মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে ইতিহাসে নানাভাবে জড়িয়ে আছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের নাম। ১৯৭১ সালে দুই দফা গেরিলা হামলা হয় ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত এই হোটেলটিতে। দীর্ঘ চার বছর সংস্কারের পর রূপসী বাংলা নাম পাল্টে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল নামে পুনঃচালু হতে যাচ্ছে শেরাটন নামে বহুল পরিচিত ৫৩ বছরের পুরনো এই হোটেলটি।
ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৬ সালে। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত এটি চালু ছিল। এরপর পরিচালনায় আসে আর একটি বিদেশি হোটেল পরিচালনা প্রতিষ্ঠান স্টারউড। ২০১১ সাল পর্যন্ত এটি হোটেল শেরাটন নামে পরিচালিত হয়। তাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রূপসী বাংলা নামে পরিচালিত হয় এই হোটেলটি

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল
বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল নামে খুলতে যাচ্ছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত পাঁচ তারকা হোটেল রূপসী বাংলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন সন্ধ্যায় হোটেলটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। তবে ১৩ সেপ্টেম্বরের পর এক মাসের মধ্যে হোটেলটির বাণিজ্যিক কার্যকম শুরু হবে।বুধবার বিকেলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী শাহজাহান কামাল এই তথ্য জানান।হোটেলটির সংস্কার কাজে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।সরকারি কোম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড এই হোটেলটির মালিক। পাঁচ দশকের বেশি সময় পুরনো হোটেলটির ব্যবস্থাপনায় ২০১২ সালে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি হয়। এর দুই বছর পর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে এর সংস্কার কাজ শুরু হয়।ইন্টারকন্টিনেন্টাল গ্রুপ ১৯৬৬ থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত এ হোটেলের ব্যবস্থাপনায় ছিল। ইন্টারকন্টিনেন্টালের পর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এসেছিল আন্তর্জাতিক হোটেল সেবাদানকারী আরেক প্রতিষ্ঠান শেরাটন।প্রায় ২৮ বছর পর ২০১১ সালের এপ্রিলে শেরাটন চলে গেলে বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড নিজেই হোটেলটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয়। তখন রূপসী বাংলা নামে চালু হয় বাংলাদেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই হোটেল।রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ হোটেলটি ১৯৮১ সালে সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন সময়ে কিছু কিছু সংস্কার হলেও আন্তর্জাতিক ফাইভ স্টার মানে তোলার জন্য বৈশ্বিক হোটেল পরিচালন কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে তাগাদা আসছিল।
উল্লেখ্য, এটি সংস্কারের জন্য ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর বন্ধ করে দেয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে সেটি পিছিয়ে ওই বছরের অক্টোবরে নতুন সময় ঠিক হয়। তারও পরে ২০১৭ সালের মার্চে শেষ হবে বলে জানানো হলেও তা হয়নি।
বাঙালীয়ানা/এজে