একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮, মাঠে নামছে সেনাবাহিনী। ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি ঠিক রাখতে ‘ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ অনুযায়ী সেনাবাহিনী বুধবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৯ পর্যন্ত মোট ১০ দিন কাজ করবে।
সামগ্রিক নিরাপত্তা ছাড়াও যে ছয়টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে, সেখানে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যরা থাকবে। তবে এক্ষেত্রে তারা নিজস্ব বাহিনীর পোশাকে থাকলেও কোনো ধরনের অস্ত্র বহন করবে না। ইভিএম কেন্দ্রে যেসব সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনীর নিকটতম টহল দল ও স্থানীয় ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
সেনাবাহিনী: মূলত তারা জেলা, উপজেলা ও মহানগর এলাকার সংযোগ স্থলে (নডাল পয়েন্ট) অবস্থান করবে, প্রয়োজন অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে টহল ও অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা সহায়তা চাইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করবে তারা। রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুসারে উপজেলা থানায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা ভোট গণনাকক্ষের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে সেনাবাহিনী।
সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের কাজে যাবতীয় সহায়তা দেবে সেনাবাহিনী। প্রয়োজনে পরিস্থিতি বিবেচনা বা নির্দেশক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এই বাহিনী।
সেনাবাহিনী ফৌজদারী কার্যবিধির ১২৭ থেকে ১৩২ ধারা অনুযায়ী কাজ করবে। অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে সশস্ত্র বাহিনীকে ডাকা হলে এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো উপায়ে বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা না গেলে ঘটনাস্থলে থাকা সর্বোচ্চ পদের ম্যাজিস্ট্রেট সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে পারবেন। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে যদি কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে কমিশন্ড অফিসার সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে পারবেন। সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটকে লিখিত নির্দেশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও মৌখিক নির্দেশ দেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব তা লিখিত আকারে দেবেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রায় প্রতিটি দল/জোটের দাবী ছিল সেনাবাহিনীকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেবার। এরই মধ্যে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে যে ভোটের মাঠে সকল দলের সমান সুযোগ নেই। এই জোটটি আরো বলছে যে, ২৪ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনী মাঠে নামবে, তখন মাঠে সমতা থাকবে এবং ২০ দলীয় জোট প্রচারণা চালাবে।
বাঙালীয়ানা/এসএল