৫ অক্টোবর, ১৯৭১

Comments

৫ অক্টোবর ১৯৭১ মঙ্গলবার
কী ঘটেছিল

  • ময়মনসিংহের ভালুকা থানার বিরুলিয়া ও মেদিলা গ্রামে রাজাকাররা লুটতরাজ করবার খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারদের উপর আক্রমণ করে। কয়েক ঘন্টা সংঘর্ষ চলার পর কয়েকজন রাজাকার হতাহত হলে রাজাকাররা পালিয়ে যায়।
  • কুমিল্লার বাঞ্ছারাম থানার উজান চরের কাছে কয়েকটি বিদ্যুৎ পাইলন কেটে নদীতে ফেলে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা অ্যামবুশ করে থাকে। খবর পেয়ে পাকসেনা, মুজাহিদ ও রাজাকারেরা ৩/৪টি লঞ্চে করে আসে পাইলনগুলো সরাতে। এসময় মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ করে, আক্রমণে বেশ কয়েকজন হানাদার হতাহত হলে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
  • কুমিল্লার উত্তরে মুক্তিবাহিনীর গেরিলা যোদ্ধারা আজলাপুর ও জামবাড়ি এলাকায় পাকসেনাদের কয়েকটি টহলদার দলকে আক্রমণ করে। এতে পাকবাহিনীর ১৫ জন সৈন্য নিহত ও ২০ জন আহত হয়। অপরদিকে ১ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও ১ জন আহত হন।
  • চৌদ্দগ্রামের ৩ মাইল দক্ষিণে একটি সেতু ধ্বংস করে মুক্তিযোদ্ধারা।
  • সিলেটের মুক্তিবাহিনীর ২০ সদস্যের একটি মুক্তিযোদ্ধাদল কুমারশৈল গ্রামে অ্যামবুশ করে। পাকসেনাদের একটি দল অ্যামবুশের আওতায় এলে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ওপর অতর্কিতে আক্রমণ চালায়। এই সংঘর্ষে ৪ জন পাকসেনা নিহত হয়।
  • ঢাকা স্টেডিয়াম এলাকায় মুক্তিবাহিনীর গেরিলা দল পাকসেনাদের একটি জীপের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২ জন অফিসার নিহত ও জীপটি বিধ্বস্ত হয়।
  • মুক্তিবাহিনী খুলনা এলাকায় পাকসেনাদের বিরুদ্ধে এক দুঃসাহসিক অভিযান চালায়। এই অভিযানে পাকবাহিনীর একজন জুনিয়র অফিসারসহ ৩ জন সৈন্য নিহত হয়।
  • ২ নম্বর সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর যোদ্ধারা নয়নপুরে পাকসেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এই যুদ্ধে ৫ জন পাকসৈন্য নিহত হয়।
  • মুক্তিবাহিনী সিলেটের সুনামগঞ্জ এবং সাচনার মধ্যেকার টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে পাকসেনাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
  • গোলাম আযমের সভাপতিত্বে জামায়াতে ইসলামী মজলিসে সুরার তৃতীয় দিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের উপ-নির্বাচন পরিচালনার জন্য গোলাম আযমের নেতৃত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন: নুরুজ্জামান, আব্দুল খালেক, গোলাম সারোয়ার, শফিকুল্লাহ।
  • কাউন্সিল মুসলিম লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কিউ এম শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পাকিস্তান যান। জানা যায়, তারা পাকিস্তানের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করার জন্য কানাডাসহ পাশ্চাত্যের বেশ কয়েকটি দেশ সফর করবেন।
  • বৃটিশ কমন্সসভার অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্য ফ্রেড ইভান্স বলেছেন, বাংলাদেশ আজ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের এই স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ও বাঁচার অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্যেই বাঙালী আজ হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছে। তারা আজ যে লড়াই করছে তা হলো দেশকে মুক্ত করার লড়াই- শত্রুমুক্তির লড়াই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সমস্যার সমাধানে বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশেরই এগিয়ে আসা উচিত। অবিলম্বে বাংলাদেশ সমস্যার সমাধান না হলে এশিয়ার এই অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত হবে। অবিলম্বে এর সমাধান করতেই হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূল সমস্যা মানবিক চেতনা ও মানবাধিকারের সমস্যা। আমরা বৃটেনবাসী ১৯৩৯ সালে ফ্যাসিস্ট জার্মানীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে নেমেছিলাম, প্রয়োজন হলে নয়া ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করতে আমরা প্রস্তুত।
বাঙালীয়ানা/এসএল

অগ্নিঝরা একাত্তরের দিনগুলো, পড়ুন

অক্টোবর ১৯৭১

সেপ্টেম্বর ১৯৭১

আগস্ট ১৯৭১

জুলাই ১৯৭১

জুন ১৯৭১

মে ১৯৭১

এপ্রিল ১৯৭১

মার্চ ১৯৭১

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.