নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে

Comments

বাড়িতে যেদিন নাইট কুইন ফুটবে, সেদিন সন্ধ্যেবেলা মায়ের যত আয়োজন আর অপেক্ষা সব ওই নাইট কুইন ফুলকে ঘিরে। বছরে একবার তার দেখা মেলে বলে কথা! তাও আবার শুধু একটি রাতের জন্য! তবে আমাদেরকে অবাক করে মায়ের গাছে বছরে একাধিকবার রাজকীয় ওয়েডিং গাউনের মতো ফুটে থাকতো এই রাতের রানী। দুধ সাদা ফুলের মাঝে হলদে কারুকার্যময় রেণু। একেবারে ডিজাইনার’স স্পেশাল! কোনো কোনো বছরে একসাথে পাঁচটি ফুলও সদলবলে ফুটতে দেখেছি। যেকোনো নামী ব্র‍্যান্ডের ফরাসি সুগন্ধি হার মানতে বাধ্য তাদের সৌরভে।

Ferdousi Priyabhashini

মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী

পুরনো ডাইরির পাতায় মা তাঁর এই প্রিয় অতিথিবৃন্দের আগমনের দিন-তারিখ-ক্ষণ-আকৃতি সব সযত্নে লিখে রাখতো, ঠিক যেভাবে সন্তানের জন্মতারিখ মায়েরা লিখে রাখে! আমি আর আমার অপ্সরী, ঊর্বশী বেশ কয়েকবার মায়ের সাথে বসে নাইট কুইন ফোটা দেখেছি। আব্বু কথা বলে উঠলে মা বলতো, “বীয়ার ভাই, তুমি কথা বলাতে ওর ফুটতে দেরী হলো!” মায়েরা যে সন্তানের না বলা কথা সব বোঝে।

মা চলে যাবার পর এবারের প্রথম নাইট কুইন ফুটলো আজ। একটা ফুটেছে, অন্যটাও ফুটলো বলে! এক মাস আগে একটা নিঃসঙ্গ নাইট কুইনের কুঁড়ি এসেও মাকে না দেখতে পেয়ে অভিমানে ফিরে গেছে। তিনরাত অপেক্ষা করলেও আমার চোখে ধরা দেয়নি সে। মন খারাপ হয়েছিলো খুব।

Night Queen

নাইট কুইন

আজ সবাই মিলে ফুলটা দেখলাম। আমি, বনি, বাচ্চারা, আনারুল। আব্বুকে এসে খবরটা দিলাম। কেবল মায়ের চেয়ারটা শূন্য পড়ে রইলো। আমার মনটা ফুলের গন্ধে অধীর হয়ে মাকে খুঁজে চলে। জানি অন্তরে সে সদা বিরাজমান – তাই বলে একবার কী দুচোখ ভরে মাকে দেখতে ইচ্ছে হয় না? জড়িয়ে থাকতে মন চায় না?? ঊর্বশী বলে, ” মা আমি নানির মতো নাইট কুইন ফোটার দিনতারিখ খাতায় লিখে রাখছি। ” শুনে আমি তাকে বললাম, নানি চলে যাবার পরে যে এটাই প্রথম ফুল তাও যেন লিখে রাখে। জবাবে মেয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে , ” কেন, মা? এসব কেন লিখব? নানি চলে গেছে – একথা কী আমি মানি নাকি!”

তাই তো ! তুমি চলে গেছো – কেন মানতে হবে, মাগো? আমিও মানি না। একদম মানি না।

লেখক: ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনী, মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর কন্যা।

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.