ভালবাসা
ভালবাসার চেয়ে ঢের সুখ ভাল না বাসায়
প্রেমের দরকষাকষি অহরহ,
ভাল না বাসা ঠিক যেন দুপুরের নিশ্চিন্ত ঘুম
যেন মায়ের ডাকে পড়ন্ত বিকেলে খেলাশেষে
ঘরের ছেলের ঘরে ফেরা।
একবার ভালবেসে দেখো
সন্দেহের তেলাপোকা, হিংসা, দ্বিচারিতা ও ছলনার
ঘুণপোকাগুলো কামড়ে ধরছে
কণ্ঠা ও বিশ্বাসে।
ভাল না বাসলে চামড়া টানটান থাকে;
কোনও টোনার লাগে না
ঘাটতি পড়ে না ভালবাসায়।

জলপাই রোদ
তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে চিরকুটে একটা লেখা দেখলাম—
‘এখানে জলপাই রোদ’
ঢুকে পড়লাম রোদের ভেতর
দেখলাম, তোমার চুমুর মতো
একটা দীর্ঘ রোদ পোহানো মহুয়া
সেখান থেকে রস চুঁইয়ে চুঁইয়ে
পড়ছে আমার শরীরে।
মাতাল নদীতে সাঁতার কাটতে কাটতে
তোমার তীরে নাও ভেরালাম
দেখলাম, তোমার সদ্য স্নান করা
খোলা পিঠ
গামছা দিয়ে আলতো করে মুছে দিলাম
পিঠে লেগে থাকা জলপাই রঙের জল।
তুমি সামনে এসে দু’হাত দিয়ে আমার মুখটা ধরলে
ঢুকে গেলাম তোমার ঠোঁটের শরীরে।
এখানে যে এত উৎসব বুঝিনি আগে
নাগরদোলায় চড়তেই
কে যেন চুলের মুঠি ধরে বলল,
‘ওঠ ছুঁড়ি আজ তোর বিয়ে…’
আচমকাই হারিয়ে গেল
সেই জলপাই রোদ।

ভ্যালেন্টাইন ডে
কাল ভ্যালেন্টাইন্স ডে মনে আছে তোমার?
কিভাবে অভিবাদন জানাবে প্রিয়তমাকে?
প্রিয়তমার চেয়েও কেউ
প্রিয় আছে তোমার?
বলেছিলে প্রিয়তমা ছাড়া
তোমার পৃথিবী নাকি খা খা করে
অথচ আগেই চলে গেছে কিস ডে
তার আগে প্রপোজ ডে
তারও আগে হাগ ডে, রোজ ডে।
কত কি কিংবা আরও কিছু
এতগুলো স্পেশাল ডে’তে
আমার জন্য একটিও আসেনি লাল গোলাপ
আসেনি কোনও প্রেম নিবেদনের
আকার ইঙ্গিত
পাইনি একটিও রডোডেনড্রন মাখা
ভোর
না এখনও আসেনি নীল খামে ভরা কোনও দীর্ঘ চুম্বন
পাইনি হোয়াটসঅ্যাপে কোনও ঘনিষ্ঠ সেলফি
বা প্রেমের কবিতার উত্তপ্ত কোনও দুপুর।
রাত বারোটা বেজে গেল
কই কই, এখনও তো ঢুকল না
প্রেম দিবসের রঙিন মাছগুলো
স্ক্রিনের দেওয়াল ছুঁয়ে।
সত্যি তুমি ভালবাসো তো? নাকি প্রেমিকের ভান?
আমি তো ভেবেছিলাম প্রেমিকের মতো
এখন দেখছি, তুমি সত্যি প্রেমিক!

সত্যি বলো
সত্যি করে বলো তো কোনও দিন বাদুড় ঝোলা হয়ে এসেছ আমার কাছে?
নাকি বাদুড়ের ভাইরাস নিয়ে ঢুকে পড়েছ আমার ভেতরে?
কোনও দিন কাউকে কি বলেছ
বদমেজাজ
পান থেকে চুন খসলেই রণমূর্তি
অথবা অল্পেতে সন্তুষ্ট নয়?
আমি তো কোনও দিন সীতার মতো ছিলাম না
লক্ষ্মীর পাঁচালীও পড়িনি সেভাবে
দ্রৌপদীর ছায়া ছিল না আমার মধ্যে।
আটপৌরে গৃহবধুও নই
বাঘ্রসম খিদে আমার
কথা না রাখলে আঁচড়ে দিতে পারি
অপেক্ষায় কাটিয়েছি শতকের পর শতক
ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে সুনামির মতো
আছড়েও পড়তে পারি
উপেক্ষার বুকে বরং
তবু বাদুড় ঝোলা ঝুলতে ঝুলতে
উগ্রতার রঙ দেখতে কি চাওনি
একবারও?
কোনও দম দেওয়া পুতুল
বা ছলনাময়ী কিংবা
‘সাত চড়ে রা করে না’ এমন একজন
এসেছে কি
না। আসলে একবার বলো
শুধু একবার, একবার মিথ্যে করে
সত্যিটা বলো
তোমার চোখেই আমার মৃত্যু

লেখক:
মধুবন চক্রবর্তী
কবি, লেখক, আবৃত্তিকার, কণ্ঠশিল্পী ও টিভি উপস্থাপক; কলকাতা
ফিচার ফটো: Pixabay থেকে সংগৃহীত ছবি থেকে।