শিমুল সালাহ্উদ্দিনের কবিতা

Comments

আরাধনা

এসো, একই বিন্দুতে পড়ে থাকি আজ, তন্ময়… ধ্যানবিন্দুতে পড়ে থাকি, একা হয়ে দুইজনে, তন্ময়, আর এক গান ছেড়ে রাখি, মৃদুলয় কাহারবার, আর সেই বিন্দুতে, ঐ চূড়ার চূড়ায়, চলো রাখি চুমুশ্লেষঈর্ষা ও ঘৃণা— যা কিছু তরল, এসো, নিয়ে এসো বিবশ বিকার তোমার, কল্পনাসীমার পর্দা ছিড়ে, এসো, ওষ্ঠে তুলে দিয়ে পবিত্রতা, প্রার্থণা করো, বিন্দু বাড়িয়ে দিয়ে, চুপ করে, বুজে থাকো চোখ…

আরামে নয়, পরম বিন্দুর ধ্যানে।

এসো, বিন্দুতে পড়ে থাকি আজ তন্ময়, সমূহ সম্ভাবনা ও জালের ভেতর দিয়ে, দেখা হবার আগ পর্যন্ত এসো, একই বিন্দুতে পড়ে থাকি আজ তন্ময়; তীরের ফলার মতো নিজেদের দিকে ছুটে আসবার আগে…

এসো একই বিন্দুতে পড়ে থাকি আজ তন্ময়…ধ্যান ও সংযমে…

লিপি

শিলালিপি কথা ক’ও, আমাকে উড়তে দাও তোমার ডানায়
উড়ে দেখি একবার পৃথিবীর মায়াজাল থেকে নিস্তার মেলে কি না!
কী ব্যাজস্তুতি! মলাটবদ্ধ ভাষারা চেয়েছে ছুটি, অথচ আকাশ রজস্বলা,
রক্তপতনের শব্দকে বৃষ্টিগান বলে ভুল করে লোকে…
এদিকে, একা দাঁড়িয়ে আগুনে আমার লাশ—
সম্বল বলতে পোড়াকাঠ আর অযত্ন নদীর হাওয়া
আবার জন্মাতে ভয় হয়, পোড়া বুক চিরে দিকশূন্যপুরের দিকে উড়ে গেছে
যে অন্ধ চিল, তাকে এনে ডেকে কী লাভ শুনিয়ে দুপুরের রূপকথা!

শিলালিপি, আমার পাশে একক মরণ, নীলবসন, সুন্দর…

সে আসে

সে আসে, ঘুরে ঘুরে আসে।

আসে যেনো এক সুবাতাস, স্রোতস্বিনী তরঙ্গ এক, অধীর নদীর

সে আসে, বুকভরা উচ্ছ্বাসে, শুধু বেপরোয়া জল নিয়ে ধূ ধূ বালুচর
প্লাবিত করে দিতে আসে, ঘুরে ঘুরে কথা কয়,
চোখের ভেতর থেকে, আরো সুগভীর চোখের ভেতরে—

সে আসে, ঘুরে ঘুরে আসে
যেনো এক জানালায়, কোন দিন না আসা ভোর
হঠাৎ এসেছে বলে, কোলাহলে, আড়মোড়া ভাঙছে, জেগে ওঠা ঘুমের শহর

সে আসে, ঘুরে ঘুরে, যেনো নির্বাচনের আগে
দেয়ালে দেয়ালে মারা অধিকারচিকা—
বহুরঙচঙে, সে আসে যেনো বাঁবাহুলগ্না লাজভারানত আমার প্রেমিকা।

সে আসে আমার কাছে ঘুরে ঘুরে একাকী নদীর মতোন একা।

এই আলোকিত উজ্জ্বল শহর, এর ইতিহাস, যত সব শব কিংবদন্তী
কথা কয়ে ওঠে স্মৃতিজাগরণ আর স্নায়ুর ভেতরে থাকা ধ্যানের সলীলে—
সে এলে…

