প্যারিস জলবায়ু চুক্তি মেনে চলতে প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ

Comments

বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর,  জাতিসংঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত প্যারিস চুক্তি সিওপি-২৪ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক বৈঠকে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্যারিস জলবায়ু চুক্তি মেনে চলার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়টি সামনে এনে বলেন, আমাদের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে সৃষ্ট সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা প্রয়োজন এবং কৃষি, জনস্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে প্রযুক্তি উন্নয়ন ও হস্তান্তর প্রয়োজন। বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। আমাদের দেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন(ইউএনএফসিসিসি) এর আওতায় গত ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ২১তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে কনভেনশনের ১৯৫টি সদস্য দেশের সম্মতির ভিত্তিতে ইউএনএফসিসিসি-এর আওতায় একটি জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তি গৃহীত হয়, যা ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তি নামে পরিচিত।
এই চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখা এবং ১. ৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখার চেষ্টা করা। প্রতি পাঁচ বছর পরপর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা। এছাড়া, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ২০২০ সালের মধ্যে ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার অর্থ বরাদ্দ অঙ্গীকার করা।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের ফলে অভিযোজন ও প্রশমনে কৃষিতে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে কৃষি সময়োপযোগী করতে নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সরকারের নেয়া স্বল্প কার্বন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই প্রায় ৬০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করেছে। দরিদ্র লোকদের মধ্যে ২০ লাখ উন্নত মানের রান্না-বান্নার স্ট্রোভ বিতরণ করেছে।
তাঁর সরকার জলবায়ু জনিত সমস্যা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি কমিয়ে আনতে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় জিডিপির ১ শতাংশ এ খাতে বরাদ্দ দিয়েছে, বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় জলবায়ু জনিত পরিস্থিতি সহিষ্ণু বিভিন্ন ধরনের শস্য উদ্ভাবন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত সাহসী। তারা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে বেঁচে আছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং-সম্পন্ন। আমরা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে দেশবাসীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চাই।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি দায়িত্বশীল সদস্য দেশ হিসেবে শেখ হাসিনা তার সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ মাথা পিছু আয়ের ক্ষেত্রে কখনোই উন্নয়নশীল দেশের পেছনে থাকবে না। আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে, কার্বন নি:সরণ কমিয়ে আনা, জলবায়ু পরিস্থিতির উন্নতি করা এবং উন্নতমানের শিল্পায়ন গড়ে তোলা।

প্রধানমন্ত্রী প্যারিস চুক্তি মেনে চলার মাধ্যমে জলবায়ু অর্থায়নের ওপর আলোচনায় গুরুত্ব দিতে পোল্যান্ডে এ বছরের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিতব্য সিওপি-২৪ এর সুযোগ কাজে লাগাতে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহবান জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেজ চলতি বছরের ডিসেম্বরে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য সিওপি-২৪ এর আগে এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.