৩১ আগস্ট, ১৯৭১

Comments

৩১ আগস্ট ১৯৭১ মঙ্গলবার
কী ঘটেছিল

  • ঢাকার একটি গেরিলা দল সূত্রাপুর থানা আক্রমণ করে। এতে ২ জন পুলিশ নিহত ও ২ জন আহত হয়।
  • ঢাকার কলাবাগানে পাকিস্তানী পুলিশের উপর আকস্মিক আক্রমণ করে মুক্তিবাহিনীর গেরিলাদল। এতে বেশ ক’জন পুলিশ হতাহত হয়।
  • এদিন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল কালিগঞ্জ- ডেমরা এবং অপর আরেক দল কালিগঞ্জ-টংগী-র মাঝে ৪টি বিদ্যুৎ পাইলন ধ্বংস করে দেয়।
  • মুক্তিবাহিনীর গেরিলা দল নরসিংদীর শিবপুর থানা আক্রমণ করে থানা ও রাজস্ব অফিস জ্বালিয়ে দেয়। গেরিলারা থানা থেকে ৮টি রাইফেল, ৫টি শর্টগান ও ৪০ রাউন্ড গুলি দখল করে। এ খবর পেয়ে নরসিংদী থেকে পাকসেনাদের একটি কোম্পানী ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হলে আরেকটি গেরিলা দল পুটিয়রের কাছে তাদের অ্যামবুশ করে। চারঘন্টা সংঘর্ষের পর গেরিলাদের চাপের মুখে টিকতে না পেরে পাকসেনারা ছত্রভঙ্গ হয়ে নরসিংদীর দিকে পালিয়ে যায়। এক সংঘর্ষে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন সেলিমসহ ৩৩ জন পাকসেনা নিহত হয়।
  • এদিন রাত ২টোর দিকে পাকসেনা ও রাজাকারদের দুটো কোম্পানী সিলেটের টাকাইকোনা, বঘা এবং খড়মপুর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমণ করে। কিন্তু মুক্তিফৌজের প্রবল প্রতিরোধের মুখে হানাদাররা ভোর ৪:৩০ এর দিকে ফিরে যায়। এ সময় মাইন বিস্ফোরণে শত্রুদের ৬ জন নিহত হয়ে। দুপুর ১টার দিকে শত্রুরা একই দিক থেকে আবারো মরনপণ আক্রমণ করে, কিন্তু মুক্তিবাহিনীর ৩” মর্টারের সফল গোলাবর্ষণের ফলে তারা আবারো পিছাতে বাধ্য হয় বিকেল ৪ টার দিকে। হানাদারদের ৭ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়। গেরিলাদের মধ্যে দুজন বুলেটের আঘাতে এবং ২ জন গোলার আঘাতে আহত হয়।
  • সকাল ৯-১০ টায় পাকহানাদার বাহিনী সুনামগঞ্জের কিছু রাজাকার, আলবদর নিয়ে জগন্নাথপুর হতে ৮-৯টি নৌকায় ছিরামিসি বাজারে আসে। রাজাকাররা গ্রামবাসীকে শান্তি কমিটির মিটিংয়ে উপস্থিত থাকার জন্য ছিরামিসি উচ্চ বিদ্যালয়ে জমায়েত হতে নির্দেশ দেয়। আগত সবাই স্কুল হল রুমে আলোচনা আরম্ভ করার জন্য অপেক্ষা করবার সময় বর্বররা শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী ও যুবকদের আলাদা রুমে ডেকে নিয়ে পেছন দিক দিয়ে হাতগুলো বেঁধে ১৫-১৬ জনের এক একটি দল করে নদীর পারে নৌকায় নিয়ে নির্বিবাদে গুলি চালায়। কোন কোন দলকে নিকটবর্তী পুকুরপাড়ে সারবেঁধে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে। এদের মধ্যে কেউ কেউ পানিতে পড়ে বাঁচার চেষ্টা চালালে পুকুরপাড় থেকে পাক বর্বররা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করে। এভাবে পাক জল্লাদরা ছিরামিসি গ্রামের ১২৬ জন নিরীহ নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করে। হত্যাযজ্ঞের পর শুরু হয় ধ্বংসযজ্ঞ। ছিরামিসি বাজারের ২৫০টি দোকান কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করে পাক হানাদাররা। সেখান থেকে হানাদাররা জনশূন্য গ্রামে গিয়ে লুটতরাজ চালায় ও ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
  • মেজর আবদুল হালিমের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা দল ধোপাখালী বিওপি থেকে কয়েক মাইল ভিতরে বাঘছড়া থানা হেড কোয়ার্টার আক্রমণ করে। কিন্তু রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধাদের আগমন সংবাদ পেয়ে পালিয়ে যায়। ফেরার পথে মুক্তিযোদ্ধারা শান্তি কমিটির একজন সদস্যের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪টি বন্দুকসহ চারজন রাজাকারকে বন্দী করে নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরে আসে।
  • শেরপুরের নকলায় নারায়ণখোলা যুদ্ধে ১৬ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ অর্ধশতাধিক মানুষ শহীদ হন। এ যুদ্ধে পাকবাহিনী ও তাদের দোসরদের ৫০-৬০ জন সদস্য নিহত হয়।
  • ঢাকা-কুমিল্লা রাস্তার ভাটেরচরের কাছে সড়ক সেতুতে অবস্থানরত পাকিস্তানীদের ওপর গেরিলারা অতর্কিত আক্রমণ চালায়। সংঘর্ষে কয়েকজন পাকসেনা এবং রাজাকার নিহত হয়। গেরিলারা সেতুটির ৬০ ফুট লম্বা স্প্যান উড়িয়ে দেয়। এতে পাকসেনাদের ঢাকা-কুমিল্লা সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়।
  • সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি ওয়াশিংটনে এক বিবৃতিতে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক নির্যাতনের বদলে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমঝোতার ব্যবস্থা না করা হলে পাকিস্তানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত।
  • প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ডা. এ এম মালিক ও লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ নিয়াজীকে যথাক্রমে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। তবে, সরকারীভাবে বলা হয়, বেসামরিক গভর্নর নিয়োগ করা হলেও সেনাবাহিনী আগের মতোই কাজ করবে।
  • গোলাম আযম করাচীতে সংবাদ সম্মেলনে ন্যাপ (ভাসানী), আতাউর রহমান খানের ন্যাশনাল লীগ, ন্যাপ (ওয়ালী) সহ অন্যান্য ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও জাতীয় পরিষদ বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবী জানান।

বাঙালীয়ানা/এসএল

অগ্নিঝরা একাত্তরের দিনগুলো, পড়ুন –

আগস্ট ১৯৭১

জুলাই ১৯৭১

জুন ১৯৭১

মে ১৯৭১

এপ্রিল ১৯৭১

মার্চ ১৯৭১

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.