‘…পুরাতন পুঁথি কঙ্কালেরই মত।
কিন্তু আমি তাহার ভিতর যুগযুগান্তের রক্তধমন ও নিঃশ্বাসের প্রবাহধ্বনি শুনিয়াছি।’
আবদুল করিম একটি সাধারণ নাম। সেই নামের সাথে যখন সাহিত্যবিশারদ যুক্ত করে বলতে হয়, তখন কিছু তো ব্যাপার আছে। কারণ, বিশারদ কথাটির আভিধানিক অর্থ পন্ডিত বা পারদর্শী। অর্থাৎ, কেউ কোন বিষয়ে পন্ডিত হলেই তাঁকে বিশারদ বলা যায়। আবদুল করিম বাংলা সাহিত্যের এক পন্ডিত ব্যক্তিত্ব। বাংলা সাহিত্য এই মানুষটির কাছে অনেক ঋণী। চমকে ওঠার মত কিছুই বলিনি। আবদুল করিম নামটি আমরা অনেকেই হয়ত জানি না, জানা হয়ে উঠেনি বা জানলেও তাঁর গুরুত্ব বুঝে উঠতে পারিনি। আমরা তাঁকে না জানলেও বাংলা সাহিতে তাঁর অবদান মিথ্যে হয়ে যায় না।
আবদুল করিম সংকলিত, বাঙ্গালা পুঁথির বিবরণ [কলিকাতা, ১৩২০ বঙ্গাব্দ] বইয়ের ‘নিবেদন’ অংশে শ্রী ব্যোমকেশ মুস্তফী আমাদের জানান পুঁথি সংগ্রহ করতে কী ক্লেশই না স্বীকার করতে হয়েছিল তাঁকে! গভীর অন্তর্দৃষ্টি না থাকলে কার অন্তরে জাগে পুঁথির অতলে ডুব দেওয়ার এমন তীব্র প্রেরণা?
‘পুঁথি অনুসন্ধান করিতে গ্রামে গ্রামে ঘুরিয়া বেড়াইবার অবসর ও ব্যয় নির্বাহের মত আর্থিক স্বচ্ছলতা তাঁহার নাই, মূল্য দিয়া তিনি পুঁথি ক্রয় করিতে পারেন এমন অর্থ তো তাঁহার নাই-ই, তথাপি কেবল মাতৃভাষার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা, প্রীতি ও ভক্তিবশতঃ তিনি জীবনের দীর্ঘকাল এই পুঁথি সংগ্রহে যথাসাধ্য ব্যয় করিয়াছেন, যথেষ্ট কষ্ট সহ্য করিয়াছেন এবং এই সকল পুঁথির আলোচনায় কাটাইয়াছেন।
…সর্ব্বাপেক্ষা তাঁহাকে যে উৎপীড়ন সহিতে হইয়াছে তাহা যেমন অদ্ভুত তেমনি বিস্ময়কর। তিনি মুসলমান, কোনো হিন্দু আঙিনায় তাঁহার প্রবেশাধিকার নাই, কিন্তু হিন্দুর ঘরে পুঁথি আছে শুনিয়া তিনি ভিখারীর মত তাঁহার দ্বারে গিয়া পুঁথি দেখিতে চাহিয়াছেন। পুঁথি সরস্বতীর পূজার দিনে পূজিত হয়; অতএব মুসলমানকে ছুঁইতে দেওয়া হইবে না বলিয়া অনেকে তাঁহাকে দেখিতেও দেন নাই। অনেকে আবার তাঁহার কাকুতি মিনতিতে নরম হইয়া নিজে পুঁথি খুলিয়া পাতা উল্টাইয়া দেখাইয়াছেন। মুনশী সাহেব দ্বারের বাহিরে দাঁড়াইয়া হস্তস্পর্শ না করিয়া কেবল চোখে দেখিয়া নোট করিয়া সেই সকল পুঁথির বিবরণ লিখিয়া আনিয়াছেন। এত অধ্যবসায়ে, এত আগ্রহে, এমন করিয়া কোন হিন্দু অন্তত তাহার নিজের ঘরের পুঁথিগুলির বিবরণ লিখিতে বা অন্য কোন কার্য্যে হাত দিয়াছেন কিনা জানি না। মুনশী সাহেবের নিকট বাঙ্গালা সাহিত্য-সমাজের কৃতজ্ঞতার পরিমাণ যে কত বেশী তাহা ইহা হইতেই অনুমান করা যায়।’
