রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছিল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অভিযান চলাকালে এক বিস্ফোরণ ঘটে।
র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন দেহাবশেষের মধ্যে অন্তত তিনটি পায়ের অংশ পাওয়া গেছে। অন্তত দুজন সেখানে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছে র্যাব।
নিহত জঙ্গিরা কোন সংগঠনের সদস্য সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি বেনজীর।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেছেন, বিধ্বস্ত ওই বাড়ির ভেতরে অবিস্ফোরিত আইইডি থাকতে পারে। র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখানে তল্লাশি করছে। তাদের কাজ শেষ হলে তারা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবেন।
সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৯, ভোর সাড়ে তিনটা থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। বাড়িটির ভেতর থেকে গুলি ও দুটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে বলে জানায় র্যাব। বাড়িটির আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

বাড়ীটি ঘিরে রেখেছে র্যাব
সোমবার সকালে র্যাবের পরিচালক (গণমাধ্যম) মুফতি মাহমুদ খান বাড়িটি ঘিরে রাখার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বসিলার মেট্রো হাউজিং এলাকায় বাড়িটি অবস্থিত। এটি একটি একতলা টিনশেড ভবন। জঙ্গি অবস্থানের তথ্য জানার পরিপ্রেক্ষিতেই বাড়িটি ঘিরে অভিযান শুরু করে র্যাব-২।
মুফতি মাহমুদ খান জানান, বাড়িটির আশপাশ থেকে যখন লোকজন সরানো হচ্ছিল, তখন ‘জঙ্গিরা’ র্যাবের অবস্থান টের পেয়ে গুলি করে। এ সময় একটা বিস্ফোরণ হয়। এরপর ভোররাত সাড়ে চারটা—পৌনে পাঁচটার দিকে আরেকটি বড় বিস্ফোরণ হয়। বাড়িটির ভেতর কতজন ‘জঙ্গি’ রয়েছে, এ ব্যাপারে র্যাব নিশ্চিত না। বাড়িটির তত্ত্বাবধানকারী জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
র্যাব আরও জানায়, বাড়িটি একটি মসজিদের পাশে। বাড়ির তত্ত্বাবধানকারী সোহাগ, তার স্ত্রী মৌসুমী ও বাসাটির পাশের মসজিদের ইমাম ইউসুফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
টিনশেড বাসাটি এক-দেড় মাস আগে ভাড়া নিয়েছিল দুজন। তারাই বাসাটিতে অবস্থান করছিল। ভাড়া নেওয়ার সময় তারা কোনও কাগজ জমা দেয়নি বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাবকে জানিয়েছে সোহাগ।
ভেতরে আরও বিস্ফোরক আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে ড্রোন ব্যবহার করা হয় এবং বোমা নিস্ক্রিয়করণ দল ও ডগ স্কোয়াড কাজ করছে।
বাঙালীয়ানা/এসএল