সুসফল প্রায়শ্চিত্ত
অথচ বোধন সামনে রেখে চুপচাপ দিন
এবং হয়েছি প্রায়শ্চিত্তরূপ
তা-ই টের পাই ক্ষুদ্র প্রসঙ্গঘুম-আয়ুর উপশম
কিছুটা গেঁথে দাও রাগ নয়নতারা ফুলের
কলোনি যথারীতির সমান বারুনি ঘাটের সাজানো সেই তাস
নির্গত যে কুসুম-করেছ কাকে মস্তিষ্কহীন?
কোনোদিন আসবে না ছুতাপ্রেম-রঞ্জনের পুরোভাগ
এখন হাঁটছি আশ্চর্য চক্করে, ব্যক্তিগত অন্ধকার চেয়ে চেয়ে
তারপরও তাকাব সকল সন্ধানে-মনে হয় তুমি
আদি অগ্রসর-নিয়ে গেছ যুগ যুগ লিপিবদ্ধ তৃপ্তি
পরিবর্তে অধিকন্তু শান্তি পাব জানি, কেবলমাত্র
সফল থেকেও এইসব নানারূপ আকার—

উঠানে, জাগরণে কালোদাগ
কিনতু আমাকে ছায়ার নিচে ক্ষতিগ্রস্ত করে রাখো
গৃহনির্মাণশিল্প আমি জানি না শিশুস্বাস্থ্যের অধিক
বসতি পর থেকে ক্রমাগত এবং ক্রমাগত
তোমার মৃদু মোমের হাসিতে ফেটে পড়েছি
এই যুবক, হাঁটছি-ধরে সিটি কর্পোরেশন
যেখানে আঁকা পৃথিবীভর্তি রংহীন হিংস্রতার ছায়া
দূরত্ব বাড়িয়ে আবাদিজমির মতন অবশিষ্ট দিন
নৈঃশব্দ্যে তোমাকে বলেছি কালোমেয়ে দৃষ্টিমীন
যদিও আমরা কেউ কেউ এখনও সমুদ্রের অস্তিত্ব
ভালোবেসে দাঁড়িয়েছি নির্জলা অভিঘাতে নদীর কাছে
সুতরাং ক্লেদ আর কালির ঝলমলে এইদিন
আমাকে একা এক লেবুগাছের শুশ্রূষা দাও

তুমি নিত্যবৃত্ত
খণ্ডমাংস লোকালয়ে রেখে কানের পাশে বলেছিলে পরচর্চা, জঙ্গল থেকে ছুটে আসছে যৌথ মৃত্যুর আকাশবাণী। কিনতু আমি সেগুনের বৃক্ষ চিড়ে দেখা এক সন্ধ্যাবিকার। আজ আষাঢ়ের তৃতীয় দিন। চেনা নারকেল পাতার প্রভাতে বৃষ্টি পড়ছে অত্যধিক। দ্যাখো, ভালোবাসার সংবর্ধনাসূচক আগুন পড়ে শোনাই নিজেকে-সূত্রধরের নতুন নতুন যত প্রবর্তনা হাতে। অথচ নেই আমাদের রিপুর মতন তাচ্ছিল্যে যাওয়ার প্রবণতা। ছাদে কিংবা গোলাপে আসে মেষপালকের জন্মদিন । গ্রহণ করি অন্যদিন-রান্নাঘরের দিকে হেঁটে যাওয়া মায়ের বকুল। অপেক্ষা যদি সবুজে বহুতল হয়, যুবকের তৎসম বাক্যে শুক্লপক্ষ হয়ে বেরিয়ে যাও।
তুমি প্রতিধ্বনিসম, উপগ্রহে আঙুল বুলিয়ে সাজাতে চেয়েছিলে পুড়ে যাওয়া হাহাকারের যুগপৎ আরশি সম্পর্ক—–