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ বাঙালীর ঐতিহ্যচর্চার এক নিরলস সাধক ছিলেন। তাঁর অনুসন্ধিৎসা ও আগ্রহ ছিল বহুমুখী ও বৈচিত্র্যমন্ডিত। স্বচ্ছ ও গভীর ছিলো তাঁর দৃষ্টি। এই জ্ঞানতাপস জীবিতকালেই বাংলাসাহিত্যের মধ্যযুগ–চর্চার প্রবাদ পুরুষ হয়ে উঠেছিলেন। তবে মধ্যযুগের ধুসর পান্ডুলিপির অভ্যন্তরেই কেবল তাঁর মনোযোগ নিবন্ধ ছিলো না, স্বদেশ–সমাজ ও সংস্কৃতিসাধনা ছিলো তাঁর জীবনচর্চারই নামান্তর। সুদীর্ঘ কালের নিরলস সাধনার দ্বারা তিনি একাই একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হন। তিনি প্রাচীন বাংলা পুঁথি সংগ্রহ করেন, পুঁথির পাঠোদ্ধার করেন, পুঁথির পরিচিতি নিয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেন, প্রাচীন পুঁথি সম্পাদনা করেন এবং পুস্তক রচনা ও প্রকাশ করেন। সাধারণভাবে বলতে গেলে এই–ই ছিল তাঁর কাজ। উচ্চ শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য আবিস্কার করে এমন এক স্থানে এসে দাঁড়িয়েছেন যা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি। এই জন্যই তিনি অর্জন করেছেন সাহিত্যবিশারদ এবং সাহিত্য সাগর উপাধি।

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে যাদের আগ্রহ, তাঁদের কাছে সাহিত্যবিশারদ আবদুল করিম অবশ্যই সুপরিচিত নাম। কিন্তু তাঁরা যদি আবদুল করিম সাহেবকে গাছ ঝাঁকি দিয়ে বরই কুড়ানোর মত করে খুব সহজেই ‘পুঁথি সংগ্রাহক’ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন, তাহলে বলব আরেকটু গভীরে ভাবুন। তাঁর এইসব পুঁথির বিপুল সংগ্রহ বাঙালীর সাহিত্য-ইতিহাসে আর জাতীয়তাবোধে কী ভূমিকা রেখেছে তা অনুভব করুন। ওই পুঁথি সংগ্রহ করে পাঠোদ্ধার না হলে আজ আমরা বাংলার ঐতিহ্য সম্পর্কে অজ্ঞই থেকে যেতাম। প্রাচীন এবং মধ্যযুগের সাহিত্যের পিঠে ভর করেই আমাদের আজকের সাহিত্যযাত্রা। আর সে সাহিত্যকে আমাদের সামনে এনে দিয়েছেন এই সাহিত্যবিশারদ। আমরা তাঁকে নিয়ে গর্ব করতে পারি, তাঁকে চর্চা করতে পারি। কিন্তু তাঁকে অস্বীকার করা বা ভুলে যাবার চেষ্টা নিতান্তই মূর্খতা। কারণ, তাহলে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকেই অস্বীকার করা হয়।
‘বঙ্গ-সাহিত্যের জন্য আমি এমন কিছু করি নাই, যাহা লইয়া আমি গর্ব করিতে পারি। আমাদের পূর্বপুরুষের প্রচুর সাহিত্য-সম্পদ (যাহাকে রত্নসদৃশ্য মনে করা যাইতে পারে) ভূগর্ভে প্রোথিত হইয়া গিয়াছিল। সে সকল রত্ন ভূগর্ভ উৎখাত করিয়া আমি লোকলোচনের গোচরীভূত করিয়াছি। তজ্জন্য আমাকে অনেকে কতকগুলি পুঁথির সংগ্রাহক মাত্র মনে করেন এবং আমিও নিজেকে তদধিক কিছু মনে করি না।’
বাংলা সাহিত্যের এই বটবৃক্ষ একের পর এক পুঁথির পাঠোদ্ধার করার সময়ই তা প্রকাশের গুরুত্ব অনুভব করেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসেও সেগুলো গ্রন্থাকারে প্রকাশ করতে না পারার বেদনা তাঁকে মুক্তি দেয়নি। আবদুল হক চৌধুরীকে ১৯৪৭-এ লেখা এক চিঠিতে সেই বেদনার কথা কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই বলেছিলেন,
‘আমি মোস্লেম রচিত প্রাচীন বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় নাম দিয়া প্রাচীন পুঁথির বিবরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে কয়জন ধনীর কাছে সাহায্য ভিক্ষা চাহিয়াছি। কিন্তু ধনীরা যতই ধনবান হউক, সাহিত্যের মর্যাদা বুঝে না। তাই তাদের কাছে কিছু পাইবার আশা করি না। সুতরাং পূর্ব পাকিস্তানের মারফত সাধারণের কাছে ভিক্ষার ঝুলি ধরিয়াছি। সকলে ২/৪ টাকা করিয়া দিলে আমার অভীষ্ট সিদ্ধ হইবে।’
