সপ্তদশ পর্ব
। জুলফিকার নিউটন ।
সংস্কৃতি সম্পর্কে আমাদের সবার একটা ধারনা আছে, তবে সকলের ধারণা এক রকম নয়। সংস্কৃতি যথার্থই একটি জটিল বিষয়। আমরা রেমও উইলিয়ামসের উক্তি স্মরণ করতে পারি। তিনি অবশ্য ইংরেজি কালচার কথাটি ব্যবহার করেছেন। উইলিয়ামস বলেছেন, “ইংরেজি ভাষায় যে দু–তিনটি জটিলতম শব্দ রয়েছে তার মধ্যে কালচার একটি। এর কারণ অংশত বিভিন্ন ইউরোপীয় ভাষায় এর জটিল ঐতিহাসিক বিকাশ, কিন্তু প্রধানত এই জন্য যে এখন কতিপয় বৌদ্ধিক জ্ঞানের শাখায় তা গুরুত্বপূর্ণ কনসেপ্ট হিসাবে এবং কতিপয় স্বতন্ত্র ও বিরুদ্ধ চিন্তা–পদ্ধতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।” আরেকটা ব্যাপার সংস্কৃতির ধারণাকে জটিলতর করে তোলে যখন আমরা উপলব্ধি করি যে এটা কখনোই স্থানু নয়, না ধারণা হিসাবে, না ঘটনা হিসাবে।
তাছাড়া সংস্কৃতিকে কি কখনো পুরোপুরি জানা যায়? আবারো রেমন্ড উইলিয়ামস থেকে একটা উদ্ধৃতি দিই। তিনি বলেছেন, “একটি সংস্কৃতি যখন অনুসৃত হয় তখন তা অংশত অজানা থাকে, অংশত অর্জনের বাইরে থাকে। একটি সমাজের নির্মিতি সর্বদাই একটি অনুসন্ধানের বিষয়।”
একটি জনগোষ্ঠি ও সমাজকে ঘিরে তার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। সমাজের সদস্যদের চিন্তাভাবনা, জাগতিক প্রণোদনা ও পারলৌকিক বিশ্বাস, আচার–আচরণ, অর্থনৈতিক ও শৈল্পিক–সাহিত্যিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক ক্রিয়াকলাপ সংশ্লিষ্ট সমাজের সংস্কৃতি নির্মাণ করে। সমাজ ছাড়া কোনো বায়বীয় শূন্যতার মধ্যে সংস্কৃতির সৃষ্টি হয় না। তাই সমাজতত্ত্ববিদরা যে সংস্কৃতি সম্পর্কে উৎসাহী হবেন, বিষয়টিকে নানা দিক থেকে পরীক্ষা করে দেখবেন, এটা খুব স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত।
উনিশ শতকেই সমাজতত্ত্ববিদরা সংস্কৃতি যে একটা সামাজিক কর্ম তা স্পষ্ট করে দেন। সামাজিক মিথস্ক্রিয়া শিল্পকলা ও সাহিত্যকর্মের মধ্যে মূর্ত আকার পায়। একজন সমাজবিচ্ছিন্ন শিল্পী সাময়িক ভাবে কেবলমাত্র নিজের আনন্দের জন্য শিল্প সৃষ্টি করতে পারেন কিন্তু তিনি এর ফলে সাধারণত অবক্ষয়ের শিকার হন। সামাজিক যৌথ জীবনের সঙ্গে শিল্পসাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গাঙ্গী গ্রন্থিবদ্ধ। সামাজিক পরিবেশ ও সামজের সদস্যদের শ্রেণীগত অবস্থান একটি জনগোষ্ঠির সংস্কৃতি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিংশ শতাব্দিতে সংস্কৃতির সমাজতাত্ত্বিক অধ্যয়নে যারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন তাদের মধ্যে নাম করতে হয় পিট্রিম সরোকিন, লেভিন শুকিং এবং লিও লোভেস্থলের। সরোকিন তাঁর সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল ডাইনামিক্স, ভল্যুম ওয়ান, ফ্লাকচুয়েশানস অব ফর্মস অব আর্ট (১৯৩৭) গ্রন্থে সমাজবিজ্ঞানী, শিল্প–ঐতিহাসিক ও ঐতিহাসিক–দার্শনিকের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমন্বিত করার চেষ্টা করেছেন। আর শুকিং তাঁর দি সোশিওলজি অব লিটারারি টেস্ট (১৯৫০) গ্রন্থে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোন থেকে বিষয়টিকে বিবেচনা করেছেন। আর লিও লভেস্থল তাঁর লিটারেচর অ্যান্ড দি ইমেজ অব ম্যান (১৯৫৭) গ্রন্থে শিল্পের সমাজতাত্ত্বিক অধ্যয়নে আশ্রয় করেছেন সাহিত্যকে। তিনি যোড়শ শতক থেকে উনিশ শতকের মধ্যে কয়েকজন ইউরোপীয় সাহিত্যিকের নির্বাচিত উপন্যাস ও নাটকের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ উপস্থিত করেন। সৃষ্টিশীল লেখকগণ কী ভাবে তাদের সমাজ ও কালের সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য ভাবে তুলে ধরেন লোভেস্থল তার উপর আলোকপাত করেন।
