‘আমি বাংলায় গান গাই’ এর স্রষ্টা প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের অবস্থা স্থিতিশীল

Comments

বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী প্রখ্যাত গায়ক ও গীতিকার প্রতুল মুখোপাধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১ মে, ২০১৯, দিবাগত রাতে ক্যালকাটা হার্ট রিসার্চ সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

পরে তাঁকে কলকাতার  SSKM & IPGMER হাসপাতাল বা পিজিতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাঁর এনজিওগ্রাম করে হৃদযন্ত্রের বড় ধরণের কোন সমস্যা ধরা না পড়লেও বার্ধক্যজনিত অন্যান্য কিছু সমস্যায় তিনি কাহিল হয়ে পড়েছেন বলে জানান ডাক্তাররা।

ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তবে বিপদ এখনও কাটেনি। আরও কিছুদিন তাঁকে হাসপাতালে থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা ও ডাক্তারদের নজরে থাকবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাঁর পারিবারিক ও রাজনৈতিক বন্ধু রতন বসু মজুমদার কলকাতা থেকে বাঙালীয়ানাকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

৭৭ বছরের এই শিল্পী  তাঁর ‘আমি বাংলায় গান গাই’ ছাড়াও ‘আলু বেচো, ছোলা বেচো’, ‘ডিঙা ভাসাও সাগরে’, ইত্যাদি অসংখ্য গান বাঙালীর মনে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তিনি বাংলা চলচ্চিত্র গোঁসাইবাগানের ভুত-এর প্লেব্যাকে কন্ঠ দিয়েছেন।

১৯৪২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন প্রতুল মুখােপাধ্যায়। বাল্যকাল থেকেই গায়ক হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে কবি মঙ্গলাচারণের একটি কবিতায় সুর দিয়ে সবাইকে অবাক করে দেন তিনি। একাধারে কবি, সঙ্গীতকার, গায়ক প্রতুল মুখােপাধ্যায় গান আর কবিতায় সুর দেয়া নিয়ে  নানান পরীক্ষা করেছেন। নানান জায়গার নানান সুর নিয়ে নিজের গায়কী পরিশুদ্ধ করেছেন।

তাঁর গানে, সুরে মানুষের বিভিন্ন সময়, নানান পরিস্থিতির যে আবেগের সমন্বয় ঘটেছে তা প্রতুল মুখােপাধ্যায়কে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগীতকারের আসন গড়ে দিয়েছে। ৬০ এর দশকে প্রতুল কমিউনিস্ট আন্দোলনে শরীক হন এবং নিজের গানকে পরিণত করেন প্রতিবাদ, আন্দোলন আর জাগরণের শক্তিতে। কোনরকম বাদ্যযন্ত্র ছাড়া গান গেয়ে লক্ষ মানুষকে উন্মাতাল করে দেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। 

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.