আবদুল করিম ১৮৭১ সালের ১০ অক্টোবর তারিখে বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৯৩ সালে ২২ বছর বয়সে তিনি পটিয়া স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করেন, মুসলীম ছাত্র হলেও এন্ট্রান্স পরীক্ষায় তাঁর অন্যতম বিষয় ছিল সংস্কৃত। সংস্কৃত জ্ঞান পরবর্তী জীবনে আর্শীবাদ হয়ে আসে তাঁর সাহিত্য চর্চায়। ড. শহীদুল্লাহর মতে সম্ভবত গোটা বাংলাদেশে আধুনিক যুগে তিনিই প্রথম সংস্কৃত পড়ুয়া মুসলমান। এরপর চট্টগ্রাম কলেজে এফ এ ক্লাসে দুই বছর অধ্যয়ন করেন, পরীক্ষার কিছু সময় আগে তিনি টাইফয়েড রোগে আক্রান্ত হলে পরীক্ষা দেওয়া আর হয়নি এবং তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার এখানেই সমাপ্তি ঘটে।
তখন থেকেই আবদুল করিমের পরিবারের আর্থিক অবস্থারও অবনতি ঘটতে থাকে। তার কারণ একদিকে ১৮৯৭ সালে চট্টগ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল ঘুর্ণিঝড়। এতে আবদুল করিমের পরিবারও ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপরদিকে সামান্য জমি-জমা যা ছিল তাও ঋণের দায়ে এবং মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে হাত ছাড়া হয়ে যায়। ফলে পরিবার এমন এক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন যে উপার্জনক্ষম সদস্যদের চাকরীর উপর নির্ভরশীল হতে হয়। আবদুল করিমের প্রথম চাকরী চট্টগ্রাম পৌর বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা। এই স্কুলে কিছুদিন শিক্ষকতা করার পর তিনি এক বছরের চুক্তিতে সীতাকুন্ডু মধ্য ইংরেজী বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদে নিযুক্ত হন।
এফ এ পড়ার সময় আবদুল করিমের সাহিত্য চর্চা শুরু হয় এবং সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে তিনি কবি নবীন সেনের সঙ্গে পরিচিত হন। নবীন চন্দ্র সেনও ছিলেন চট্টগ্রামের ছেলে। আবদুল করিম এফ এ পড়ার সময় অক্ষয় চন্দ্র সরকার সম্পাদিত ‘পূর্ণিমা’ পত্রিকায় ‘অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী’ নামে এক দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেন। নবীন চন্দ্র সেন তখন কলিকাতার আলীপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি পূর্ণিমা পত্রিকায় আবদুল করিমের প্রবন্ধ পাঠ করে এই নবীন লেখকের প্রতি অনুরাগী হন। নিজের জন্মভুমি চট্টগ্রামের একজন মুসলমান ছেলের সাহিত্য চর্চা তাকে মুগ্ধ করে। নবীন সেনের মতো একজন নামী কবি ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের প্রশংসা পেয়ে এফ এ পড়ুয়া ছাত্র আবদুল করিমও বেশ উৎসাহ বোধ করেন। আবদুল করিমের নিজের ভাষায় তাঁর তখনকার মনোভাব প্রকাশ পায়,
