ক’দিন ধরেই ভাবছিলেন তবে বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধান্ত নিলেন। সকালে স্ট্রেচিংয়ের পর মাঠে গোল হয়ে বসে মাশরাফি সতীর্থ ক্রিকেটারদের নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়ার ভাবনায় মাশরাফি মুর্তজা দোদুল্যমান ছিলেন কিছুদিন ধরেই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জুড়ে চলেছে সেই দোলাচল। শেষ ম্যাচের আগের দিন সকালে তার মনে হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। অনুশীলন মাঠে এসে নিয়ে ফেলেছেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। নেতৃত্বের পথচলার ইতি!
বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিয়েছেন কিছুদিন আগে। তারও আগে টেষ্ট ও টি২০ দল থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নেয়া মাশরাফি বিন মুর্তজা বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে যা বললেন, তা হুবহু তুলে ধরা হলো এখানে—
‘কালকে আমার শেষ ম্যাচ, অধিনায়ক হিসেবে। আমার প্রতি এত দীর্ঘ সময় আস্থা রাখার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই আমার সঙ্গে যত ক্রিকেটার খেলেছে, সবাইকে। আমি নিশ্চিত প্রক্রিয়াটা এত সহজ ছিল না, শেষ পাঁচ-ছয় বছরের যে-ই সফর ছিল। আমি ধন্যবাদ জানাই, টিম ম্যানেজমেন্টে যাঁরা ছিল, যাদের অধীনে আমি অধিনায়কত্ব করেছি। তাঁরা সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছে।
হাথুরুসিংহে দিয়ে শুরু হয়েছিল, তার আগেও পেয়েছিলাম অধিনায়কত্ব। কিন্তু চোটের কারণে করতে পারিনি। মূলত (অধিনায়কত্ব ) শুরু হয় হাথুরুসিংহে দিয়ে। খালেদ মাহমুদ, স্টিভ রোডস ও ডমিঙ্গো দিয়ে শেষ হচ্ছে। নির্বাচক, কর্মকর্তা যাঁরা আছেন, প্রত্যেক বোর্ড কর্মকর্তা থেকে শুরু করে যাঁরাই ক্রিকেট বোর্ডে আছেন, সবাইকে ধন্যবাদ জানাই সহযোগিতার জন্য।
আমি ধন্যবাদ জানাই আপনারা যাঁরা আছেন, মিডিয়ায়। অত্যন্ত সহযোগিতা করেছেন। সবশেষে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সমর্থক যাঁরা আছেন, আপনারাই ক্রিকেটের প্রাণ। আপনাদের সমর্থন ছাড়া এত দূর আসা সম্ভব ছিল না। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
আমি আজ বাংলাদেশ জাতীয় ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাচ্ছি। আগামীকাল জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচ অধিনায়ক হিসেবে আমার শেষ ম্যাচ। খেলোয়াড় হিসেবে অবশ্যই চেষ্টা করব আমার সেরাটা দেওয়ার, যদি সুযোগ আসে। পরবর্তী অধিনায়কের জন্য আমার শুভকামনা থাকবে। আমার বিশ্বাস সে বাংলাদেশ দলকে পরের ধাপে নিয়ে যাবে। যদি আমি দলে থাকি আমার যে অভিজ্ঞতা, আমার ভেতরে যতটুকু আছে, চেষ্টা থাকবে ততটুকু দেওয়ার। ধন্যবাদ সবাইকে।’
বাঙালীয়ানা/এসএল