বাংলা ভাষার অন্যতম কথা সাহিত্যিক ও বিদগ্ধ প্রাবন্ধিক গোপাল হালদারও তাঁর সংস্কৃতির রূপান্তর (১৯৪৯) গ্রন্থে যে সব কথা বলেছেন তা সংস্কৃতির সমাজতত্ত্ব বিষয়টির উপর উল্লেখযোগ্য আলোকপাত করে। তিনি সংস্কৃতির তিন অবয়বের কথা বলেছেন।
প্রথম অবয়ব হল জীবন সংগ্রামের বাস্তব উপকরণ সমূহ। দ্বিতীয় অবয়ব হল সমাজদেহের বাস্তব ব্যবস্থা ও কাঠামো। একটি সমাজব্যবস্থায় মানুষ কোন যুগের উপকরণাদি কী বিশেষ পদ্ধতিতে প্রয়োগ করে সেযুগের জীবনযাত্রার পথে অগ্রসর হয় তার উপর ভিত্তি করেই সেযুগের ও সে জনগোষ্ঠির সংস্কৃতির স্তর নির্মিত হয়। সংস্কৃতির তৃতীয় অবয়ব হল মানস সম্পদ। জীবিকার বাস্তব উপকরণ, সমাজের বাস্তব রূপ এবং মানস সম্পদ এই তিনটির ক্রিয়া–প্রতিক্রিয়া ও ঘাতপ্রতিঘাতে প্রতি যুগে তার সংস্কৃতির সার্বিক রূপ ফুটে ওঠে। গোপাল হালদারের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টতঃই সংস্কৃতির সমাজতাত্ত্বিক বিবেচনার ফসল।
সংস্কৃতি প্রসঙ্গে আরেকটি কথা বলতে চাই। তথ্য প্রযুক্তির বিস্ফোরণ, সমগ্র বিশ্বের আজ একটি পল্লীতে রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়া, গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রভৃতি এখন সকল দেশের সংস্কৃতির উপর নানা ধরনের অভিঘাত ফেলছে। এ অবস্থায় বর্তমানে কোনো জনগোষ্ঠির ক্ষেত্রেই একটা বিশুদ্ধ অবিমিশ্র সংস্কৃতির রূপ অকল্পনীয়।
সংস্কৃতির সমাজতত্ত্ব নিয়ে আলোচনার শেষ দিকে পৌঁছে আমি আরো কিছু কথা বলতে চাই। বাংলাদেশের শতকরা প্রায় নব্বই জন লোকের বাস পাড়াগাঁয়ে এবং তারা মূলত কৃষিজীবী। এক্ষেত্রে ব্যাপক অর্থে সংস্কৃতির মূল ধারক ও বাহক পল্লীগ্রাম এবং পল্লীয় জনগণ। সকল অপূর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা সত্বেও লোকজ গ্রামীণ সংস্কৃতি সম্পর্কে আমাদের অধিকতর মনোযোগী, অনুসন্ধিৎসু ও শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে সংস্কৃতি বিষয়ক যাবতীয় আলোচনায় আমরা সচরাচর শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নগর–মানুষের সংস্কৃতির কথাই বলি, যা প্রধানত মানস–সংস্কৃতির ইতিহাস বহন করে, জীবিকা বা বাস্তব উপকরণগত সংস্কৃতি সম্পর্কে যা প্রায় সম্পূর্ণ নীরব থাকে। তবে একটা সত্য ক্রমশ সর্বজনীন স্বীকৃতি লাভ করছে। লোক সংস্কৃতিই প্রকৃত সংস্কৃতি, আদি ও মুখ্য সংস্কৃতি, লোক সংস্কৃতিই সার্বিক সংস্কৃতির প্রাণদাত্রী জননী। লোক সংস্কৃতি বহুমাত্রিক। এর আওতায় পড়ে লোক গীতি, লোকগাথা, লোক কবিতা, লোক কাহিনী, লোক ক্রীড়া, লোক বিশ্বাস, লোক বিজ্ঞান প্রভৃতি। শহর ভিত্তিক নাগরিক সংস্কৃতির বিপুল ও বৈচিত্র্যময় বিকাশ সত্ত্বেও বাংলার লোক সংস্কৃতি যে শুধু টিকে আছে তাই নয়, নানা ভাবে তা নগর সংস্কৃতির মধ্যে অনুপ্রবেশ করে সেখানে তার নিজের আসন করে নিচ্ছে। এ মিথস্ক্রিয়া সব সময় সুসমন্বিত ও ইতিবাচক না হলেও এর মধ্য দিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট ধরা পড়ে। তা হল লোক সংস্কৃতির অবিনাশী জীবনীশক্তি। