এই ২২শে শ্রাবণ, কবির ৭৭তম প্রয়াণদিবসে প্রতিবারের মতোই সারাদিন ধরে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁর স্মৃতি তর্পণ করলেন কলকাতাবাসী। দিনের শুরুতে ৬.৩০ এর প্রভাতী অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রভারতী সোসাইটির পক্ষ থেকে কবির প্রয়াণকক্ষে পুষ্পা রঘ্য অর্পণ করে প্রণাম জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অন্যান্য আধিকারিকরা। সকাল ৮টায় নিমতলা মহাশ্মশানে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিসৌধে অর্ঘ্য অর্পিত হয়। বিকাল ৫.৩০এ জোড়াসাঁকো প্রাঙ্গণে আবৃত্তি, গান ও নৃত্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সোসাইটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্ররা এই স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রবীন্দ্রসদন চত্তরে শিশির মঞ্চে বিকাল ৫টায় গান, পাঠ ও রবীন্দ্র নৃত্যের আয়োজন করে সরকার। রবীন্দ্র-ওকাকুরা ভবনে এক স্মরণ সন্ধ্যার আয়োজন করে গীতায়ন সঙ্গীত আকাদেমি। মধুসূদন মঞ্চে সন্ধ্যা ৬টায় সপ্তস্বরা কবির বর্ষার গান ও পাঠের মাধ্যমে কবিপ্রণাম জানান। রবীন্দ্রতীর্থে ডাকঘর আয়োজন করেন বৃক্ষরোপণ উৎসব। আইসিসিআর লাইব্রেরি হলে আয়োজিত হয় রবিসমারোহ। সারা শহরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করেছেন দিনটিকে।
দাঁড়াবার জায়গা প্রকাশনী ১৬জন মহিলা কবিকে নিয়ে ‘ফুল ফুটুক’ নামে এক কাব্যপাঠের আসরের আয়োজন করেন ভাবানীপুর এডুকেশন সোসাইটি হলে। সভাপতি ছিলেন স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়, বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী হিরণ মিত্র। বাঙ্গালীয়ানার প্রতিনিধিদের আয়োজকেরা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন পোর্টালটির উপস্থাপনা করার জন্য।
কলকাতার পাশাপাশি শান্তিনিকেতনেও ৮ই থেকে ১৬ই অগাস্ট কবির স্মরণে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে। গৌরপ্রাঙ্গণে বৈতালিক, উপাসনা গৃহে উপাসনা, রবীন্দ্রভবনে পুস্তক প্রকাশ, নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবনে বিকেলে ‘বৃক্ষরোপণ’, সন্ধ্যাবেলায় লিপিকা প্রেক্ষাগৃহে স্মরণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে প্রয়াণ দিবস উদযাপন শেষ হবে।
এ ছাড়াও বিশ্বভারতী এই উপলক্ষে বেশ কিছু বই প্রকাশ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গীতাঞ্জলির ‘ব্রেইল’ সংস্করণের প্রকাশ। এর ফলে সমস্ত বাংলাভাষী দৃষ্টিহীন মানুষ উপকৃত হবেন। ব্রেইলে প্রকাশিত হবে ‘রবীন্দ্র পরিচয়’ বইটিও। রবীন্দ্রভবনের প্রাক্তন কিউরেটর গৌরচন্দ্র সাহার চেষ্টায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রায় সাত হাজার পাঁচশো চিঠি সম্বলিত ‘রবীন্দ্রপত্র প্রভাব ও তথ্যপঞ্জি কালানুক্রমিক’ বইটি প্রকাশিত হবে, যা গবেষকদের অপরিমেয় সাহায্য করবে। রবীন্দ্রভবনে ২২ শ্রাবণের প্রদর্শনীও চলবে পাশাপাশি, এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফুলমালা ডোরে’। রীতি মেনে আগামীকাল, বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীনিকেতন মেলার মাঠে হবে ‘হলকর্ষণ’ উৎসব। উপস্থিত থাকবেন রাজ্যপাল তথা বিশ্বভারতীর রেক্টর কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। ইতিমধ্যেই মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বীরভূম জেলা পুলিশের কর্তারা শ্রীনিকেতনের মাঠ পরিদর্শন করেছেন। শ্রীনিকেতনে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ রাজ্যপালের শান্তিনিকেতনে এসে পৌঁছনোর কথা। বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্রীনিকেতনে রয়েছে ‘ফুটবল খেলা’।
১৫ই অগাস্ট বিনয় ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও স্বদেশী গান এবং পরের দিন বর্ষামঙ্গল উদযাপনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী উদ্যোগের সমাপ্তি হবে।