ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার ৮ নম্বর অভিযুক্ত পথিকৃৎ মুক্তিযোদ্ধা কর্পোরাল (অব.) এবিএম আবদুস সামাদ রোববার, ৯ আগষ্ট, ২০১৮, রাত ৮:৫০ মিনিটে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সামাদের নামাজে জানাজা কলাবাগান ষ্টাফ কোয়ার্টার মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার তাকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় তার গ্রামের বাড়ীতে দাফন করা হবে।

এক অনুষ্ঠানে সর্ব বাঁয়ে বসে রয়েছেন পথিকৃৎ মুক্তিযোদ্ধা কর্পোরাল (অব) আব্দুস সামাদ
উল্লেখ্য, বাঙালীর মুক্তির সনদ ৬ দফা প্রণয়নে যখন ভীত পাকিস্তানী শাসক আইয়ুব খান ঠিক তখনই পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা সামরিক বাহিনীর কতিপয় বাঙালী সদস্য ও কিছু বাঙালী আমলা ও বেসামরিক বাঙালীর সশস্ত্র সংগ্রামের পরিকল্পনার কথা জানতে পারে। তারা খুঁজতে থাকে এর সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের সংশ্লেষ। পেয়েও যায়। লাহোর, করাচী, রাওয়ালপিন্ডি, ঢাকা, চট্টগ্রামে হানা দিয়ে গ্রেফতার করে অসংখ্য বাঙালী সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তিকে। জেল গেট থেকে শেখ মুজিবকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ক্যান্টনমেন্টে। ৩৫ জনকে আসামী করে শুরু হয় “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য” মামলা। এই তথাকথিত ষড়যন্ত্রের সাথে “ভারত” এর যুক্ততা বিশ্বাসযোগ্য করতে অনানুষ্ঠানিকভাবে মিডিয়ার কাছে এই মামলাকে পরিচিত করা হয় “আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা” নামে। এ মামলার বিরুদ্ধে রাজপথে জনতার ঢল নামে। আসাদ, মতিয়ুরের রক্তে উজ্জীবিত আন্দোলন রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। ২২ ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৯, মাথা নামিয়ে আইয়ুব খান মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয়, বাধ্য হয় অভিযুক্তদের মুক্তি দিতে।
বাঙালীয়ানা/এসএল