এক দিকে পাটের জেনোম, উন্নত বিজ উদ্ভাবন করছেন বিজ্ঞানীরা অন্য দিকে পাটের ফলন ভাল হলেও পাটের দাম কমে যাওয়ায় পাট চাষে উৎসাহ হারাচ্ছে কৃষক।

প্রথমবারের মত উচ্চমাত্রার লবনসহনশীল চারটি পাটের জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষকরা। ইতোমধ্যে, খুলনাসহ উপকূলীয় ছয় জেলার লবনাক্ত জমিতে তিন বছর পরীক্ষামূলক চাষে সফল হয়েছেন তাঁরা। খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় ২১ জেলায় এক মৌসুমে ১০ লাখ লবনাক্ত জমি পাট চাষের আওতায় ব্যাপক সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত করেন গবেষকরা। এ জাতের পাটের চাষে উচ্চ ফলন পেয়ে চাষীরাও আশাবাদী। তৃণমূল পর্যায়ের চাষীদের মধ্যে সম্প্রসারিত করা হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হতে পারে বলে গবেষকরা আশা করছেন।

এদিকে আবার ন্যায্য দাম না পেয়ে পাট আবাদ ছেড়ে দিচ্ছেন চাঁদপুরের চাষীরা। কৃষিবিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত তিন বছরে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেমে এসেছে পাঁচ ভাগের এক ভাগে। চাঁদপুরের পাটচাষীরা জানান, অন্যান্য বছরের মত এবারও পাটের দাম পাচ্ছেন না তাঁরা। পাইকাররা পাট কিনে বিক্রি করতে না পেরে রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে স্তূপ করে ফেলে রেখেছেন। তাঁরা বলছেন দাম পান না বলে বিক্রি করতে পারছেন না। চাঁদপুরে এবার চার হাজার চল্লিশ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাঁচশ ষাট হেক্টর কম। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর পরিবেশ অনুকূল থাকায় পাটের ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু, কৃষকরা গতবছর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। পাটের দাম বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি পাটচাষীদের কাছে। নয়তো হয়ত দিন দিন পাট চাষ কমতে কমতে শূন্যে চলে আসবে পাটচাষীর সংখ্যা।

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.