সে আসে, দূর থেকে মনে হয়,
মেঘলাসবুজমায়ায়ভরা যেনো এক কামুক হরিণী,
রোদের সুরভি মেখে, হেমন্তশিশিরভোরে,
সারাগায়ে আলস্য নিয়ে বসে আছে—

সে আমার রাই।
এলে, না এলেই ভালো হতো বোধ করে,
আমি, মরে মরে যাই।।

একটা প্রশ্নের জন্য

প্রাণখোলা প্রান্তর
ভাসছে
হিজল বনের পাশে

ঝরাফুল বুকে
কী গভীর অহম তার!

শরীরঘ্রাণের মতো
ফেটে ফেটে পড়ছে
প্রত্যেক দুঃখঢেউ

মরণের কাঁটা
গেঁথে আছে
পিপাসার বুকে

অমৃত চাখার অসুখ;
চারপাশে সংকেতবিহীন
কণ্ঠরব আর
বিশ্বাস-ঘাতিনী ভাষা ও উপহাস…

হে অনন্তধামের সন্ধ্যা
একা হিম কারো
বুকের ভেতরে
প্লাটফর্ম আছে নাকি
নির্জন কোনো!

যেখানে ধুলোয় ভরা গ্রন্থে
কেবলি প্রেরণাভাষা লেখা—

লেখা,
মাখন ঊরুর জোড়ে,
খোলা গম্বুজ আর তার অবয়বে
কী রকম সারল্য!

লেখা,
আশ্চর্য জলের মতোন
সজলকালো থেকে বেরিয়ে
অন্বয়ীনীল দ্রিদিম জ্যোৎস্না
বাজবে কোন নিশিডাকসুরে!

যাকে এখনো একটুও দেখা হয়নি—
দাঁড়ানো যায় তার
একা হিম সনখ বুকের ভেতর
অকস্মাৎ!

হঠাৎ হঠাৎ যে কী না
ইচ্ছা-বন্দী আয়ু ও
অভিমানিনী ফুল
মুচড়ে দিয়ে আলুথালু
হেসে ওঠে, জলঘরে,
একা আয়নার সামনে
তাকে পেয়ে বসে
নিজেকে ছিঁড়বার নেশা—

(দেয়াসিনী তোর,
একা হিম বুকের ভেতর
মৃত সরোবর আছে নাকি!)

উপচ্ছায়াময় রক্তগন্ধ,
আলোড়ন—
হরিৎ ও বিষাদে
মিশে যাওয়া ঝনঝন—

একা এক হিম
বুক নিয়ে দুজন হয়ে
হেসে ওঠা,
জেগে ওঠা— হায়!
এমন একা হিমে কার,
বুকের ভেতরে,
দুম্ করে দাঁড়িয়ে পড়া যায়!

দিনের বিবিধ ক্ষতে
যেভাবে অস্তপ্রলেপ লাগে,
রাত্রি নামে সন্ধ্যায়,

তেমন স্মৃতির ফিতায়
লেপে দিয়ে
গোবরজলের মাটি
সন্ধ্যা নামলেই
আমার ভীষণ
উড়ে যেতে ইচ্ছে করে,
নৈঋতের দিকে…

ইচ্ছে করে
একা হিম কারো
বুকের ভেতরে
দুম্ করে ঢুকে পড়ি—
দেয়ালে ঠেঁসে ধরে
প্রশ্ন করি
উভঠোঁট পরশদূরে রেখে—

জগতের সত্যগুলি
প্রতিমুহূর্তে বদলে যায়
তোমার কী জানা আছে
শঙ্খিনী
?”

লেখক:
Shimul Salahuddin
শিমুল সালাহ্উদ্দিন
কবি, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও সাহিত্য সম্পাদক; ঢাকা

ফিচার ফটো: Pixabay থেকে সংগৃহীত ছবি থেকে।

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.

About Author

বাঙালীয়ানা স্টাফ করসপন্ডেন্ট