২৭ এপ্রিল, ১৯৭১

Comments

২৭ এপ্রিল ১৯৭১ এ কি ঘটেছিল

  • বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি সীমান্ত দিয়েই অসংখ্য মানুষ ভারতে আশ্রয়ের জন্যে প্রবেশ করতে থাকে। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় নতুন নতুন আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়।
  • বৃটিশ এমপি জন স্টোনহাউস লন্ডনে বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পূর্ব বাংলায় মারাত্মক ও ভয়ঙ্কর সব ব্যাপার ঘটছে। ঢাকায় ঠান্ডা মাথায় মানুষ খুন করা হয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনী যা করছে তা নিঃসন্দেহে গণহত্যা। নির্বাচনে শতকরা ৯৮ ভাগ ভোটার যে রায় দিয়েছেন, সামরিক জান্তা সেই গণতান্ত্রিক রায়কে কেবল প্রত্যাখ্যানই করেননি তা ভেস্তে দেবার পরিকল্পনা এঁটেছেন। এ বিষয়টি কখনোই উপেক্ষা করা যায় না। এ ব্যাপারে আমাদের কর্তব্য রয়েছে। আমাদের নিষ্ক্রয় থাকা উচিত নয়।
  • কুমিল্লার মিয়াবাজারে পাকবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে প্রচন্ড সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পাকবাহিনীর অনেক সৈন্য হতাহত হয়।
  • বিকেলে পাকবাহিনীর বিশাল দল মুক্তিযোদ্ধাদের মহালছড়ি হেড কোয়ার্টার আক্রমণ করে। এ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটে খাগড়াছড়ি অবস্থান নেয়। ক্যাপ্টেন কাদের এ যুদ্ধ শহীদ হন।
  • পাকবাহিনী জনতার প্রতিরোধ ভেঙে চকরিয়ায় প্রবেশ করেই চিরিঙ্গার হিন্দুপাড়ায় আক্রমণ চালায়। পাকবর্বররা নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করে।
  • শাহবাজপুরে পাকবাহিনীর ওপর সফল আক্রমণ চালিয়ে লে. মোরশেদের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধা দল মাধবপুরে প্রত্যাবর্তন করে। এ আক্রমণে পাকিস্তান বাহিনীর বেশ কিছু সৈন্য হতাহত হয়।
  • রামগড় দখলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রামের হিকুয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকবাহিনীর প্রচন্ড সংঘর্ষ হয়।
  • প্রচন্ড সংঘর্ষের পর পাকবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে নোয়াখালী, সান্তাহার ও মৌলভীবাজার পুনর্দখল করে।
  • অধিকৃত ঢাকার গভর্নর লে. জেনারেল টিক্কা খান ‘পূর্ব পাকিস্থান রাইফেল’ (ইপিআর)-এর নাম পরিবর্তন করে ‘পূর্ব পাকিস্তান বেসামরিক বাহিনী’ (ইপিসিএফ) নামকরণ করে।
  • পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ. রহিম খান ঢাকা আসেন। ঢাকায় তিনি সার্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে বিমান হামলা সম্পর্কে কৌশল নির্ধারণ করেন।
  • ঢাকায় সামরিক কর্তৃপক্ষ ১৪৮নং সামরিক বিধি জারি করে। এ আদেশের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সহায়তাকারীদের পাইকারী শাস্তির নির্দেশ দেয়া হয়। এ আদেশে কোনো কারণ ছাড়াই কেবলমাত্র সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে চরম শাস্তির লাইসেন্স দেয়া হয় ঘাতকদের। এমনকি যে এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা তৎপরতা চালাবে সে এলাকার লোকদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা লাভ করে দালালরা।
বাঙালীয়ানা/এসএল

দ্বিতীয় মহাকাব্য: প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম বেতার ভাষণ
পড়ুন এখানে

অগ্নিঝরা এপ্রিলের দিনগুলো, পড়ুন –

এপ্রিল ১৯৭১

৭ মার্চের রেসকোর্স ময়দানের
মহাকাব্য

উত্তাল মার্চের দিনগুলো, পড়ুন –

মার্চ ১৯৭১

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.