সংবাদ পরিবেশনের স্বার্থে পেশাগত কাজ করতে গিয়ে প্রশাসনের রোষে পড়ে ৩২ জন নারী সাংবাদিক জেল খাটছে বলে জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) তার এক রিপোর্টে। বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা এই সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে খবর করতে গিয়ে সারাবিশ্ব জুড়ে জেলে রয়েছেন ৩২ জন নারী সাংবাদিক।
শুক্রবার, ৮ মার্চ, ২০১৯, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সিপিজে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই মুহূর্তে জেলে থাকা ২৫১ জন সাংবাদিকের মধ্যে ৩২ জন নারী। ওই সাংবাদিকদের বেশির ভাগই তুরস্ক ও চীনের বাসিন্দা। তুরস্কের ১৪ এবং চীনের ৭ জন সাংবাদিক আছে্ন জেলে। পিছিয়ে নেই সৌদি আরব, ভিয়েতনাম, ইজরায়েল, মিশর ও সিরিয়াও। সৌদি আরবের ৪, ভিয়েতনামের ২, ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনের ২, মিশরের ২ এবং সিরিয়ার ১ জন সাংবাদিক জেলে আছেন।
ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ এ মুক্তি পেয়েছেন তুরস্কের জেহরা দোগান। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল দেশদ্রোহিতার। কারাবন্দি ৩২ সাংবাদিকের মধ্যে ২৬ জন রাজনৈতিক খবর ছাড়াও লিখতেন দুর্নীতি ও মানবাধিকার নিয়ে। নারীদের গাড়ি চালনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল সৌদি আরবে। তার বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় বন্দি করা হয় চারজন নারী সাংবাদিককে। বন্দি অবস্থায় তাঁদের যৌন হেনস্থা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েক জন অভিযুক্ত।
সিপিজে-র প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, ওই সাংবাদিরা নিজেদের দেশে নানা বিষয়ে সরব হয়েছিলেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তুরস্কের নাজলি ইলিস্যাক ও হাতিসে দুমান এবং চীনের গুলমায়ের ইমিন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে সাজা পেয়েছেন। তুরস্ক সরকারের অভিযোগ, হাতিসে দুমান সে দেশে নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।
চিনের গুলমায়ের ইমিন রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পান। তিনি ইসলাম বিশ্বাসী উইঘুর সম্প্রদায়ের ওয়েবসাইটে ভুল ও বিকৃত তথ্য দেন বলে অভিযোগ। তাঁকে গ্রেফতার করার সঙ্গে সঙ্গে সেই ওয়েবসাইটের সমস্ত তথ্যও মুছে ফেলা হয়।