ভিডিওটিতে শামীম সাঈদী বিএনপির দূর্নীতির দায়ে দন্ডিত কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দূর্নীতির দায়ে দন্ডিত ফেরারী আসামী জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাশাপাশি নিজের বাবাকে মুক্ত করতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জামায়েত এ ইসলামীর প্রচার মাধ্যম হিসেবে পরিচিত একটি ফেইসবুক পেজে সোমবার মধ্যরাতে আপলোড করা হয় শামীম সাঈদীর ভিডিও ক্লিপটি।
জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদীকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি সাঈদী খালাস চেয়ে পুনর্বিবেচনার আবেদন করে। আর রাষ্ট্রপক্ষ তার শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের জন্য রায়ের পুনর্বিবেচনা চায়। কিন্তু আপিল বিভাগ গত বছরের ১৫ মে উভয় পক্ষের আবেদনই খারিজ করে দেয়। ফলে সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডই বহাল থাকে। এখন সাঈদী কারাগারে সাজা খাটছে।
আদালতের চূড়ান্ত রায়ে দণ্ডিতের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিষয়ে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির স্থানীয় এক সংবাদ পোর্টালের সাথে সাক্ষাৎকারে বলেন, “এ ধরনের ভিডিও তৈরি করে এভাবে ভোট চাওয়া নিঃসন্দেহে দেশের আইনের পরিপন্থি। আমাদের সংবিধানবিরোধী। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল করা উচিৎ। আমরা সবসময়ই বলে আসছি, যারা দণ্ডপ্রাপ্ত সেটা দুর্নীতির দায়েই হোক বা যুদ্ধাপরাধের দায়ে, যে কোনো ক্রিমিনাল অফেন্সের (ফৌজদারি অপরাধের) জন্য দণ্ডপ্রাপ্তদের নাম নির্বাচনী প্রচারণাতে ব্যবহার করা যাবে না। খালেদা জিয়া, সাঈদী, তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে সে নির্বাচনী আচরণবিধি গুরতর লঙ্ঘন করেছে। দ্রুত বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের দেখা উচিৎ। এবং সে যদি এগুলো প্রত্যাহার না করে তাহলে প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তির মুক্তির কথা বলে ভোট চেয়ে শামীম সাঈদী শুধু বিচার ব্যবস্থা না, গোটা সংবিধানকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।এটা তো সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ভোট চাওয়া। বিজয়ের মাসে এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ করে সে ৩০ লাখ শহীদের সঙ্গে উপহাস করছে সে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী গোটা দেশ-জাতিকে সে উপহাস করছে।”
এ বিষয়ে কথা বলতে শামীম সাঈদীকে ফোনে পাওয়া যায়নি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপির কোনো নেতাও এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি।
বাঙালীয়ানা/এসএল