এশিয়া কাপ ফাইনালে লিটন দাসের সেই আউট নিয়ে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালতেই যেন নতুন করে তা সামনে নিয়ে আসল বাংলাদেশী হ্যাকাররা। বাংলাদেশের বেশির ভাগ সমর্থক আউটটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তার জের ধরেই ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ‘হ্যাক’ করেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা, এমনই এক খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। তারা জানিয়েছে, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স (সিএসআই) নামের বাংলাদেশের একটি গ্রুপ কোহলির অফিশিয়াল সাইট ‘হ্যাক’ করেছে।
এশিয়া কাপ ২০১৮ এর ফাইনালে ব্যক্তিগত ১২১ রানে মহেন্দ্র সিং ধোনির বিতর্কিত স্টামপিং এর শিকার হন বাংলাদেশী ওপেনার লিটন কুমার দাস। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় লিটনের পা লাইনে ছিল। অনেকগুলো অ্যাঙ্গেল থেকে দেখেও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। ফলশ্রুতিতে ‘জুম ইন’ করে দেখার সিদ্ধান্ত নেন তৃতীয় আম্পায়ার রড টাকার। জুম করার পর দেখা যায়, লাইনের ওপরেই ছিল লিটনের পা। তবে লাইনের পেছনে কোনো অংশে তাঁর পা ছিল না। ‘অন দ্য লাইন’-এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আম্পায়ারের হাতে এবং লিটনকে আউট ঘোষণা করা হয়। যদিও ‘বেনিফিট অব ডাউট’ ব্যাটসম্যানের পক্ষেই যাওয়ার কথা।
ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন সময়েই লিটনের সেই আউট নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে। দুই দেশের সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই সিএসআই কোহলির সাইট ‘হ্যাক’ করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। এই সংগঠনটি কোহলির সাইটে আইসিসির জন্য প্রশ্ন রেখেছে, ক্রিকেট কি ভদ্রলোকের মতো খেলা হচ্ছে?
কোহলির সাইটে ‘গ্যালারি’ অংশে তিনটি ছবি আপলোড করেছে এই সংগঠন। প্রথম ছবির বাঁ পাশে লেখা ‘হ্যাকড বাই সিএসআই’। তার ওপরে স্যুট পরিহিত একটি দেহাবয়ব, যার মস্তিষ্ক নেই এবং পেছনে পাখির ডানা। ডান পাশে লিটনের সেই আউটের পাঁচটি ছবি একত্রে সংযুক্ত করে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। পরের ছবিতে চারটি অংশ—যেখানে বাঘের ছবিসহ ওপরে লেখা সিএসআই। ডান পাশে স্যুট পরা সেই দেহাবয়ব আর নিচে বাঁ পাশে লিটনের আউটের সেই ছবি, যেখানে ছবির ওপরে একটি বার্তাও রয়েছে। পরের ছবিতে সেই বার্তা রয়েছে পুরো অংশে।
বার্তাটিতে বলা হয়েছে, ‘প্রিয় আইসিসি, ক্রিকেট তো ভদ্রলোকের খেলা? সব দলেরই কি সমান অধিকার থাকা উচিত নয়? দয়া করে ব্যাখ্যা করো, এটা কীভাবে আউট? তোমরা যদি বিশ্বের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাও এবং আম্পায়ারদের শাস্তি না দাও, তাহলে যতবার সাইট পুনরুদ্ধার করবে ততবারই হ্যাক করা হবে। ভারতীয় ভাই-বোনদের বলছি, তোমাদের অসম্মান করছি না। অনুগ্রহ করে একটু ভেবে দেখ, তোমাদের দলের সঙ্গে এমন অবিচার হলে কেমন লাগত? ম্যাচে প্রতিটি দলকে সমান চোখে দেখা উচিত। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।’
টানা খেলার ধকল থেকে কোহলিকে বিশ্রাম দেওয়ায় এশিয়া কাপে খেলেননি কোহলি। তাকে ছাড়াই ফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রোহিত শর্মার ভারত। ২ অক্টোবর, ২০১৮ এর সন্ধ্যায় দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা গেছে ছবি ও বার্তাটা এখনো রয়েছে।
বাঙালীয়ানা/এইচকে/জেএইচ


