ফিনিক্স
১.
বড়ো বয়েসে স্বর্গ শব্দটি অতটাও কাছের নয়
বরং নরকের খুব কাছে এখন ভালোবাসাদের গ্রাম
দীর্ঘ বৃত্তে, উপবৃত্তে সেখানে পাক খায়
প্রমিথিউসের হৃদয়খেকো ঈগল
ঈগলের বাজারদর কোনোকালেই মন্দ নয়
২.
যেতে যেতে সেবার একটি হলুদ দুপুর সঙ্গ নিয়েছিল
জানলার খড়খড়ি অর্ধেক নামিয়ে
বিশদে জানিয়েছিল
লক্ষ্মীর পাঁচালি কিংবা দীর্ঘ খাতিয়ানকিছুতেই তার আগ্রহ নেই
কেবল ম্রিয়মান নদীটিকে শ্রাবণ এনে দেবে বলে
বুকের ঝোরার পাশে আস্ত একটা অরণ্য পুষেছে
৩.
দাড়িবুড়োকে মাঝে মাঝে দেখি
সাঁকো পারাপার করে নিঃশব্দে
ঘাসের সবুজ গন্ধে তখনও আমি বিভোর
শালিখের ছেলেবেলা নিয়ে
আদুরে অপেক্ষা লিখি
৪.
রহস্য জানে দূরের পাহাড়
যেমন তুমিও
একটাই তো জীবন
না-হয় ঘুমের ভিতর দিয়ে হেঁটে যাব সারারাত
পৌঁছবো না, তা কি হয়?

স্বর্গ এবং
আমার শরীর ঠেলে উঠে গেছে যে পথ
স্বর্গ তার নাম
পথের দুপাশে বরফ-নদী আর নিষ্ফলা রোষের বাগান
তুমি কি দেখেছ সে পথ যেখানে
আলোমাখা জুয়ারী এক, বহুদিন নিখোঁজ
রাত্রির ইজেল জুড়ে
দক্ষ শিল্পীর মতো যে ভালোবাসা আঁকে আর ভালোবাসা মাখে দু’হাতে
তুমি কি চিনেছ তাকে
আশ্চর্য গন্ধর্ব জাতক প্রতিবার নতজানু যে, তার প্রতিটি মূর্খতার কাছে।

ডালিমের লাল প্রণয়
উপলখণ্ডের মতো মসৃণ জীবন আসলে
পারাপারহীন এক শূন্যতা
কুয়াশার ভিতর পরাশর আর সত্যবতীর মিথুন
কিম্বা ধূসর সংকটে
বিষণ্ণ সমুদ্রতীরে জেগে ওঠা লুব্ধক
কখনও রিক্তহাতে বর্ণহীন তুলিতে
নক্ষত্রখচিত রাত্রি আঁকতে আঁকতে
খুঁজে চলা ঠিকানাহীন ঈশ্বরের মৌল-নিঃসঙ্গতা
এই মরশুমে থোকা থোকা ডালিমের পেটে আসে লাল লাল মৃত্যুদূত
নিষ্পত্র বৃক্ষশাখ তবুও কী মায়াময় প্রণয়
বড়ো ভালোবাসতে ইচ্ছে করে ওদের
দাঁতে কেটে খুব নিঝুমে বলতে ইচ্ছে করে
ছদ্মবেশে বেঈমানী করবো না, বিশ্বাস করো
লেখক:

পিয়ালী বসু ঘোষ, কবি ও গদ্যকার, কলকাতা