বৃহস্পতিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯, কোন প্রকার চুক্তি বা যৌথ ঘোষণা ছাড়াই ভিয়েতনামের হ্যানয়ের পাঁচ তারকা হোটেল ‘মেট্রোপোলে’ এ অনুষ্ঠিত দুইদিনব্যাপী ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠক শেষ হয়েছে। এদিকে দুপক্ষই নিজ নিজ প্রস্তাব অপরপক্ষ গ্রহণ করেনি বলে বক্তব্য দেয়ায় আপাতদৃষ্টিতে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে পরিকল্পিত সময়ের আগেই ওয়াশিংটনে ফেরত যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখান থেকে তিনি বলেন, কিম চেয়েছিলেন তাদের কোন পারমাণবিক ভাণ্ডার ধ্বংস করার আগেই উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত সকল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিতে। এজন্যই সম্মেলনটি ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি ছিল নিষেধাজ্ঞা নিয়ে। তারা চেয়েছিল তাদের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে দিতে। কিন্তু আমাদের পক্ষে তেমনটি সম্ভব ছিল না।
কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, উত্তর কোরিয়া চেয়েছিল তাদের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ভাঙার বদলে আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। একটি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল আরও বেশি কিছু। রি ইয়ং হো আরও বলেন, ওয়াশিংটন যদি আংশিকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তাহলে উত্তর কোরিয়া সকল ধরণের পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন বন্ধ করে দেবে, মার্কিন পর্যবেক্ষণের আওতায়। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে এর চেয়ে বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
তবে এ সম্মেলন সম্পর্কে শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০১৯, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলেছে, সম্মেলন দুই নেতার মধ্যে একের প্রতি অপরের সম্মানবোধ ও বিশ্বাস গভীর করে তুলেছে। দি কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি বলেছে, ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে একটি গঠনমূলক ও সহজাত বৈঠক হয়েছে। কোরিয় উপদ্বীপের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে তারা যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়ন নিয়ে কাজ করবেন।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি করেছিল উত্তর কোরিয়া বদলে দেশটির প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন।
বাঙালীয়ানা/এসএল