‘বাড়ির পুঁথিপত্র হইতে চয়ন করিয়া কতগুলি পদাবলী স্বর্গীয় আচার্য অক্ষয়চন্দ্র সরকারের ‘পূর্ণিমা’ পত্রিকায় প্রকাশার্থে প্রেরণ করিয়া যখন দেখিলাম সেইগুলি প্রকাশিত হইল তখন আমার আনন্দ ধরে না। এই সূত্রে কবি নবীনচন্দ্র সেন মহাশয়ের দৃষ্টিপথে পতিত হইয়া তাঁহার যে উৎসাহবাণী লাভ করি তাহাতে সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ বৃদ্ধির সঙ্গে আমার হ্নদয়ে উৎসাহাগ্নি দাউ দাউ করিয়া জ্বলিয়া উঠে।
আবদুল করিমের এই গুণমুগ্ধ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ১৮৯৭ সালের জানুয়ারী মাসে বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব হিসেবে বদলী হয়ে চট্টগ্রামে আসেন। এসেই তিনি আবদুল করিমের খোঁজ করেন এবং নিজে উদ্যোগী হয়ে তাঁকে অ্যাপ্রেনটিস কেরানি হিসেবে কমিশনারের অফিসে বদলী করে আনেন। এই অফিসে এসে আবদুল করিম কিছু কুচক্রী লোকের ষড়যন্ত্রের শিকার হন। অফিসের একদল কর্মচারী আবদুল করিমের প্রতি কবি নবীন সেনের প্রীতি সুনজরে দেখেনি। বছরখানেক চাকুরি করার পরে এমন একটি ঘটনা ঘটে যাকে বিরোধীপক্ষ কাজে লাগায়। কালীশংকর চক্রবর্তী নামক আবদুল করিমের গ্রামের এক লোক ‘জ্যোতি’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। ঐ পত্রিকার এক সংখ্যায় কমিশনার অফিসের একটি গোপন সংবাদ প্রকাশিত হয়। ঐ পত্রিকাতেই আবার আবদুল করিম একটি বিজ্ঞাপন দেন- ‘প্রাচীন গীত পুঁথি বারমাস্যা প্রভৃতি যিনি সংগ্রহ করিয়া দিবেন তাঁহাকে আমরা এক বৎসরকাল ‘জ্যোতি’ বিনামূল্যে দান করিব।’ বিজ্ঞাপনটি আবদুল করিমের নামে প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞাপন থেকে ষড়যন্ত্রকারীরা কমিশনার জি. আই. ম্যানেষ্টির কাছে অভিযোগ করে যে আবদুল করিমের দ্বারাই অফিসের গোপন সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। আবদুল করিম নবীন সেনের লোক, তাঁকে নবীন সেন চাকুরি দেন, অতএব জ্যোতি পত্রিকার সঙ্গে নবীন সেন এবং আবদুল করিম উভয়ের সংযোগ আছে। সরকারী কর্মচারী হিসাবে নবীন সেন বা আবদুল করিম কারোই সংবাদপত্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব ছিল না। এটা সরকারী চাকুরি বিধিতে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে তাঁদের কারও যোগাযোগ ছিলও না। নবীন সেন জানতেন না যে আবদুল করিম সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন, আর আবদুল করিম বুঝতে পারেননি যে নিছক সাহিত্য সম্পর্কিত বিজ্ঞাপনে এমন ঘটনা ঘটবে। কমিশনার উভয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেন, ১৮৯৮ সালের আগস্ট মাসে নবীনচন্দ্র সেন ময়মনসিংহে বদলী হন এবং আবদুল করিম চাকুরিচ্যুত হন। আবদুল করিমকে সরকারী চাকুরির জন্য অবাঞ্চিত ব্যক্তি বলেও ঘোষণা করা হয়, পরে অবশ্য এই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এই ঘটনার কথা কবি নবীনচন্দ্র সেন তাঁর ‘আমার জীবন’ গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। চাকুরিচ্যুত হলে কবি নবীনচন্দ্র সেন আবদুল করিম কে রেঙ্গুনে গিয়ে চাকুরি করার পরামর্শ দেন। সেই সময়ের একজন এন্ট্রান্স পাস ছেলে রেঙ্গুনে গেলেও ভাল চাকুরি করতে পারতেন, কিন্তু আবদুল করিম জন্মভূমি ছেড়ে কোথাও যেতে উৎসাহ পাননি। আজহারউদ্দিন খান এই বিষয়ে লিখেন–
