২৫ আগস্ট, ১৯৭১

Comments

২৫ আগস্ট ১৯৭১ বুধবার
কী ঘটেছিল

  • সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে হাইজ্যাক করা মাজদা গাড়িতে করে ঢাকার গেরিলা হাবিবুল আলম, কাজী কামালউদ্দিন (কাজি), বদিউল আলম (বদি), শাফী ইমাম (রুমী), কামরুল হক (স্বপন) ধানমন্ডির ১৮ নম্বর রোডে এক পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ারের বাড়ীর পাহারারত ৭/৮ জন হানাদারকে ঝটিকা আক্রমণে হত্যা করে। এরপর মিরপুর রোডের চেকপোষ্টে আরও কয়েকজন এবং পরে ধানমন্ডি ৫ নম্বরের গ্রিনরোডে একটি জীপের ড্রাইভারসহ কয়েকজন পাকিস্তানী সৈন্যকে হতাহত করে নিরাপদে নিজেদের আস্তানায় চলে যায়।

এ অপারেশনের বিস্তারিত:
অপারেশন ডেসটিনেশন আননোন

  • ক্যাপ্টেন দিদারুল আলমের নেতৃত্বে এক প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা কুমিল্লার উত্তরে জামবাড়িতে পাকসেনাদের একটি কোম্পানীকে মর্টার আক্রমণ করে। এই আকস্মিক আক্রমণে পাকসেনারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালাবার চেষ্টা করে। অ্যামবুশ দল পলায়নপর পাকসেনাদের ওপর মর্টার ও গুলি বর্ষণ করলে ৩০ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়। অবশিষ্ট পাকসেনারা পালিয়ে যায়।
  • মুক্তিবাহিনীর অ্যামবুশ দল কুমিল্লার সি এন্ড বি সড়কে পাকবাহিনীর একটি ডজ গাড়ী অ্যামবুশ করে। এই অ্যামবুশে ডজ গাড়ীটি ধ্বংস হয় এবং ডজের আরোহী একজন হাবিলদারসহ ৪ জন পাকসেনা বন্দী হয়। মুক্তিযোদ্ধারা এ অভিযান থেকে ৬টি রাইফেল, ২২৫ রাউন্ড গুলি, ২টি পিস্তল ও ৩টি গ্রেনেড হস্তগত করে।
  • সিলেটে কুকিতল সাব-সেক্টরের অসমসাহসী আতিকুল হক পনীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা দল পাকবাহিনীর দিলখুশার অগ্রবর্তী ক্যাম্পের ২শ’ গজ এলাকা জুড়ে অ্যামবুশ করে। ভোরে আজানের কিছুক্ষণ পরে পাকসেনারা একজন একজন করে বাঙ্কার থেকে বের হতে থাকে। এভাবে পাকসেনাদের কমান্ডার বের হওয়ার সাথে সাথেই মুক্তিযোদ্ধা পনীরের গুলিতে তার বুক বিদীর্ণ হয়। মুহুর্তে গর্জে ওঠে মুক্তিযোদ্ধাদের আগ্নেয়াস্ত্র। আধ মিনিট পর আবার সবকিছু স্তব্ধ। এই স্তব্ধতার সুযোগে আর একজন সৈন্য বাঙ্কার থেকে বের হলে সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর একঝাঁক গুলি নিক্ষিপ্ত হয়েই মুহুর্তে বিরতি। এভাবে মুক্তিবাহিনীর আক্রমণে ৬ জন পাকসেনা নিহত হয়।
  • ২ নম্বর সেক্টরে পাকবাহিনীর এক প্লাটুন সৈন্য ব্রাহ্মণপাড়া থেকে ধানদইল গ্রামের দিকে অগ্রসর হলে মুক্তিবাহিনীর একটি পেট্রোল পার্টি ধানদইল গ্রামে অ্যামবুশ করে। পাকসেনারা অ্যামবুশের মধ্যে এসে পড়লে মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে একজন ক্যাপ্টেনসহ ১০ জন পাকসেনা নিহত হয়। অপর পাকসেনারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।
  • যশোরে বারিনগর ২৫ আগস্টে এক মুক্তিবাহিনীর আক্রমণে ৬ রাজাকার নিহত হয় এবং ৩ জন আহত হয়। ২টি রাইফেল উদ্ধার হয়।  অপর এক রাজাকার অবস্থানে আক্রমণে ১৪ জন আহত হয়। ১৫টি রাইফেল জব্দ ও ৮ রাজাকার বন্দী করা হয়।
  • ২২ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে রাজাকার ফোরকান মল্লিক ও তার সঙ্গী সশস্ত্র রাজাকাররা গানবোটে পাকিস্তানী সেনাদের সঙ্গে করে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার কাকড়াবুনিয়া বাজারে আসে। এখানে তারা চারজনকে হত্যা করে। এছাড়াও ফোরকান মল্লিক ও তার সহযোগী রাজাকার এবং পাকিস্তান সেনারা গণহত্যা, জখম, আটক, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে।
  • জামায়াতের প্রাদেশিক আমীর গোলাম আযম পেশোয়ারে বলেন, সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের বিশ্বাসঘাতকতা থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে রক্ষা করেছে। দুষ্কৃতকারী ও অনুপ্রবেশকারীদের খতম করার জন্য পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণ সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।
  • ওয়াশিংটন পোস্টের স্টিফেন ক্লাইভম্যান পরিবেশিত এক বিশেষ বিবরণে নিক্সন সরকারের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান রক্ষা করাই মার্কিন সরকারের নীতি।’
বাঙালীয়ানা/এসএল

অগ্নিঝরা একাত্তরের দিনগুলো, পড়ুন –

আগস্ট ১৯৭১

জুলাই ১৯৭১

জুন ১৯৭১

মে ১৯৭১

এপ্রিল ১৯৭১

মার্চ ১৯৭১

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.