বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) অনুমোদিত রুট পারমিটেই লেগুনা চালাচ্ছেন, শুধু একটি ঘোষণার মাধ্যমে কোনও অনুমোদিত বিষয় বন্ধ করে দেওয়া যায় না বলছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বিআরটিএ বলছে, ডিএমপি কমিশনার কিসের ভিত্তিতে এই ঘোষণা দিয়েছেন তা তারা জানেন না।
বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া হুট করে কোনও পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন বা রুট পারমিট বাতিল করা যায় না। নিয়ম ও আইনের মধ্য থেকে পদক্ষেপ নিতে হয়। বর্তমানে যেসব রোডকে প্রধান বা ভিআইপি হিসেবে ধরা হচ্ছে প্রথমে সেগুলোকে ফিডার রোড থেকে বাদ দিতে হবে। এরপর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তারা আরও জানায়, পরিবেশ দুষণের কারণে ২০০২ সালে তিন চাকা অটোটেম্পু ঢাকা মহানগর থেকে উচ্ছেদ করা হয়। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পরিবেশবান্ধব লেগুনা (হিউম্যান হলার) চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় পাঁচ হাজার ১৫৬টি হিউম্যান হলারের রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। রাজধানীতে গণপরিবহনের ২৫১টি রুটের আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি (আরটিসি) প্রায় ১৫৯-টিতে এসব গাড়ি চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ফার্মগেট থেকে মিরপুর ১০, ফার্মগেট থেকে মহাখালী, ফার্মগেট থেকে জিগাতলা, ফার্মগেট থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে নিউমার্কেট, ট্যানারি মোড় থেকে নিউমার্কেট, গাবতলী থেকে বাড্ডা ভায়া মহাখালী-গুলশান- উত্তরা মাস্কট প্লাজা ও দিয়াবাড়ি, গুলিস্তান থেকে মালিবাগ রেলগেট-সিপাহীবাগ-গোড়ান, ডিএসসিসি নগর ভবন থেকে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা অন্যতম। বর্তমানে এই রুটগুলোকে ভিআইপি বা প্রধান রোড হিসেবে দেখছে ডিএমপি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখ সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার রাজধানী থেকে সব ধরনের লেগুনা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। লেগুনাকে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার জন্যও দায়ী করেন তিনি। এতদিন যেসব লেগুনা চলেছে, তার কোনও রুট পারমিট নেই। সব অবৈধভাবে চলছে বলেও দাবি করেন ডিএমপি কমিশনার।
বাঙালীয়ানা/এজে/এআর