১৭ আগস্ট, ১৯৭১

Comments

১৭ আগস্ট ১৯৭১ মংগলবার
কি ঘটেছিল

  • ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে আক্রমণে রওয়ানা হয়েও প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও গাইড অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেদিনের আক্রমণ একদিনের জন্যে স্থগিত করেছিলেন দাউদকান্দি ফেরীঘাটে আক্রমণকারী নৌকমান্ডো দলনেতা শাহজাহান সিদ্দিকী। এ অপারেশনটিও ছিল মুক্তিবাহিনীর নৌকমান্ডোদের ‘অপারেশন জ্যাকপট’ -এরই অংশ। একদিন পরে এদিন রাত ২:৪৫ মিনিটে ৯ জনের এই কমান্ডোদল সফল আক্রমণ রচনা করে দাউদকান্দি ফেরীঘাটে এবং এতে দুটি ফেরী, পন্টুন, লঞ্চঘাট ও জ্বালানী তেলের বৃহদাকৃতির ড্রামগুলো তেলসহ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়। এ অপারেশনে অন্তত ১২ জন পাহারারত রাজাকার ও পুলিশ নিহত এবং বেশ কিছু সংখ্যক শত্রুসৈন্য আহত হয়। সফল অপারেশন শেষে নৌকমান্ডোরা নিরাপদে তাদের স্থানীয় ডেরায় ফিরে যান।

বিশ্ব গেরিলা যুদ্ধের ইতিহাসের বিস্ময় ‘অপারেশন জ্যাকপট’
বিস্তারিত পড়ুন এখানে

  • পাকসেনাদের একটি বিরাট দল নদীর পার দিয়ে এবং সঙ্গে সৈন্য বোঝাই তিনটি নৌকাতে শালদা নদী থেকে ব্রাহ্মণপাড়ার দিকে অগ্রসর হয়। পাকসেনাদের এই দলটিকে মুক্তিযোদ্ধারা অ্যামবুশ করে। এতে নৌকার আরোহী ১৮ জন পাকসেনা নিহত হয়। পাকসোনদের নদীর পার দিয়ে আসা দলটির প্রবল চাপে মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটে।
  • মুক্তিবাহিনী সারদা পুলিশ একাডেমীতে অবস্থানরত পাকিস্তানী কোম্পানীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এই দুঃসাহসিক অভিযানে মুক্তিযোদ্ধাদলের একজন ছাড়া সকলেই শহীদ হন।
  • ক্যাপ্টেন জিয়ার আহ্বানে তার নিয়ন্ত্রণাধীন সুন্দরবন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় বরিশালের চারটি থানা আক্রমণের জন্য পৃথক পৃথক দল গঠন করা হয়। দলগুলো, ভান্ডারিয়া থানার জন্য সুবেদার আজিজ এবং লতিফের নেতৃত্বে ২০ জনের একটি দল; কাউখালী থানার জন্য কমান্ডার হাবিবের নেতৃত্বে ২০ জনের একটি দল; রাজাপুর থানার জন্য সুবেদার রুস্তমের নেতৃত্বে ২০ জনের একটি দল ও মঠবাড়িয়া থানার জন্য ক্যাপ্টেন জিয়ার নেতৃত্বে ৫০ জনের একটি দল।
  • কুড়িগ্রামের চিলমারীর পূর্বদিকে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গলের যোদ্ধারা পাকহানাদারদের দু‘টি অবস্থানের ওপর আক্রমণ চালায়। এ আক্রমণে পাকসেনারা অবস্থান দুটি পরিত্যাগ করে এবং ৪ জন পাকসেনা নিহত হয়।
  • টাঙ্গাইলে ভাতকুরা ও পয়লার মাঝখানে মুক্তিবাহিনী ও পাকবাহিনীর মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা বাকু শহীদ হন এবং মুক্তিযোদ্ধা বিমান বিহারী দাস পাকসেনাদের হাতে ধরা পড়েন।
  • সিলেটের বানিয়াচঙ্গ থানা সদর থেকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর এক বিশাল দল মাকালকান্দি গ্রামে এসে ব্যাপক হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনা করে। এ হামলায় ৮৭ জন গ্রামবাসী নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন আরো কয়েকশ’ মানুষ। লুন্ঠিত হয় পুরো গ্রাম। পাশের গ্রাম হারুনিবাসী ৫ জনকেও হানাদাররা হত্যা করে।
  • পাকিস্তানের ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসক লে. জেনারেল টিক্কা খান আওয়ামী লীগের ১৬ জন জাতীয় পরিষদ সদস্যকে ২৩ আগস্টের মধ্যে সামরিক আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দেয়। অন্যথায় তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিচার করা হবে বলে ঘোষণা করে। এঁরা হচ্ছেন, আতাউর রহমান তালুকদার (রাজশাহী), ইকবাল আনোয়ারুল ইসলাম (দিনাজপুর), মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ (নওগা), খালিদ আলী মিয়া (রাজশাহী), শাহ মোহাম্মদ জাফরউল্লাহ (রাজশাহী), এ এইচ এম কামরুজ্জামান (রাজশাহী), আমিরুল ইসলাম (কুষ্টিয়া), আজিজুর রহমান আক্কাস (কুষ্টিয়া), আবু আহমদ আফজালুর রশিদ বাদল (কুষ্টিয়া), শহীদ উদ্দিন (মেহেরপুর), খোন্দকার আব্দুল হাফিজ (নড়াইল), সোহরাব হোসেন (মাগুরা), এম  রওশন আলী (যশোর) , সুবোধ কুমার মিত্র (যশোর), মোহাম্মদ মহসীন (খুলনা)।
  • লাহোরে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর গোলাম আযম বলেন, ভারত পাকিস্তানকে দ্বিখন্ডিত করার ব্যাপারে সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী (মুক্তিযোদ্ধা) পাঠিয়ে প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে এবং যুদ্ধের মাধ্যমেই পাকিস্তানকে তার জবাব দিতে হবে। গোলাম আযম আওয়ামী লীগের ৮৮ জন জাতীয় পরিষদ সদস্যের আসন বহাল থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বাঙালীয়ানা/এসএল

অগ্নিঝরা একাত্তরের দিনগুলো, পড়ুন –

আগস্ট ১৯৭১

জুলাই ১৯৭১

জুন ১৯৭১

মে ১৯৭১

এপ্রিল ১৯৭১

মার্চ ১৯৭১

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.