বিচ্ছেদের পর রুদ্র-তসলিমার লেখা পাল্টাপাল্টি কবিতা

Comments

বিচ্ছেদের পর রুদ্র এবং তসলিমা পাল্টাপাল্টি দুটো কবিতা লেখেন। তসলিমা শুরু করেন দুধরাজ কবিতাটি দিয়ে, উত্তরে রুদ্র লেখেন সামঞ্জস্য। দুটি কবিতাই দেয়া হলো:

দুধরাজ । তসলিমা নাসরিন

কেউ শখ করে পাখি পোষে
কেউ-বা কুকুর
আর আমি এক-পা এগিয়ে গিয়ে
একজন কবিকে স্বগৃহে শখ
করে পালন করেছি
পাখা নেই, তবু সে উড়াল দেবে
কেশরের কিচ্ছু নেই
তবু সে ঘাড়ের রোঁয়া
ফুলিয়ে দাঁড়াবে

খেতে দিই
বুকের বল্কলে ঢেকে বলি
ঘুম যাও
কবি কি ঘুমায়?

বিড়াল-নরম হাত
থেকে বের হয় তার ধারালো নখর
আঁচড়ে কামড়ে আমাকেই আহত করে

বাদুড়ের মতো ঝুলে থাকে
আমারই পাঁজরায়
কবি কি ঘুমায়?

তারচে’ কুকুর পোষা ভাল
ধূর্ত যে শেয়াল, সে-ও পোষ মানে
দুধকলা দিয়ে আদরে-আহ্লাদে এক কবিকে
পুষেছি এতকাল
আমাকে ছোবল মেরে দেখো সেই কবি
আজ কীভাবে পালায়।

তুমি বরং কুকুর পোষো । রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

তুমি বরং কুকুর পোষো
প্রভুভক্ত খুনসুটিতে কাটবে তোমার নিবিড় সময়,
তোমার জন্য বিড়ালই ঠিক,
বরং তুমি বিড়ালই পোষো
খাঁটি জিনিস চিনতে তোমার ভুল হয়ে যায়
খুঁজে এবার পেয়েছ ঠিক দিক ঠিকানা

লক্ষী সোনা, এখন তুমি বিড়াল এবং কুকুর পোষো
শুকরগুলো তোমার সাথে খাপ খেয়ে যায়,
কাদা ঘাটায় দক্ষতা বেশ সমান সমান।
ঘাটাঘাটির ঘনঘটায় তোমাকে খুব তৃপ্ত দেখি,
তুমি বরং ওই পুকুরেই নাইতে নামো
উংক পাবে, জলও পাবে।

চুল ভেজারও তেমন কোন আশঙ্কা নেই,
ইচ্ছেমত যেমন খুশি নাইতে পারো।
ঘোলা পানির আড়াল পেলে
কে আর পাবে তোমার দেখা।

মাছ শিকারেও নামতে পারো
তুমি বরং ঘোলা পানির মাছ শিকারে
দেখাও তোমার গভীর মেধা।

তুমি তোমার স্বভাব গাছে দাঁড়িয়ে পড়ো
নিরিবিলির স্বপ্ন নিয়ে আর কতকাল?
শুধু শুধুই মগজে এক মোহন ব্যধি

তুমি বরং কুকুর পোষো, বিড়াল পোষো,
কুকুর খুবই প্রভুভক্ত এবং বিড়াল আদরপ্রিয়
তোমার জন্য এমন সামঞ্জস্য তুমি কোথায় পাবে ?

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.