‘নিজের জন্মভূমি ছেড়ে বাইরে কোথাও তিনি থাকতে পারতেন না, চট্টগ্রামের বাইরে যেতেও চাইতেন না। পরবর্তী কালে যখন তাঁর খ্যাতি হয়েছে তখনও অনেকেই হয় ঢাকা কিংবা কলিকাতার কাছাকাছি থাকতে বলেছেন। ঢাকার ধানমন্ডিতে এক ব্যক্তি বাড়ি করার জন্য জমি দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি নেননি। ১৮৯৮ খ্রীষ্টাব্দে চাকুরিচ্যুতির সময়ে তিনি পুঁথি সাহিত্যের প্রেমে পড়ে যান এবং তখন তিনি বুঝতে পারেন এক অজানা জ্ঞানের সাগর তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। রেঙ্গুনে গেলে তাঁর জীবনের ঐ বিরাট সম্ভাবনা ভেস্তে যাবে। তাই দেখা যায় তিনি অন্য কোন চাকুরি না নিয়ে স্কুলের শিক্ষকতা জীবনই বেছে নেন।’
রাজচন্দ্র সেন নামের এক ব্যক্তি তখন চট্টগ্রাম কালেক্টরেটে নাজির পদে চাকুরি করতেন। তিনি ছিলেন আঠার শতকের কবি এবং ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের রচয়িতা মুক্তারাম সেনের বংশধর। পৈত্রিক বাড়ি কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরবর্তী আনোয়ারা থানার আনোয়ারা গ্রামে। এখানে প্রচুর জমিজমা নিয়ে তাঁর ছিল জমিদারী। তিনি ১৮৯০ সালে ‘আনোয়ারা মধ্য ইংরেজি স্কুল’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ছিলেন কলকাতা রামকৃষ্ণ মঠের স্বামী পবিত্রানন্দ মহারাজ। তৎকালীন অনগ্রসর কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীদের সজীব ও শিক্ষিত করে তোলার লক্ষ্যই ছিল রাজচন্দ্র সেনের প্রচেষ্টা।
১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক স্কুল থেকে বিদায় নিলে ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ খালি হয়ে যায়। রাজচন্দ্র সেন একজন বিজ্ঞ প্রধান শিক্ষক খোঁজ করছিলেন। একই অফিসে চাকরির সুবাদে আবদুল করিমের সাথে তাঁর ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। তাঁরই স্কুলে শিক্ষকতার জন্য আবদুল করিমকে আহ্বান জানান। এ দুঃসময়ে রাজচন্দ্র সেনের আহবান উপেক্ষা করাও যায় না। আবার মনে দ্বিধাও জাগলো, দ্বিধায় কারণ হলো– প্রধান শিক্ষকের পদ না পেলে তিনি যোগদান করবেন না। তখনকার মৌলিক–প্রথানুযায়ী হিন্দু প্রতিষ্ঠিত কোনো স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে কোনো মুসলিম শিক্ষক নিযুক্তি পেতেন না। তাছাড়া আনোয়ারা হিন্দু প্রধান এলাকা। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাজচন্দ্র সেন স্থানীয় গণ্যমান্যদের সাথে আলোচনা, তর্কবিতর্ক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন আবদুল করিমকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেবেন। দ্বিধা–দ্বন্দ্ব সরিয়ে আবদুল করিম আনোয়ারা গ্রামে গেলেন। রাজচন্দ্র সেন প্রধান শিক্ষকের নিযুক্তি পত্রই সরাসরি তুলে দিলেন আবদুল করিমের হাতে। ১৮৯৯ সালের শুরুর