বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বাঙালী নারীর পোশাক শাড়ি নিয়ে লিখেছেন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল তর্ক-বিতর্ক। এই বিতর্ককে একটি সুস্থ সমালোচনার অবস্থানে দেখবার প্রয়াসে বাঙালীয়ানা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের মূল লেখাসহ এ সংক্রান্ত কিছু লেখা প্রকাশ করছে। – সম্পাদক
৩০ আগস্ট শুক্রবার ‘প্রথম আলো’ প্রকাশিত আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের শাড়ি বিষয়ক লেখাটি পড়েছিলাম। ফেসবুকে এই লেখা বিষয়ে অনেকের আলোচনা ও সমালোচনাও ছিলো চোখে পড়ার মতো। লেখকের সাথে পাঠকের মত যে সবসময় এক হবে তাও না। বরং দ্বিমত থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে সব আলোচনা বা সমালোচনা যে যৌক্তিক তাও না।
শাড়ি বাঙালি নারীর আবহমান ঐতিহ্য। অনেক পোষাকের মতো শাড়িরও যৌনাবেদনময়তা রয়েছে যা অনস্বীকার্য ।
তবে, শাড়ি পরতে জানতে হয়।
সায়ীদ স্যার যা লিখেছেন তাতে কেউ ব্যথিত হতেই পারে, তবে তাঁর লেখায় বেশ কিছু সত্য উঠে এসেছে যা অগ্রাহ্য করা যায় না।
নারীদেহ নিয়ে কবি, সাহিত্যিকরা যুগেযুগে লিখেছেন, লিখবেন। শিল্পীরা তাদের আপন ক্যানভাসে কত রঙে ফুটিয়ে তুলেছেন নর ও নারীদেহ তার ইয়াত্তা নেই… সবই কি আমাদের ভালো লাগে? — না।
এই ভালো লাগা আর না লাগার ভাষা, হিংসাত্মক বা অশালীন যেন না হয়, সেটাও আমাদের বিবেচনায় থাকা উচিত।
লেখাটার উদ্দেশ্য আমার কাছে অপরিষ্কার মনে হয়নি। আমাদের সংষ্কৃতির অনুসঙ্গ এই পোশাকের প্রতি নারীকে পুনরায় আকৃষ্ট করার চেষ্টা এ লেখায় ছিল, এবং লেখায় শাড়ির সাথে অন্যান্য পোশাকের তুলনামূলক একটি দৃশ্যপট এঁকেছেন লেখক যা আমার কাছে তাঁর সংস্কৃতি লালনের তাড়না / প্রয়াস মনে হয়েছে । আর শাড়ী যে নারীকে অনিন্দ্য করতে পারঙ্গম তাও বোঝাবার চেষ্টা করেছেন তিনি। মন্দ কী?
তবে লেখাটির সব অংশই যে ভালো লেগেছে তাও না।
‘আমার ধারণা, একটা মেয়ের উচ্চতা অন্তত ৫ ফুট ৪–এর কম হলে তার শরীরে নারীজনিত গীতিময় ভঙ্গি পুরোপুরি ফুটে ওঠে না।’ লেখার এই অংশ নিয়ে আমাদের অনেকেরই দ্বিমত থাকবে এবং নারীর জন্য উল্লিখিত উচ্চতার কমতি আমাদেরকে ব্যাথিত করবে এটা স্বাভাবিক । তবে উচ্চতাও যে তথাকথিত সৌন্দর্য বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
শাড়ি বিষয়ক লেখাটি কাউকে বিরক্ত করতেই পারে, আবার কারো পড়ে ভালোও লাগতে পারে। সর্বোপরি লেখাটি আমাকে বিরক্ত করেনি ।
লেখক:
শায়লা হাফিজ, কবি ও সম্পাদক, সাহিত্য ও শিল্প বিষয়ক পত্রিকা ‘সহজ’
