স্বগত সন্তরণ
কিছু বিশ্বাস
কিছু দীর্ঘশ্বাস
এই তো জীবন
কিছু আশ্বাস
কিছু হতাশ্বাস
তাড়া করে সারাক্ষণ
জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি
দিন-মাস-বছর-শতাব্দী
শুধু বিভ্রাট সঞ্চরণ
দুর্যোগ বিপর্যয়
পদে পদে ভয়
নৈমিত্তিক সমর্পণ
যতোটুকু সুখ
ততোধিক দুখ
জীবন যন্ত্রণা প্রবণ!
ভোগের চেয়ে দুর্ভোগ
যাপন থেকে দুর্যোগ
পায়ে পায়ে সর্বক্ষণ;
বিস্রস্ত জীবন এখানে
দিনে দিনে বেড়ে ওঠে
উদ্ভ্রান্ত বিলয় প্রবণ।
প্রস্তাবনা বিহীন
বিপুলা বিশ্ব বিপিন
জীবন এক স্বগত সন্তরণ!
২২ মে ২০২০

তখনও পারেনি- এখনও পারে না
বলে যাচ্ছি, নিশ্চিত থাকো তোমরা
এখানে আবার ফুল ফুটবে
আগাছা জন্মাবে যত্রতত্র;
চাষবাস ভুলে যাবে মানুষ!
দৌড়োবে সবাই উর্ধ্বশ্বাসে, ছুটবে,
ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হবে; মুখ থুবড়ে পড়বে
তারপরও ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে আরো কিছুকাল
ছুটবে; টুটোফাটা বাসনার বাসন পেতে পেতে
একে অন্যের দুয়ারে-দুয়ারে,
ঘাটে-ঘাটে ঠোকর খেতে-খেতে-
তারপর কোনো এক ক্লান্ত অবসন্ন অবসরে
যোগ-বিয়োগ গুণ-ভাগের খাতা খুলে বসবে;
দেখবে, চলতে-চলতে ছুটতে-ছুটতে সে
পৌঁছে গেছে হাজার বছর পেছনে,
যেখান থেকে সে শুরু করেছিলো;
ফল আহরণ শিকার চাষাবাদ পশুপালন ইত্যাদি,
ঠিক সেখানে- সভ্যতার শৈশবে- আদি বৈভবে!
হয়তো- নয় সেই একেবারে প্রস্তরযুগ;
কিন্তু তার থেকে উত্তম; সেও বলা যাবে না!
অগ্নি পানি ভূমি হাওয়া শূন্যতা–তখনও মানুষ
বুঝতে পারেনি- বশে আনতে পারেনি;
এখনও মানুষ ভয় করা- আত্মসমর্পণ-
ভিক্ষা চাওয়া ছাড়া কিছুই পারে না!
১৫ মে ২০২০

বালুকা বিস্তার
একদিন বালির ভিতর মুখ গুঁজে নিয়েছি আমি
দেহতত্ত্ব জীব জীবাশ্ম জীবন গড়ার খবর;
যেখানেই দেখেছি কবর –
খোঁজ নিয়ে জেনেছি অস্তিত্ব কি নিদারুণ করুণ, নশ্বর!
যতো বাহুল্য, বেদনা যন্ত্রণা জঞ্জাল বেড়েছে ততো
কিছুতেই কেউ থাকেনি অক্ষত অক্ষয় অমর,
শুধু কিছুকাল হরণে বরণে স্মরণে লিপ্সু ভেবেছে
বুঝি থেকে যাবে জীবন যৌবন প্রাণ ক্ষমতা –
রচিত রসনায় অবিকল ব্যাবিলন উদ্দান,
পিরামিড যেমন অজর অমর বিস্ময় মানস সরোবর;
অনন্ত প্রহর!
বালির বিলাসী বিলীন ভার কতো যে অসাড়;
একা সে যতো না গ্রথিত প্রোথিত সংহত
তার অধিক তার বিস্তৃত মরীচিকা বিস্তার।
২৩ মে ২০১৯

মানুষ মাত্রই উদ্বাস্তু
মানুষ মাত্রই উদ্বাস্তু
কেউ আজ- কেউ কাল
কেউ কখনো- কেউ এখনো।
জীবন ভাসমান
ভাসমান প্রাণ
চলমান অনন্ত উড়ান।
হেঁটে-হেঁটে ভেসে-ভেসে
কোটি কোটি বছরের পাড়
এখনো জীবন খোঁজে
তার গন্তব্য- গন্তব্যহীনতার।
২৪ মে ২০২১

দিনলিপি
মাঝেমাঝে ভুলে যাই আমিও মানুষ-
বৃক্ষের ন্যায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা আমার কাজ নয়;
পাথরের ন্যায় পড়ে থাকা অনড়-অচল সেও মানুষের কাজ নয়!
তবু নির্বাক নিশ্চল লতা-গুল্মের ন্যায় জড়িয়ে-পেঁচিয়ে
আঁকড়ে বসে থাকা চেয়ারে নয়তো পুঁইয়ের ডগার মতো
এলিয়ে দেহ পড়ে রই বিছানা-তোশক-চাদরে
ধূলোময়লার আস্তরণ যেন।
সকাল হারায় ঘুমের অতলে- দুপুর গড়ায় চায়ের টেবিলে-
চায়ে টোস্ট ভিজিয়ে ভিজিয়ে-
দৈনিকের গায়ে চোখ বুলাতে বুলাতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা;
নির্লিপ্ত দিন কর্মহীন বয়ে চলে ধান্দাবিহীন;
দ্বন্দে-ধন্ধে হেলায় অবহেলায়।
২৬ মে ২০১৭

মন বোঝে মন
মন চায় তো মনে রেখো
ভুলতে চাও তো ভুলে যেও
মনে রেখে ভুলে গিয়ে
পাওয়া হয় না কাউকে
মানুষের ঘর হয় না মনে।
মনের কোনো ঘর হয় না কোনোখানে;
মন ঘরহীন ঠিকানা বিহীন বিবাগী অর্বাচীন!
কখনো-বা মন মিলে গেলে
বোঝাপড়া হয়ে গেলে মনে মনে
কিছু কাল থাকে হয়তো মোহে মোনের টানে
তাই বলে ভেবো না পেয়ে গেছো মন চিরতরে
এই দেখবে মন মগ্ন অন্য মনে আবার মূহুর্তে
কখন গিয়েছে পাল্টে ছন্নছাড়া আবেগে
হাওয়ায় দিয়েছে উড়াল,
নয়তো ভেসে গেছে জলের প্রবল স্রোতে।
যেনো জানে না চেনে না মন মনকে!
বড় বিস্ময় এই মন
মায়াবী অধরা মরীচিকার মতন।
শত-সহস্র যুগ শতাব্দী ধরে চলছে খনন
তবু মানুষ বোঝেনি মানুষের মন!
২৭ মে ২০২২

প্রত্যাখ্যান
আমার মৃত্যু নেই আমি অমর
আছে শুধু রূপের বদল রূপান্তর;
কিন্তু আমি তো চেয়েছি মুক্তি
চাই না হতে কারো খেলার সামগ্রী
হোক যতো তা মহান- শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি
চাই নির্মোহ নিরাসক্ত নিরঙ্কুশ বিলুপ্তি।
যা হবার হোক তা এখনই
দিয়েছি পেয়েছি যা, সে আর চাই না
ফিরিয়ে নাও স্বর্গ-মর্ত্য তোমার ছলনা!
২৯ মে ২০২০

লেখক:
মাকসুদুল আহসান, কবি ও চিত্রকর