধটু চাপাচাপি করা তো পুরুষের অধিকার। এ-আর নতুন কী!

ভদ্রলোকটি আবারও মেয়েটির শরীরে স্পর্শ করার চেষ্টা করে। এবার মেয়েটি দ্রুত হাঁটার চেষ্টা করে। কিন্তু শাড়ি পরে মেয়েটি দ্রুত হাঁটতে পারে না। একটু হিল জুতোও পরেছে সে। হঠাৎ করেই মোহাম্মদপুর থেকে খিলগাঁ যাওয়ার একটি বাস এসে থামে। বাসে উঠার জন্য মানুষের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। এই প্রতিযোগিতায় সবাইকে প্রথম স্থান অর্জন করতে হবে। কেউ পড়ে গেলো নাকি, ব্যাথা পেলো নাকি, ধাক্কাধাক্কি হচ্ছে নাকি এ-সবে মনোযোগ দেওয়ার কোন সময়ই কারো নেই। মানুষের ভিড়ে সেই ভদ্রলোকটি আবারও মেয়েটির শরীরে স্পর্শ করার সুযোগ পেলো। ভদ্রলোকটি এমনভাবে মেয়েটির নিতম্ব খামচে ধরল যে মেয়েটির আর হাঁটতে ইচ্ছে করলো না।

ভদ্রলোকটির দিকে মেয়েটি ঘুরে তাকাল। খুব গুরুগম্ভীর মুখ বানিয়ে ভদ্রলোকটি বললো, ‘এতো মানুষের ভিড়ের কারণে ধাক্কা লেগে গেছে’। মেয়েটি একদৃষ্টিতে ভদ্রলোকটির দিকে তাকিয়ে থাকে। ভদ্রলোকটি এবার একটু ভীত। ঢেকুর গিলছে। ভদ্রলোকটির কথা শুনে মেয়েটি কিঞ্চিৎ দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেলো। মেয়েটি ভাবল, ভদ্রলোকটি তাহলে বুঝেছে যে, সে যা করেছে তা সঠিক নয়, তা অন্যায়, তা জঘন্যকর্ম, তা অপরাধ। তা না হলে ভদ্রলোকটি মিথ্যে বলল কেনো? ধাক্কা লাগতেই পারে, কিন্তু ধাক্কা আর খামচে ধরা তো এক নয়। ভদ্রলোকটি পাশ কাটিয়ে নিরাপদস্থানে গিয়ে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করতে চায়। কিন্তু, মেয়েটি ভদ্রলোকটি হাত চেপে ধরে।

ভদ্রলোকটি আঁতকে উঠে। যে দূষিত হাত মেয়েটির শরীরে নোংরাভাবে স্পর্শ করেছিলো, সে হাতটি কেনো মেয়েটি চেপে ধরল? ভদ্রলোকটি খুব গাম্ভীর্যের সাথে মেয়েটিকে বলল, ‘সমস্যা কী’? মেয়েটি খুব অবাক হয়ে গেলো। যে বাক্যটি মেয়েটির ব্যবহার করার কথা ছিল, সে বাক্যটি কীভাবে ভদ্রলোকটি ব্যবহার করল? মেয়েটি চুপ করে তাকিয়ে রইল। ভদ্রলোকটি বলল, বোবা নাকি? মেয়েটি কোন উত্তর না দিয়েই সরাসরি একটা চড় ভদ্রলোকটির ডান গালে বসিয়ে দিল। তারপর মেয়েটি বলল, কণ্ঠনালিতে হয়তো জং ধরেছিল,  কিন্তু হাত এখনো সচল।

লেখক পরিচিতি:
অনন্য আজাদ, লেখক, এক্টিভিষ্ট
Ananya Azad

*এই বিভাগে প্রকাশিত লেখার মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাঙালীয়ানার সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাই এখানে প্রকাশিত লেখা বা লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা সংক্রান্ত আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় বাঙালীয়ানার নেই।

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.