২৭ নভেম্বর, ডাক্তার মিলন ও গণতন্ত্র । মন্তব্য প্রতিবেদন

Comments

২৭ নভেম্বর। ১৯৯০ এর এই দিনে ডা. মিলনের রক্তে স্বৈরাচারী এরশাদ নিজ হাতে তার ৯ বছরের পোক্ত  স্বৈর-রাজত্বের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেছিল। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গুপ্তসন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান ডাক্তার শামসুল আলম খান মিলন।

পেশায় চিকিৎসক শামসুল আলম খান মিলন সে সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব।

জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক স্বৈরসরকারের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে ২৭ নভেম্বর ১৯৯০ তারিখে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের একটি সভায় যোগ দিতে রিকশাযোগে পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) যাচ্ছিলেন ডা. মিলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি এলাকা অতিক্রমকালে সন্ত্রাসীরা তার ওপর গুলি চালায়। তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যু হয়।

Dr Milon

গুলিবিদ্ধ ডাক্তার মিলন

ডা. মিলনের জন্ম ১৯৫৭ সালের ২১ আগস্ট ঢাকা হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে। ১৯৭৩ সালে তিনি সরকারী বিজ্ঞান কলেজ থেকে এসএসসিতে শিল্পকলা (ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্টস) বিভাগে ২য় স্থান অধিকার করেন। ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পাশ করেন নটরডেম কলেজ থেকে। ১৯৮৩ সালে তিনি এমবিবিএস ডিগ্রী লাভ করেন এবং ডাক্তারী পেশায় যোগ দেন।

তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়েই বেগবান হয় স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন। পদত্যাগে বাধ্য হয় জেনারেল এরশাদ।

বাঙালীয়ানা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের শহীদ এবং নির্যাতিত আর ২৯ বছর পরেও বহু কর্মী তার শরীরে স্বৈরাচারের নির্যাতনের চিহ্ন বহন করে চলেছেন তাঁদের।

স্বৈরাচার হটিয়ে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন সে সময়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, কমিউনিস্ট পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদের নেতা-কর্মি বিশেষ করে তরুণ কর্মীরা দেখেছিলেন তার সাথে বিগত ২৯ বছরের “গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ” এর কোন মিল আছে কি?

সাগর লোহানী, সম্পাদক, বাঙালীয়ানা

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.