১৯ জুন, ১৯৭১

Comments

১৯ জুন ১৯৭১ শনিবার
কি ঘটেছিল

  • এদিন ভারতে আশ্রয়গ্রহণকারী বাংলাদেশের শরণার্থী সংখ্যা ৫৯ লাখ ২৩ হাজার ৪ শ ৩৯ জনে পৌঁছোয়।
  • সকাল ৬টায় মুক্তিবাহিনীর চৌদ্দগ্রাম ঘাঁটির ওপর দুই ব্যাটালিয়ন পাকসৈন্য লাকসাম ও ফেনীর দিক থেকে প্রবল আক্রমণ চালায়। সারাদিনব্যাপী যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধারা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চৌদ্দগ্রাম ঘাঁটি পরিত্যাগ করে। এ যুদ্ধে পাকবাহিনীর ২০০ জন হতাহত হয়। অপরদিকে ২ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও ৪ জন আহত হয়।
  • আগেরদিন কুমিল্লা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কে পাকসেনাদের সায়দাবাদ ঘাঁটি আক্রমণকারী মুক্তিযোদ্ধা দলটি সন্ধ্যায় লে. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে মন্দভাগের কাছে পাকবাহিনীর আরেক প্লাটুন সৈন্যকে এ্যামবুশ করে। এতে পাকবাহিনীর ৯ জন নিহত হয় এবং বাকী সেনারা মন্দভাগ গ্রামের দিকে পালিয়ে যায়।
  • এদিন কুমিল্লা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের মতুরা সেতুটিও মুক্তিযোদ্ধারা বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয়।
  • চট্টগ্রামে চাঁদগাজী মুক্তিযোদ্ধা ঘাঁটির ওপর পাকবাহিনী হামলা চালায়। দুটি পদাতিক বাহিনীর ব্যাটালিয়ন পিছন দিক থেকে মুহুরী নদী দিয়ে স্পীডবোটযোগে একটি কোম্পানি ও পাকিস্তানীদের রিয়ার হেড কোয়ার্টার থেকে আরেক দল আর্টিলারি, মর্টার ও অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রেও সাহায্যে ত্রিমুখী আক্রমণ চালায়। এই সংঘর্ষে মুক্তিবাহিনী ক্ষতি স্বীকার করলেও পাকসেনাদের ১৫০ জন নিহত ও অনেক আহত হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের চাঁদগাজী অবস্থান ত্যাগ করে পিছু হটে এবং পাকহানাদাররা চাঁদগাজী দখল করে নেয়।
  • মুক্তিবাহিনী বড়পুঞ্জি সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন রবের নেতৃত্বে এক কোম্পানি মুক্তিযোদ্ধা মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানায় পাকবাহিনীর সীমান্ত ঘাঁটি লাঠিটিলা আক্রমণ করে। তুমুল যুদ্ধের পর লাঠিটিলা মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে আসে। এ যুদ্ধে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা আহত হয়। অপরদিকে পাকসেনাবাহিনীর ২২ বেলুচ রেজিমেন্টের ১ জন হাবিলদার ও ১ জন সেপাই মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়ে। এ আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা অনেক অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ দখর করে।
  • হাবিলদার হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল পাকিস্তানী দালাল প্রেমতলির মালেক স্বর্ণকারের বাড়িতে আক্রমণ করে এবং তাকে হত্যা করে। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা গোদাগাড়ী এবং নবাবগঞ্জের মধ্যকার টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
  • ঢাকার সামরিক গভর্নর লে. জেনারেল টিক্কা খান করাচীতে বলেন, পাকিস্তান জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল খাঁটি পাকিস্তানি উদ্বাস্তুকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
  • টিক্কা খান বলেন, দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিযোদ্ধা) ধ্বংসাত্মক কাজের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইনের চারটি প্রধান সেতুর ক্ষতি সাধিত হয়েছে। সেতুগুলো মেরামত ও পুনঃনির্মাণের কাজ শেষ হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ আবার চালু হবে।
  • পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর গোলাম আযম রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে সাক্ষাৎ করে পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে পরামর্শ দেন।
  • গোলাম আযম রাওয়ালপিন্ডিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, পাকিস্তান শুধু টিকেই থাকবে না, শক্তিশালীও হবে। তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়া দেশকে বিচ্ছিন্নতার হাত থেকে রক্ষা করার বিকল্প কিছু ছিল না।
  • ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জগজীবন রাম আসানসোলে এক জনসভায় বলেন, বাঙালী শরণার্থীরা অবরুদ্ধ পূর্ব পাকিস্তানের নয়, শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরতে আগ্রহী।
  • এদিন আগরতলা থেকে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, ‘সীমান্তের অপর পার থেকে পাওয়া সংবাদে জানা যায় যে বাংলাদেশের মুক্তিফৌজের গেরিলা বাহিনী চট্টগ্রামের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে গেরিলা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদে জানা যায় যে গেরিলা আক্রমণে পাকিস্তানী সেনাদলের একজন মেজর নিহত হয়েছেন।’
  • কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা সূত্রে জানা যায় যে এদিন মুক্তিফৌজের গেরিলা বাহিনী নোয়াখালী- চট্টগ্রামে খণ্ড শুভপুর এলাকায় শত্রু সৈন্যের অবস্থান স্থলের উপর প্রচণ্ড আক্রমণ করে । এর ফলে অনেক পাকিস্তানী সৈন্য আহত হয়।

বাঙালীয়ানা/এসএল

অগ্নিঝরা একাত্তরের দিনগুলো, পড়ুন –

জুন ১৯৭১

মে ১৯৭১

এপ্রিল ১৯৭১

মার্চ ১৯৭১

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.