২৯ আগস্ট, ১৯৭১

Comments

২৯ আগস্ট ১৯৭১ রোববার
কী ঘটেছিল

  • ঢাকা শহরে অপারেশনে নিয়োজিত অন্যতম একটি গেরিলা দলের হানিফ, আবুল, নজরুল, মান্ডার জিন্নাহসহ ৬ জন যোদ্ধা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঢাকার সায়দাবাদের সড়ক সেতুটি উড়িয়ে দেয়। এতে এই পথে পাকসেনাদের পূর্বাঞ্চলে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এসময় গেরিলারা একটি বাস দুশো মণ পাটসহ লতিফ বাওয়ানী জুটমিলে যাওয়ার পথে বাসটিকে ধ্বংস করে দেয়।
  • বেরাইদের কাছে আরো তিন’শ মণ পাট ফসফরাস বোমা ফেলে জ্বালিয়ে দেয় গেরিলারা।
  • গেরিলারা নারায়ণগঞ্জের জিএমসি ঘাটে পাঁচ হাজার বেল বহনকারী কামচাম বার্জটি ডুবিয়ে দেয়।
  • আর-সি-এম জুটমিলের শ্রমিক, যিনি একজন গেরিলা, ফসফরাস ৮০ গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আর-সি-এম মিলের গুদামস্থিত প্রায় ১ লাখ মণ পাট জ্বালিয়ে দেয়। (তারিখ নিশ্চিত নয়-সম্পাদক)
  • এইচএসসি পরীক্ষা বানচাল করে দেবার লক্ষ্যে ঢাকায় অবস্থানরত গেরিলারা ধানমন্ডির নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজসহ বেশ কটি কলেজে গ্রেনেড হামলা চালায় এবং খাতাপত্র পুড়িয়ে দেয়।
  • এদিন টঙ্গী ও জয়দেবপুরের মধ্যবর্তী এলাকায় দুটি বিদ্যুৎ পাইলন উড়িয়ে দেয় গেরিলারা।
  • ক্যাপ্টেন আইনুদ্দিনের নেতৃত্বে ৪র্থ বেঙ্গলের ‘ডি’ কোম্পানীর এক প্লাটুন যোদ্ধা কসবার পশ্চিমে পাকবাহিনীর টি আলীর বাড়ীর কাছে পাকসেনাদের অবস্থানের পেছনে জলপথের ওপর অ্যামবুশ করে। পাকসেনাদের দু‘টি নৌকা তাদের অবস্থানের দিকে অগ্রসর হলে অ্যামবুশের আওতায় আসার সাথে সাথে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। প্রচন্ড গোলাগুলির পর পাকসেনাদের নৌকা দু’টি ডুবে যায় এবং সেই সঙ্গে ৩০ জন পাকসৈন্য নিহত হয়। এই যুদ্ধে একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
  • পাকবাহিনী লাকসাম থানার বুটচি গ্রামে সন্ধ্যা সাতটায় শান্তি কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠানের খবর পেলে মিয়ার বাজার সাব-সেক্টরের ক্যাপ্টেন ইমামুজ্জামান সভাটি পণ্ড করার জন্য এক প্লাটুন গেরিলাকে দায়িত্ব দেন। পাকসেনা এবং রাজাকাররা সভা শুরু করলে প্লাটুনটি তাদের উপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণের ফলে ৮ জন পাকসেনা, ৯ জন পাকিস্তানী পুলিশ এবং ২০ জন রাজাকার হতাহত হয়। শান্তি কমিটির সভাটি পণ্ড হয়। মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদে নিজেদের আশ্রয়ে ফিরে আসে।
  • ১ নম্বর সেক্টরে আমলিকাতে পাকসেনাদের শক্ত ঘাঁটির উপর ক্যাপ্টেন মাহফুজের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর একটি কোম্পানী, উপেন্দ্র লাল চাকমার নেতৃত্বে আরেকটি দল ও  ভারতীয় বাহিনীর চতুর্থ গার্ডস-এর একটি কোম্পানী লে. কর্নেল হিম্মত সিংহের নেতৃত্বে আরেক মুক্তিযোদ্ধা দল হানাদারদের ঘাঁটির তিনদিক থেকে আক্রমণ করে। গেরিলাদের মর্টার ও এমজির সামনে আধঘন্টা পাকিস্তানীরা টিকে থাকার চেষ্টা করে চরম মার খেয়ে শোতাপুরের দিকে পালিয়ে যায়। আমলিকা মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে আসে। এ সংঘর্ষে ২৫ জন পাকসেনা নিহত হয়। অপরদিকে একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও দুইজন গুরুতররূপে আহত হন।
  • সকাল ১১টার দিকে ঢাকার গেরিলা মোহম্মদ বদিউল আলম (বদি) তার বন্ধু ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ জালালুদ্দিনের ছেলে ফরিদের বাসায় গেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকসেনারা এসে বদিকে তুলে নিয়ে যায়।
  • বিকেলে মগবাজার মোড়ে চীনা দুতাবাসের পেছনে ৪১৫ নিউ এস্কাটনের অফিস কাম বাসা থে গেরিলা আব্দুস সামাদ ও গীতিকার সৈয়দ হাফিজুর রহমানকে পাকসেনা সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়।
  • ঢাকা শহরে গেরিলা অপারেশন বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এদিন রাতে পাকবাহিনী আকস্মিভাবে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে। নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন গেরিলা আস্তানা ও বাড়ীতে হানা দেয় এবং কয়েকজন গেরিলা ও বেশ ক’জন সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করে।
  • করাচীতে গোলাম আযম এক সাংবাদিক সম্মেলনে আলাদা নির্বাচন পদ্ধতিতে পুনরায় পূর্ব পাকিস্তানে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান। তিনি বলেন, আলাদা নির্বাচন (হিন্দু মুসলিম পৃথক ভোটদান প্রক্রিয়া) না হওয়াতে গত নির্বাচনে হিন্দুদের সমর্থন পেয়ে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। তিনি আরো বলেন, এ মুহুর্তে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে চরম বোকামী।

বাঙালীয়ানা/এসএল

অগ্নিঝরা একাত্তরের দিনগুলো, পড়ুন –

আগস্ট ১৯৭১

জুলাই ১৯৭১

জুন ১৯৭১

মে ১৯৭১

এপ্রিল ১৯৭১

মার্চ ১৯৭১

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.