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার যে লোক সংস্কৃতিকে পরস্পরবিরোধী দুই ভাগে ভাগ করে বিবেচনা করা ঠিক নয়, যেমন সভ্য–অসভ্যের সংস্কৃতি, শিক্ষিত–অশিক্ষিতের সংস্কৃতি, সাক্ষর–অসাক্ষরের সংস্কৃতি, নগর–পল্লীর সংস্কৃতি ইত্যাদি। বিখ্যাত ভারততত্ত্ববিদ ও লোকচ্চার পণ্ডিত ডক্টর হাইঞ্জ মোড তাঁর হাইওয়ে অ্যাও বাইওয়ে গ্রন্থে একটি চমৎকার উক্তি করেছেন। তিনি বলেছেন যে লোকসংস্কৃতি হল সংস্কৃতির হাইওয়ে, মহাসড়ক। এর শুরু সুদূর অতীতে, প্রাগৈতিহাসিক যুগে, যখন ভাষাও অবিষ্কৃত হয় নি, যখন মানুষ গুহার দেয়ালে অনবদ্য ছবি আঁকতো, হৃদয়–জুড়ানো মধুর গান গাইতো, যখন একটি ঐকমত্যের সর্বজনীন সমাজ বিরাজ করতো। ডক্টর মোড মনে করেন ওই ধরনের সংস্কৃতি ভিন্ন রূপ ও আঙ্গিকে আজও প্রবহমান আছে। শ্রেণীবিভক্ত সমাজে লোক সংস্কৃতি কখনো কখনো খণ্ডিত ও ক্ষুণ্ণ হলেও ভবিষ্যতে লোক সংস্কৃতিই সমৃদ্ধ ও বিকশিত হয়ে আবার সংস্কৃতির মূল ধারায় পরিণত হবে এবং এবং বিশ্বমানবকে বিশ্বমানবকে একটি সার্বিক ঐকমত্যের সমাজের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এবার বাংলার লোক সংস্কৃতি সম্পর্কে দু’একটি কথা। বাংলার সমৃদ্ধ লোক সংস্কৃতির ইতিহাস সর্বজনবিদিত। আমি এখন বাংলা ভাষাসাহিত্য সংস্কৃতির সর্বজনমান্য পণ্ডিত সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়কে অংশত অনুসরণ করে বাংলার বাস্তব উপকরণ ভিত্তিক লোক, সংস্কৃতির একটি চিত্র তুলে ধরছি। এসবের মধ্যে আছে: (ক) বাংলার খড়ের চালের কুটির, বেত ও বাঁশের কাজ, নানা রকম কাঠেছর কাজ, পোড়ামাটির ভাস্কর্য। গ্রামীণ পটুয়াদের আঁকা পট, গাজীয় পট, শরা–কলসী ও বিভিন্ন আকৃতির পাত্রের গায়ে ছবি ও নকশা, দড়ির ছিক্কা, মাটির, কাঠের ও কাপড়ের রঙিন পুতুল। চীনামাটি ও কাচের নানা প্রকার মূর্তি, চুড়ি, কৌটা ইত্যাদি। রূপার তারের কাজ, শাঁখার কাজ, পিতল–কাঁসার বাসন। পরিধেয় বস্ত্রের ক্ষেত্রে ঢাকার জামদানি, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের দৃষ্টিনন্দন নকশি–কাঁথা। সাম্প্রতিক কালের গ্রামীন চেক।
(খ) বাংলার অনুষ্ঠান ভিত্তিক সংস্কৃতি, যার মধ্যে শিথিল ভাবে ধর্মীয় অনুষঙ্গ ও দেশজ লোকাচার একাত্ম হয়ে মিশে গেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদ, মহররম, ফাতেহা দোয়াজদহম, ঈদে মিলাদুন্নবী, হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা, কালীপূজা, জন্মাষ্টমী, স্বরস্বতী পূজা, ভাই–ফোঁটা প্রভৃতি; খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের বড়দিন ও ইন্টার এবং বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমা, কঠিন চীবর দান। এই সব অনুষ্ঠানের শাখা হিসাবে আমরা দেখি নানা রকম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যার মধ্যে রয়েছে নৃত্যগীত, নাট্যাভিনয়, যাত্রা ও পালা গান, লাঠিখেলা, শোভাযাত্রা, নৌকা বাইচ ইত্যাদি।
(গ) বাংলার মানসিক ও আধ্যাত্মিক সংস্কৃতি। বৌদ্ধ চর্যাপদ, চণ্ডীদাস–বিদ্যাপতির কার্যঐশ্বর্য, সহজিয়া নাখ সম্প্রদায়ের ভূমিকা, মুসলমান সুফী সাধকদের অবদান। বাংলার বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, মাইজভাণ্ডারি, গম্ভীরা, জারি–সারি গান। মুসলিম সম্প্রদায়ের মারফতি–মুর্শিদি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের কীর্তন ও কথকতা।
