আসামে ৪০ লক্ষ বাংলাভাষী “বহিরাগত” ট্যাগ পেতে যাচ্ছে?

Comments

আজ, ৩০ জুলাই, ২০১৮ আসামে প্রকাশিত হল জাতীয় নাগরিক তালিকার খসড়া। এখন পর্যন্ত পাওয়া সংবাদ অনুযায়ী আনুমানিক ৪০ লক্ষ আসামবাসী মানুষের নাম এই খসড়া থেকে বাদ পড়েছে। নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার দায় বর্তাবে এদের ওপর, অন্যথায় এদের বহিস্কার করা হবে অবৈধ নাগরিক হিসেবে।

বাঙালীয়ানার আসাম প্রতিনিধির মাধ্যমে কলকাতা ডেস্ক জানিয়েছে যে গতকাল থেকেই আসামে, বিশেষ করে বাঙালী অধ্যুষিত বরাক উপত্যকা ও অন্যান্য অঞ্চলে পরিস্থিতি ছিল থমথমে। গভীর উদ্বেগে অপেক্ষা করছিলেন ধর্মীয় ও ভাষিক  সংখ্যালঘু  মানুষ। ১৯৫১ সালের পর এই প্রথম আসামে এই তালিকা নতুন করে তৈরী হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের সনাক্ত করার উদ্দেশ্যে। যারা  ১৯৭১এর ২১ মার্চের আগে আসামে এসেছেন এবং ওই বছরের ২৪ মার্চের ভোটার তালিকায় যাদের নাম আছে, তারা এবং তাদের উত্তরাধিকারীদের শুধু বৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বাকিদের আটক ও বহিস্কার করা হবে। দেশের বিভিন্ন মহলে অনেকেই, বিশেষত মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন আসামে সংখ্যালঘু বিতাড়ণের ব্যবস্থা পাকা করার জন্যই এই পদক্ষেপ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ জানিয়েছেন এই তালিকার ভিত্তিতে কাউকে আটক বা বহিস্কার করা হবে না যেহেতু এটি খসড়া তালিকা এবং আগামী ৩০ অগাস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিযোগ জানানোর, প্রমাণ ইত্যাদি জমা দেবার জন্য সময় পাবেন তালিকায় নাম না থাকা মানুষেরা। জানানো হয়েছে, সকলকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হবে নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য। কিন্তু আগামী নির্বাচনে এই ৪০ লক্ষ মানুষ কি ভোটাধিকার হারাবেন? এদের মধ্যে অনেকের জন্ম আসামে তাদের নাগরিকত্বের প্রশ্নটির কি হবে? যাদের নাম তালিকায় নেই তার মধ্যে অধিকাংশই মহিলা। এটি তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিরাট সমস্যা তৈরী করবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। আসামে এবং সন্নিহিত রাজ্যগুলিতে ২৩০০০ আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য।

এদিকে ঢাকায় এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বাঙালীয়ানাকে বলেন, “এটি সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ ব্যাপারে দিল্লী ঢাকাকে কিছু জানায়নি। যদি দিল্লী কখনও ঢাকাকে জানায় তখন ঢাকা এ ব্যাপারে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে।”

 

 

 

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.