রূপান্তর
সে সিদ্ধান্তে দ্রবণীয় হতে গিয়ে উপস্থিত হলে রূপান্তর;
দ্যাখো, উদ্ভিদের কাছে জেগে আছি। নিরাপদ।
উঠি বহুবিধ ভীরু বৃষ্টিকে শূন্যস্থানে ফেলে…
এরা সমুদ্র পরবর্তী আতাগাছের রক্তক্ষরণ জানে না।
জানে আধিক্য বিস্তার করে কুলের উদগ্রীব পৌঁছে
যেতে। যেখানে নেই বীণা ও ব্রিজের সন্ধান।
আমন্ত্রণ শেষ হলে ডেকে নিও যাবতীয় সতত দুপুর
এখন ঠিক মৃত্যু নয়, আছে প্রত্যয় কিংবা উপযোগ;
যদি যেতে পারি এক শালিকবিষয়ক জরুরি খোঁজে
যা হতে—যেকোনো—কয়েক ফুসফুস ফুলিয়ে ফুলিয়ে
কিনতু তুমি তো জানো
কে দেবে সুসময় নিশ্চয়তা, উন্মুক্ত শস্যদানার শরৎকাল
তবুও তিনটা সমবেত সন্তরণের পথে লালামিশ্রিত
প্রসঙ্গ তুলে আনব—সেই সবুজ অন্তঃবৃত্তাকৃতি ডানার—

কবি ও প্রেমিক
ভূমিকার আড়ালে আছে যার উদ্যতসন্ধ্যা;
বৃষ্টির ক্রন্দন। বাতাসের তীব্রতা। মালতীর পক্কতা।
তেমনি তবে, কবি হয়েছে সভ্যতার একক প্রতিদ্বন্দ্বী।
যদি-বা দ্যাখো তুমি, প্রেমিক হয়ে উঠেছে শালবনের মহড়া
এবং তোমার রহস্য শিশিরের চেয়ে মধ্যবর্তী
কিংবা সমআয়তন প্রতিক্রিয়াশীল
তারচে এখন আর কে-বা
দূর হতে দূরত্বে যেতে পারে পরমশূন্য তাপমাত্রা পরিত্যাগ?
যেকোনো প্রচণ্ড দিন কাটানোর পর কবি চাইতে পারে
নিরস্ত্র মহাবীর,
জ্বালিয়ে নিয়ে ফুলকি,
লিখে দিতে শাদা কাগজের শতশতাংশ পৃষ্ঠা
অথচ
বিগত শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে কবি হারিয়েছে
যৌনতা, ক্রোধ, দ্রোহ এবং মৃতকোষের হৃৎপিণ্ড

সারাটা দুপুর
সারাটা দুপুর হাঁটব। যে যার মতন স্নায়ুবিকারের দিকে
তুমি ধ্বংসস্তূপে কাঁপাবে মেঘের তলদেশ কিংবা
রাতের বাগান থেকে সীমিত সুযোগের শালবন;
আজ এই বারুদের কামান—নির্ভয়ে পড়ে গেছে
বৃষ্টি, বৃষ্টি এবং বৃষ্টি হতে। তবু যেন মাটি তার অল্পঅনু;
শূন্য পারাপার ছেড়ে অনায়াসে যায় যোগাযোগের সাঁকো—
টলটলে পুকুর সবকিছু কী তোমার বেওয়ারিশ?
ধীরে ধীরে বাড়ো সবুজ অন্ধকার—তুমুল এবং অপ্রতিহত
এখন ক্রমাগত ধাতু, শোকের বহুমূত্র ফুল। জাম্বুরাফুল শেষ
চেয়েছিলে বিনীত চৈত্রের পুষ্পধার নাকি জলের মর্মতল?
অথচ বাড়ি ছিল অলক্ষ্যে : সেই গূঢ় ক্ষতির কচুরিপানা নিয়ে।

লেখক:
দিপংকর মারডুক
কবি; ফেনী, ঢাকা, বাংলাদেশ