২৮ মার্চ, ২০১৯, বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে নিজের জীবন তুচ্ছ করে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়ে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানাকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৯, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্যে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার রাতে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর সূত্রে এ খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। সোহেল রানার সাথে ফতুল্লা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রায়হানুল আশরাফকে পাঠানো হয়েছে।’
সন্ধ্যায় ফায়ারম্যান সোহেল রানাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হুসাইন, পরিচালক প্রশাসন ও অর্থ) হাবিবুর রহমান ও উপ-পরিচালক (অপারেশন) দেবাশীষ বর্ধন।
এর আগে বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৯, সকালে সিএমএইচ কমান্ডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. তৌফিকুল হাসান সিদ্দিকী বাঙালীয়ানা প্রতিবেদককে জানান, “সিএমএইচে চিকিৎসাধীন কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা এখনও আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। সোহেল রানার শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয়।”
বাঙালীয়ানা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে সোহেল রানার স্বজনরা হতাশা ও শঙ্কার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। তাদের ধারনা, সরকার উদ্যোগী হয়ে সোহেল রানাকে উন্নত চিকিৎসার্থে বিদেশে পাঠাবার ব্যবস্থা নিলে সোহেল রানা সুস্থ হয়ে তাদের মঝে ফিরে আসবে।
উল্লেখ্য, বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার কাজে বড় স্বয়ংক্রিয় মই (ল্যাডার) করে আটকে পড়া ব্যক্তিদের নামাবার প্রক্রিয়ার যুক্ত থাকা কালে সোহেল রানা যে ল্যাডারে ছিলেন সে ল্যাডারে আটকে পড়াদের জায়গা করে দিতে সোহেল রানা ল্যাডারের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসবার সময় হঠাৎ করে সোহেল রানার পা মইয়ের ভেতরে আটকে গিয়ে ভেঙে যায়। একই সময়ে চাপ লেগে তার পেট ছিদ্র হয়ে যায়। ঘটনায় আহত রানাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার দুটি অপারেশনের পর তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত না হওয়ায় সোহেল রানাকে নিবিড় পরিচর্যায় ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।
বাঙালীয়ানা/এসএল