উদয়ন ভট্টাচার্যের কবিতা

Comments

এই আশ্চর্য বেঁচে থাকা

অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত সেরে রাখতে চাই
কি জানি কখন অনবধানে, সীমানার অন্য প্রান্তে চলে যাই।

কেউ মনে রাখবে না, দু ফোঁটা অশ্রুজলে
আমার বধ্যভূমিও সিক্ত হবে না।

এখানে আজ আগুন নেভাচ্ছি
কাল ওদিকে ভূমিধ্বস সামলাবো
আজ বন্যার জল আরুণি হয়ে বেঁধেছি
আবার তার মধ্যে জোয়ার এসেছে–

একদিকে তপ্ত সূর্য নিভে যাচ্ছে
অন্যদিকে উঠে আসছে বরফ-শীতল চাঁদ

আমি কি হিমবাহর চূড়া ভাসতে দেখিনি?
আমি কি দেখিনি পূর্ব দিগন্তে ঝড়ের সংকেত?
আমি কি দেখিনি কে মুক্তিযোদ্ধা কে রাজাকার?
আমি কি দেখিনি আজ যে সীমান্ত প্রহরী
কাল সে সেনাপতি হয়ে রাষ্ট্র শাসন করছে?

শুধু আমার পৌঁছতে দেরি হয়ে যাচ্ছে
অরণ্যে অদৃশ্য মারীচ, মণিকর্ণিকায় রাবণের চিতা জ্বলছে
ছবিতে পরানো তরতাজা মালা দুদিনেই গলার ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।

এই ফণীমনসার জীবনে
দু দুটো মুখোশ পরে আমাকে
লোকালয়ে যেতে হবে।

আলো-অন্ধকার

বহুবার লিখেছি অন্ধকারের কথা
এবার লিখব ঝলমলে আলো,
সমুদ্রের প্রান্তে মিলিয়ে যাওয়া চকিত সূর্য
আমাকে বহুবার বলেছে, কি খবর ভালো?
এইসব চেনাশোনা চাঁদ, সূর্য, রূপশালী ধান, নীলকণ্ঠ পাখি
আমাকে ডাকে
আর আমি দেখি মরুদ্যান ঝলসে যাচ্ছে
দিগন্তের বাঁকে
তাই আমি আর কোনদিন আলোর সুষমাকে
অন্ধকার বলবো না–
যতই আশাহত কালো দিন আসুক, এসে বলব
এসো আলোর প্রতিমা।

এক একটি স্বপ্নের জন্য

এক একটি স্বপ্নের জন্য বহুদিন বেঁচে থাকা
এক একটি স্বপ্নের জন্য আবার মৃত্যু ডেকে আনা
এক একটি সোনালি দিন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী
এক একটি দিন বিপ্লবের জয়গান

এমন একটি দিনে আমি মস্কোর পথে পথে হাঁটবো
এমন একটি দিনে আমি রুমাল তুলে বলবো
পরমাণু বোমা ধ্বংস হোক
দুধ ও রুটি থাক শিশুর জন্য;

আমি কিছু জানি না সমাজতন্ত্র, সিংহাসন
ফ্যাসিবাদ ধ্বংস হোক পোস্টার, সাম্যবাদ
রুশো, স্ট্যালিন এবং লেনিনের মূর্তি
শৃঙ্খল মোচন দাসত্ব অথবা শোষণ
পাভেল, তোমার দেশ তোমাকে মনে রেখেছে তো? 

পুরোনো দশক

রাত্রি ছিল হাহাকারে ভরা
দিনগুলি ছিল উদাসীন
সবুজ গাছের নিচে অপ্রকাশ্য আলো দেখে
লোকে বলেছিল পরাধীন;

সে তো জানে না কিছু সত্তর দশক,
নিশানের নিচে দাঁড়িয়ে বলা শপথের কোন কথা,
সে শিখেছে শুধু সফল দিনের
লক্ষ্যকে ছুঁয়ে থাকা।

দুঃখের দিন ভুলো না কিন্তু ফসল কাটার গান
মনে রেখো সেই রক্তে ডোবানো প্রতিবাদ, সংগ্রাম।

মিছিলের শেষ প্রান্ত থেকে

আমরা তো মিছিলের শেষ প্রান্তে ছিলাম
তবু আমরা
মুণ্ডুহীন ধরগুলির চিৎকার এখনও ভুলিনি
আমরা একটি শ্রেণিশত্রুও খতম করতে পারিনি 
তবু আমরা জানতাম সমবেত কণ্ঠস্বরে
কখন আগুন লাগাতে হয় খামারে;
কখন কণ্ঠস্বরে জেগে ওঠে জাগরণের গান
কখন আমাদের শরীরে প্রবেশ করবে প্রতিবাদ;

অরণ্যের মধ্যে ক্ষুধার্ত শীতার্ত রাতগুলি মনে পড়ে কী?
শস্ত্র নিয়ে ভাগ হয়ে যাওয়া এলাকার মধ্যে
সেই পূর্ণ প্রবেশ, ভিয়েতনাম 
মনে আছে ম্যাকনামারা?

লেখক:
Udayan Bhottacarjya
উদয়ন ভট্টাচার্য
কবি, কলকাতা

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.

About Author

বাঙালীয়ানা স্টাফ করসপন্ডেন্ট