অবসরের ২০ দিন বাকি থাকতেই চাকরি থেকেই পদত্যাগ করলেন ভারতের সিবিআই ডিরেক্টরের পদ থেকে সদ্য অপসারিত অলোক ভার্মা। বৃহস্পতিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০১৯, তাঁকে ডিরেক্টর পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্যানেল। ওই প্যানেলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে। প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধি হিসেবে প্যানেলে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ কে সিক্রি। জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

অলোক ভার্মা
৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ ছিল তাঁর অবসরের দিন। কিন্তু সিবিআই ডিরেক্টরের পদ থেকে সরিয়ে দমকলের ডিরেক্টরের পদে বদলি করার জেরে অবসরের ২০ দিন বাকি থাকতেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে দিলেন অলোক ভার্মা। তবে অপসারণ নিয়ে নিজের ক্ষোভ-অভিমানও চেপে রাখেননি প্রাক্তন সিবিআই পরিচালক। বিবৃতি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ‘‘স্বাভাবিক ন্যায়বিচার হয়নি। গোটা প্রক্রিয়াটাই এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে আমাকে সরানো যায়।’’
সিবিআই-এর স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানার সঙ্গে বিবাদের জেরে গত ২৩ অক্টোবর মধ্যরাতে ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় অলোক ভার্মা এবং রাকেশ আস্থানাকে। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেন ভার্মা। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ ছুটিতে পাঠানোর সেই নির্দেশিকা খারিজ করে দেয়। ফলে পদ ফিরে পান ভার্মা। বৃহস্পতিবার দায়িত্বভারও নিয়েছিলেন।
কিন্তু তার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বৈঠকে বসে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ওই প্যানেল। সেই বৈঠকে বিরোধী দলনেতা অলোক বর্মাকে সরিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করলেও প্রধানমন্ত্রী এবং বিচারপতি এ কে সিক্রি ছিলেন অপসারণের পক্ষে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ভার্মাকে সিবিআই ডিরেক্টরের পদ থেকে সরিয়ে তাঁকে বদলি করা হয় দমকলের অধিকর্তার পদে। কিন্তু সেই পদ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পদত্যগপত্র পাঠিয়ে দেন ১৯৭৯ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অলোক ভার্মা।
আদালতের রায়ে মঙ্গলবার, ৮ জানুয়ারী, ২০১৯, সিবিআই-প্রধানের পদ ফিরে পাওয়ার পরপরই মোট ১০ জন কর্মকর্তার বদলি বাতিল এবং ৫ কর্মকর্তাকে বদলি করেছিলেন লোক ভার্মা।
ছবিঃ ইন্টারনেট
বাঙালীয়ানা/এসএল