কলকাতায় বিজেপির পান্ডারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গল

Comments
মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০১৯, বিকেলে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের রোড শো পুষ্পবৃষ্টি, ঢাক-ঢোল, ব্যান্ড পার্টি, লোকনৃত্য, গেরুয়া বেলুন, আতসবাজি দিয়ে শুরু হলেও শেষটা মোটেই সুখকর হয়নি। রোড শো বদলে গেল রাজনৈতিক সংঘর্ষে। বিজেপির সঙ্গে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তুমুল সংঘর্ষে রক্তাক্ত হল বিধান সরণি। বিবেকানন্দের জন্মভিটেতে না ঢুকেই ঘটনাস্থল ছাড়তে হল অমিত শাহকে।

এসময় মিছিলে আসা বিজেপি কর্মীরা বিজেপি সভাপতির উপস্থিতিতেই বিদ্যাসাগর কলেজে হামলা চালায়। ভেঙে দেয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি। ভেঙে দেওয়া হয় কলেজের গেট, আসবাব।

রোড শোর রাস্তা ৫ কিলোমিটারের সামান্য বেশি। সেইটুকু পথ পেরতে সময় লাগল পাক্কা আড়াই ঘণ্টা। বিধান সরণিতে বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে বিজেপির মিছিল পৌঁছতেই। টিএমসিপি (তৃণমূল ছাত্র পরিষদ) এবং বিজেপি কর্মী সমর্থকদের সংঘর্ষ ঘিরে রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হল পরিস্থিতি। ইট, বোতল, জুতো বৃষ্টি, বাইকে আগুন, ভাঙচুর হল। পুলিশের অনুপস্থিতিতে চরমে ওঠল উত্তেজনা। বিজেপির অভিযোগ, বিদ্যাসাগর কলেজের ভিতর থেকে মিছিলের দিকে ইট ছোড়া হয়।

তৃণমূলের দাবি, কলেজ থেকে শুধুমাত্র মোদীবিরোধী পোস্টার দেখানো হয়েছিল। পোস্টার দেখেই ইট-রড নিয়ে বিজেপি হামলা চালায়। পুলিশের অনুপস্থিতির জেরে দীর্ঘক্ষণ চলতে থাকে সংঘর্ষ। শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে কেন পুলিশ ছিল না, কেন পুলিশ পৌঁছতে অনেক দেরি করল, সে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন শিবির থেকে।

এদিকে বিদ্যাসাগর কলেজে ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে গুন্ডা নিয়ে এসে এই হামলা চালিয়েছে বিজেপি। বিজেপির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করার পাশাপাশি বিদ্যাসাগর কলেজে গিয়ে ছাত্রছাত্রী ও অধ্যাপকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নির্দেশ দেন তিনি।

এই ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘‘বিদ্যাসাগরের এই অপমানের জবাব দেবে বাংলার মানুষ। বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করতে চাইছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক এবং ছাত্রসমাজ এই গুন্ডামির জবাব দেবে।’’

রাতে বিদ্যাসাগর কলেজে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বলেন আহত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে। সেখানে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘মণীষীদের গায়ে হাত দিলে ছাড়ব না। বিজেপির কাজে লজ্জিত বোধ করছি।’’

ছবি: আনন্দবাজার

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.