
ভুতিয়ার বিলের পদ্ম
‘ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছি
দূরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়
বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮টা নীল পদ্ম
তবু কথা রাখেনি বরুণা, এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধ
এখনো সে যে-কোনো নারী।‘
সুনীলের এই কবিতার সাথে অনাবৃত রোদ্রচ্ছায়ামাখা আকাশের নিচে অগভীর জলরাশিতে ছোট্ট ডিঙ্গি নৌকায় বসে পদ্ম ফুল ও নীল শাপলাসহ বিবিধ জলজ উদ্ভিদ আর প্রানীর দেখা পেতে যেতে পারেন ভুতিয়ার বিলে। নানান ফুলের সমারোহে প্রকৃতির এক মোহময় মায়াজালে ফেঁসে যেতে পারেন আপনিও।

ভুতিয়ার বিল
মহানগরী খুলনা থেকে মাত্র ১২-১৩ কিলোমিটার দূরের উপজেলা তেরখাদা। এ উপজেলার একটি বিলের নাম ভুতিয়ার বিল। তেরখাদা উপজেলার তেরখাদা সদর, সাচিয়াদহ ও ছাগলাদহ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে ভুতিয়ার বিল অবস্থিত।
কিভাবে যাবেন: খুলনার জেলখানা ঘাট পার হয়ে সেনেরবাজার। এরপর বাস-ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল বা স্থানীয় যানবাহন অটোতে চড়ে তেরখাদা বাজারে পৌঁছে ভ্যান নিয়ে ভূতিয়ার বিলে পৌঁছানো যায়। তারপর নৌকা নিয়ে পদ্ম পাতার জল পেরিয়ে আকাশের কাছাকাছি মিলে যেতে পারবেন অনায়াসে। তবে সেখানে খাবার পাওয়া যাবে না তাই সাথে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি, ছাতা বা ক্যাপসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিতে ভুলবেন না যেনো; কারণ বিলের আশেপাশে আপনার প্রয়োজনীয় কিছু নাও পেতে পারেন।

ভুতিয়ার বিল
অনেক সুন্দরের পেছনে আছে অনেক হতাশার গল্পও। এই বিলকে ঘিরেই ছিল ৫০টি গ্রামের লাখো মানুষের উৎসবের উৎস ও আনন্দের অনুপ্রেরণা। ২০০৩ সাল থেকে ভূতিয়ার বিলের ২০ হাজার একর জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় এই জমি অনাবাদী হয়ে যায়, দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে এ বিলের উপর নির্ভরশীলদের জীবন দুঃখ, বেদনা আর হতাশায় ভরে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে এসব গ্রামের এক সময়কার সম্মৃদ্ধ কৃষকদের প্রায় ৩৭ হাজার কৃষকই আজ দিন মজুরে পরিণত হয়েছে।
প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকার ফসল ও শ্রমের ক্ষতি হয়ে আসছে। অভিবাসনে বাধ্য হচ্ছে এখানকার মানুষ। এ বিলই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে গলার কাঁটা, সেখানে এখন চলছে বেঁচে থাকার নিরন্তর লড়াই।
নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে খুলনার তেরখাদা উপজেলা ও নড়াইল জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে ভূতিয়ার বিল। বিলের উপর নির্ভরশীল অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবারগুলোর জীবিকা চলে মাছ ধরে, শাপলা, পদ্ম ও শাক-সবজি বিক্রি করে।

লেখক: বেণুবর্ণা অধিকারী
ছবি: লেখক
বাঙালীয়ানা/এজে