উপরের সব কিছু অবলম্বন করেই বাংলার একটা নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। তার ভিত্তি ছিল সকল ধর্মের বাঙালির মিলিত ঐতিহ্য। নানা ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হয়ে এখনও ওই সংস্কৃতি বাঙালির চিত্তে একটি ইতিবাচক শক্তি রূপে বিরাজমান। এই সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার নানা অপপ্রয়াস অতীতে পরিচালিত হয়েছে, বাঙালিত্বের চেতনা বিরোধী শক্তি দ্বারা, এখনো হচ্ছে, অগণতান্ত্রিক শাসন ও নির্লজ্জ শোষণের স্বার্থে। কিন্তু ওই সব প্রয়াস সাফল্যমণ্ডিত হয় নি। কালের যাত্রায় বাঙালির অপরাজয় সংস্কৃতি তার স্বাক্ষর রেখে চরেছে। এপ্রসঙ্গে একটা কথা বলা আবশ্যক মনে করি। জীবিকাগত ও বাস্তব উপকরণগত তথা অর্থনৈতিক বিকাশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিকাশের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। অর্থনৈতিক বিকাশ ধারা যখন নগরবাসী কিংবা কোনো ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠিকে অতিক্রম করে দেশের সমগ্র মানুষকে, বিশেষ করে পল্লীর কৃষিজীবী মানুষকে, ইতিবাচক ভাবে স্পর্শ করে তখনই সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশের পথ উন্মুক্ত ও প্রশস্ত হয়। তখন পল্লী ও নগরের ব্যবধান হ্রাস পায়, লোক সংস্কৃতির সঙ্গে নাগরিক সংস্কৃতির একটা সহজ স্বাভাবিক যোগসূত্র গড়ে ওঠে, এবং বিশ্বসংস্কৃতির অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যে শ্রমজীবী মানুষের উন্নত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণের জন্য যে যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ে সে যোগ্যতা অর্জনের পথ সুগম হয়। আর দুটি কথা। এক শিল্প সংস্কৃতির সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের জন্য আমরা সংস্কৃতিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিতে পারি: (ক) চারুশিল্প চিত্রকলা, সঙ্গীত, ভাস্কর্য, সাহিত্য প্রভৃতি। (খ) পারফর্মিং আর্টস নৃত্য, নাটক, অপেরা, যাত্রা, পালাগান প্রভৃতি। (গ) প্রায়োগিক শিল্প সিরামিক, টেক্সটাইল, নকশা, ছাপচিত্র প্রভৃতি। দুই: শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির সমাজতত্ত্বের বিভিন্ন মতবাদকে আমরা তিনটি প্যারাডাইমের আলোকে বিবেচনা করতে পারি। এগুলি হল: (ক) মাকর্সবাদ (খ) ক্রিয়াবাদ বা ফাংশানালিজম (গ) উত্তরাধুনিকতাবাদ সব শেষে একটা বিনীত নিবেদন। এলেখা শিল্পসাহিত্য–সংস্কৃতির সমাজতত্ত্ব সম্পর্কে কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রবন্ধ নয়, একটি প্রাথমিক খসড়া মাত্র।
(পরবর্তী পর্ব ২৯ মে, ২০২৬-এ প্রকাশিতব্য)
ফিচার ফটো অলংকরণ: অভি মজুমদার
লেখক:
জুলফিকার নিউটন
লেখক, গবেষক ও অনুবাদক; ঢাকা
*প্রকাশিত এ লেখার মতামত এবং বানানরীতি লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাঙালীয়ানার সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাই এখানে প্রকাশিত লেখা বা লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা সংক্রান্ত আইনগত বা বানানরীতি বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় বাঙালীয়ানার নেই। – সম্পাদক
‘বাঙালি সংস্কৃতি’ -র অন্যান্য পর্বগুলো পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন
বাঙালি সংস্কৃতি