২৫ জুন, ১৯৭১

Comments
২৫ জুন ১৯৭১ শুক্রবার
কি ঘটেছিল
  • বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (Organization of the Islamic Conference) , (বর্তমানে ওআইসি বা Organization of the Islamic Cooperation) মহাসচিব টেংকু আবদুর রহমানের কাছে প্রেরিত তারবার্তায় বাংলাদেশে চলমান গণহত্যা বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
  • ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (Organization of the Islamic Conference) জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ২২ ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিনিধি সম্মেলনে জাতীয় ঐক্য ও আঞ্চলিক অখন্ডতা রক্ষায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টার প্রতি সর্বসম্মত ও পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করা হয়।
  • ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার শরণ সিং লোকসভায় বক্তৃতাকালে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সেনাবাহিনী প্রেরণের আহ্বান জানান।
  • মুক্তিযোদ্ধা লাবিবুর রহমান ও সরোয়ার লালটুর নেতৃত্বে কাদেরিয়া বাহিনীর পাঁচ ও এগার নম্বর কোম্পানি নাগরপুর থানার উপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। মুক্তিযোদ্ধাদের ঝটিকা আক্রমণের মুখে পুলিশ আত্মসমর্পণ করে। এতে থানার বেতার যন্ত্র, অস্ত্র ও গোলাবারুদ মুক্তিযোদ্ধারা দখল করে।
  • সুবেদার গোলাম আম্বিয়ার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা কালাছরা চা বাগান এলাকায় পাক অবস্থানের উপর আক্রমণ করে। এ আক্রমণে  ৪৪ জন পাক সেনা ও রাজাকার নিহত হয়।
  • ময়মনসিংহে ভালুকার ভাওয়ালীর বাজুরঘাটে আফসারউদ্দিনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকবাহিনীর একটানা বিয়াল্লিশ ঘন্টা যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে পাকবাহিনীর ১২৫ জন সেনা নিহত হয়। এই যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধারা আফসারউদ্দিনকে ‘মেজর’ উপাধি প্রদান করে।
  • নায়েক ফরহাদ ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে ময়মনসিংয়ের নরুন্দী রেলওয়ে ষ্টেশনে এক্সপ্লোসিভের সাহায্যে বিস্ফোরণ ঘটায়।
  • হাবিলদার মতিন মর্টারের সাহায্যে পাকসেনাদের লক্ষীপুরের বাগবাড়ি ক্যাম্প আক্রমণ করে। এ আক্রমণে কয়েকজন পাকসেনা আহত হয়।
  • মৌলভীবাজারে মুক্তিযোদ্ধারা হ্যান্ড গ্রেনেডের সাহায্যে বিয়ানীবাজার থানা সার্কেল অফিস আক্রমণ করে। সফল আক্রমণ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদে তাঁদের ঘাঁটিতে ফিরে আসে।
  • মৌলভীবাজারে মুক্তিবাহিনী সমনবাগ চা বাগানের কারখানা আক্রমণ করে। এতে ১০ জন প্রহরী ও হানাদার বাহিনীর ৫ জন দালাল নিহত হয়।
  • মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল রাজশাহী টেলিফোন এক্সচেঞ্জে হামলা করে। এতে একজন পাক মিলিশিয়া গার্ড নিহত হয়।
  • মুসলিম লীগ প্রধান আব্দুল কাইয়ুম খান দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় বলেন, “দেশ এক গভীর সংকটের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। কাজেই দ্বিধাবিভক্ত মুসলিম লীগকে এক পতাকাতলে সমবেত হয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।” কাইয়ুম খান আরো বলেন, “বাংলাদেশ আন্দোলনের সমর্থকরা বিচ্ছিন্নতাবাদী মুজিবকে পাকিস্তানের সংহতি নষ্টকারী আন্দোলনে সহায়তা করছে।”

বাঙালীয়ানা/এসএল

অগ্নিঝরা একাত্তরের দিনগুলো, পড়ুন –

জুন ১৯৭১

মে ১৯৭১

এপ্রিল ১৯৭১

মার্চ ১৯৭১

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.