২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

Comments

২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ বৃহস্পতিবার
কী ঘটেছিল

  • চট্টগ্রাম সীমান্তে বল্লভপুর ও চম্পকনগর পাক অবস্থানের উপর মুক্তিযোদ্ধাদের দুটি কোম্পানি ভোর সাড়ে তিনটার দিকে ব্যাপক আর্টিলারি আক্রমণ চালায়। পাক পাল্টা আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধাদের দুটি কোম্পানির ব্যাপক ক্ষতি হয়। ১ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও ২ জন আহত এবং সহায়তাকারী ১ জন ভারতীয় সৈনিক আহত হন।
  • পশ্চিম দেবীপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের অ্যামবুশে পড়ে ২ জন পাকসেনা নিহত হয়।
  • কসবা এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখতে ১০/১২টি রেইডিং পার্টি একশনে যায়। প্রায় ২০টি পাক অবস্থানে রেইডিং পার্টির আক্রমণে বেশ কয়েকজন পাকসেনা হতাহত এবং একটি গাড়ী ধ্বংস হয়।
  • ২ নম্বর সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর এক প্লাটুন যোদ্ধা ও ১৬ জন গেরিলা লে. ইমামুজ্জামানের নেতৃত্বে মর্টার ও রকেট লাঞ্চারের সাহায্যে পাকহানাদার বাহিনীর গোবিন্দমাণিক্য দিঘী ঘাঁটির ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে পাকসেনা ঘাঁটির কয়েকটি বাঙ্কার ধ্বংস হয় এবং ১৫ জন পাকসেনা নিহত ও ১০ জন আহত হয়। এক ঘণ্টা যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের অবস্থানে নিরাপদে ফিরে আসে।
  • মুক্তিবাহিনীর এক প্লাটুন যোদ্ধা কুমারশৈলের দেওতলীতে অ্যামবুশ করে। পাকবাহিনীর একটি দল কুমারশৈল মসজিদের কাছে এলে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে পাকবাহিনীর ৮ জন সৈন্য নিহত ও ১০ জন আহত হয়।
  • মুক্তিবাহিনীর আরেকদল যোদ্ধা কুমারশৈল চা বাগানের রাস্তায় অ্যামবুশ থেকে পাক রেঞ্জারদের উপর আক্রমণ করে ফলে ঘটনাস্থলেই ২ জন রেঞ্জার নিহত হয়। পালানোর সময় মুক্তিযোদ্ধাদের মাইন ফিল্ডে ঢুকে পড়লে বেশ ক’জন রেঞ্জার আহত হয়।
  • নোয়াখালীর রামগঞ্জের দিকে যাবার সময় পাকসেনারা মুক্তিবাহিনীর আক্রমণের মুখে পড়ে। এ আক্রমণে ২২ জন পাকসেনা ও রাজাকার নিহত ও ২৫ জন আহত হয়।
  • মুক্তিবাহিনী মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানায় পাকবাহিনীর অবস্থানের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে মুক্তিযোদ্ধারা ৭৫ জন পুলিশ ও রাজাকারকে বন্দী করে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ দখল করে।
  • ৬ নম্বর সেক্টরে মুক্তিবাহিনী পঞ্চবিবির কাছে পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে এক দুঃসাহসিক অভিযান চালায়। এতে ৬ জন পাকসৈন্য ও ২ জন রাজাকার নিহত হয়।
  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘বাংলাদেশ প্রশ্ন’ উত্থাপনের জন্য ভারত সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
  • মাহমুদ আলী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নাইজার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া প্রতিনিধিদলের কাছে এক ঘরোয়া আলোচনায় পূর্ব পাকিস্তানের গোলযোগের বিশদ বর্ণনা দেন। তার দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ভারত যাতে হস্তক্ষেপ না করে তা ভারতকে বুঝানোর জন্য তাদের অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, সোভিয়েত-ভারত সামরিক চুক্তির পর ভারত নিরপেক্ষ দেশের মর্যাদা হারাইয়াছে ফলে জোট নিরপেক্ষ ভুক্ত দেশগুলির উচিত ভারত হইতে দূরে থাকা।
  • শিক্ষামন্ত্রী আব্বাস আলী খানের সঙ্গে এম আর এ রেজভীর নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও পুরনো ঢাকায় অবাঙালী (বিহারী) নেতারা সাক্ষাৎ করেন।

বাঙালীয়ানা/এসএল

অগ্নিঝরা একাত্তরের দিনগুলো, পড়ুন –

সেপ্টেম্বর ১৯৭১

আগস্ট ১৯৭১

জুলাই ১৯৭১

জুন ১৯৭১

মে ১৯৭১

এপ্রিল ১৯৭১

মার্চ ১৯৭১

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.