আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৮, টাঙ্গাইলের কালিহাতীর ছাতিহাটী গ্রামের মুন্সিপাড়ার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী একাদশ সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে প্রার্থিতার ঘোষণা দেন।
লতিফ সিদ্দিকী ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হন তিনি। এরপর ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি এমপি নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লতিফ সিদ্দিকী ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিউ ইয়র্কে হজ ও তাবলিগ জামাত এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে মন্তব্যের পর দল থেকে বহিষ্কৃত এবং মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্যপদ হারান।
এরপর টাঙ্গাইল-৪ আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী। তাকে এবারও দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী এবার বিএনপিকে সঙ্গে কামাল হোসেনের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামতে চাপ দেন বলে জানান লতিফ সিদ্দিকী।
লতিফ সিদ্দিকী আরও বলেন, “এই ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের দেশবাসী চেনেন। ঐক্যফ্রন্টের বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে কী করেছে, তা সবরাই জানা। তাদের দ্বারা মানুষের কোনো উপকার হবে না। আমি নির্বাচনে এসেছি ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধু হত্যার বেনিফিসিয়ারিদের বিরুদ্ধে, অত্যাচারী-শোষকদের বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনতার পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে।”
কালিহাতীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়া সত্ত্বেও কেন স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে লতিফ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, “আওয়ামী লীগের মনোনীত ব্যক্তির উপর স্থানীয় জনগণ ও নেতাকর্মীদের আস্থা নেই। তাই কালিহাতীর মানুষের ভালোবাসা ও চাপেই আমি নির্বাচনে এসেছি।”
নিজেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক দাবি করে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “আমি আওয়ামী লীগের বাইরের কেউ নই। কালিহাতীর আসনটি আওয়ামী লীগের। কালিহাতীর মানুষ আমার মূল শক্তি। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এই আসনটি উপহার দেওয়ার জন্যই নির্বাচনে লড়ব।”
শনিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৮, বিকেলে লতিফ সিদ্দিকী ঢাকা থেকে কালিহাতী এসে এ ঘোষণা দেবার সময় লতিফ সিদ্দিকীর কয়েক হাজার ভক্ত-সমর্থককে আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা যায়।
বাঙালীয়ানা/এসএল