মাহাদী নাকি মাহমুদ পলাশ নাকি মো: পলাশ আহমেদ?

Comments
রোববার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯, বিকেলে ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজ ছিনতাইকারী মাহাদীর আসল পরিচয় মিলেছে। তার নাম মাহমুদ পলাশ (২৪)। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের পি আর জাহানের ছেলে পলাশ।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯, সকালে জানান যে তাদের ডাটাবেইজে রক্ষিত তথ্য অনুযায়ী যুবকের পরিচয়- নাম: মো. পলাশ আহমেদ, পিতা: পিয়ার জাহান সরদার, ঠিকানা: দুধঘাটা, পিরোজপুর, সোনারগাঁও, নারায়গঞ্জ। ঐ বিমানের যাত্রী তালিকা অনুযায়ী সে আভ্যন্তরীন রুটের (ঢাকা-চট্টগ্রাম) যাত্রী ছিল। তার নাম উল্লেখ ছিল AHMED/MD POLASH. সিট নং ছিল-17A.
এদিকে রোববার রাতে সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ পলাশের বাসায় এসে একটি ছবি দেখিয়ে তার বাবাকে বলেন- এটা আপনার ছেলে কিনা। এসআই আবুল কালাম বলেন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে একটি তথ্য আসে যে মেহেদী বা মাহাদী হাসান নামের বা এ ধরনের কেউ দুবাই যাবে এমন কেউ সোনারগাঁওয়ে আছে কিনা। পাশাপাশি মৃতদেহের একটি ছবি পাঠানো হয়েছিল। ওই ছবি নিয়ে তিনি রাতে পলাশদের বাড়িতে গেলে তার পরিবার পরিচয় নিশ্চিত করে। পরে ছবি দেখে এবং দুবাই যাওয়ার বিষয়টি মিলিয়ে পরিবার নিশ্চিত হয় নিহত ব্যক্তি মাহমুদ পলাশ।

এখানে উল্লেখ্য, এযাবৎ তার তিনটি নাম প্রকাশ পেয়েছে। মাহাদী, মাহমুদ পলাশ, মো: পলাশ আহমেদ, নাম তিনটি সামরিক বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকেই পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

জানা গেছে, ২০১১ সালের দিকে স্থানীয় তাহিরপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে। এরপর সোনারগাঁও ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করেনি। পলাশের বাবা ১৯৯০ সাল থেকে বিদেশে থাকতেন। প্রথমে কুয়েত এবং পরে সৌদি আরবে ছিলেন তিনি। প্রবাসী বাবার দেওয়া টাকা-পয়সা নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন করত পলাশ। এর মধ্যে নাচগান থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র শিল্পে জড়ায় পলাশ। কয়েকটি শর্টফিল্মও তৈরি করে বলে জানায় পরিবার।

একটা সময় বাসা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে পলাশ। বাড়িতে তেমন যেত না। মাঝে মধ্যে টাকার প্রয়োজন হলে বাড়ি যেত। পলাশের বাবা গত সাত বছর আগে বিদেশ থেকে স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসেন। এলাকায় একটি মুদি দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। পলাশরা চার ভাইবোন। তারা তিন বোন এবং এক ভাই। মা রেনু আক্তার গৃহিণী। পলাশের বাবা বলেন, গত ২০-২৫ দিন আগে বাড়িতে আসে পলাশ। সাধারণত বাড়িতে সে এতদিন থাকতো না। গত ২০-২৫ দিনে অনেকটা পাল্টে যায় সে। মসজিদে যাওয়া-আসা করে, এমনকি আজানও দিয়েছে।

তিনি জানান, গত শুক্রবার বাসা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তার মাকে বলে যায়- ভ্রমণ ভিসায় আমি দুবাই যাচ্ছি। তবে দুবাই যাওয়ার বিষয়ে বাবাকে কিছু বলেননি পলাশ। তার বাবা বলেন, ছেলের উচ্ছৃঙ্খল জীবন নিয়ে তিনি এতটাই অতিষ্ঠ ছিলেন যে, তিনি চেয়েছেন- হয় ছেলে ভালো হোক, না হয় মারা যাক।

ছবি ও তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.