দিকে আবদুল করিম আনোয়ারা মধ্য ইংরেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। আবদুল করিম এবং স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাজচন্দ্র সেন, উভয়ের প্রচেষ্টায় গরিব কৃষিপরিবারের ছেলেরাও লেখাপড়ায় আগ্রহী হয়ে উঠে। যাদের সামর্থ ছিল না তাদের বিনা বেতনে পড়ার ব্যবস্থা নিলেন, এমন কি হেড মাস্টার আবদুল করিম তাঁর সামান্য বেতন থেকেও গরিব ছেলের বই খাতা দিতেন এবং মাসিক সাহায্যও করতেন।
আবদুল করিম আনোয়ারা স্কুলে ১৮৯৯ থেকে ১৯০৫ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতাই তাঁর পুঁথি সংগ্রহের বিরাট সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। স্কুলের হেড মাস্টার এলাকার একজন গণ্যমান্য, সুপরিচিত ও সম্মানিত লোক, চারিদিকে অসংখ্য ছাত্র, তাছাড়া তিনি যে শুধু প্রধান শিক্ষক ছিলেন তা নয়, তিনি ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক ও সাহিত্যিক। তাঁর প্রথম সম্পাদিত কাব্য ‘রাধিকার মানভঞ্জন’ ঐ স্কুলে থাকতেই প্রকাশিত হয়। আনোয়ারা স্কুলে শিক্ষকতা কালে তিনি কিছুদিন পাশের গ্রাম শিলাইগড়ায় বাড়িতে থাকতেন, এরপর তিনি নিকটস্থ শোলকাটা গ্রামের তাঁরই ছাত্র আজিজুর রহমান কেরানীর বাড়িতে চলে যান এবং স্কুল থেকে বিদায় নেয়া পর্যন্ত সে বাড়িতেই ছিলেন। তিনি ছাত্রদের পুত্রবৎ জ্ঞান করতেন এবং ফলে আশে পাশের সকলের সঙ্গে পরিচয় এবং যোগাযোগ স্থাপিত হয়। যেখানেই তিনি থাকতেন সেই বাড়িতেই পুঁথি পাঠের আসর বসাতেন এবং উপস্থিত সকলের কাছ থেকে প্রাচীন পুঁথির খবরাখবর নিতেন এবং সংগ্রহ করতেন। তিনি নিজে বলেন,
‘ঘটনাস্রোতের আবর্তনে আমার জীবনে একটা পরিবর্তন আসিয়া পড়ে। আমি আনোয়ারায় গিয়া পড়ি। সুযোগ পাইয়া চতুর্দিক হইতে প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহ করিতে করিতে বুঝিতে পারি যে হিন্দুর মত মুসলমানেরও একটা বিরাট সুগঠিত ও উন্নত প্রাচীন সাহিত্য আছে।’
আগেই বলা হয়েছে, আনোয়ারা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাজচন্দ্র সেনের জন্ম কবি পরিবারে। তিনি ছিলেন সারদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা মুক্তারাম সেনের বংশধর। আবদুল করিম পুঁথি সংগ্রহে রাজচন্দ্র সেনের সহায়তা পান, সারদামঙ্গল কাব্যটি তাঁর কাছ থেকেই সংগ্রহ করেন। এই সময় তিনি আনোয়ারার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বিপুল সংখ্যক পুঁথি সংগ্রহ করেন। প্রথম পুঁথিটি সংগৃহীত হয় স্কুলের নিকটবর্তী ডুমুরিয়া গ্র্রামের এক কৃষকের ঘর থেকে। এটি পেয়ে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। ঐ পুঁথিটি ছিল তাঁর সংগ্রহের একটি অমূল্য রত্ন ‘আলাওলের পদ্মাবতী কাব্য’। এই পুঁথি আবিস্কারের আনন্দের কথা তিনি ড. মুহাম্মদ এনামুল হককে যেভাবে বলেছিলেন তাঁর বর্ণনা দিয়ে ড. হক বলেন—
‘আনোয়ারায় শিক্ষক আবদুল করিমের দিন খোঁজাখুজিতেই কাটে। একদিন হঠাৎ এক চাষীর বাড়িতে একখানা পুঁথি পাওয়া গেল। ইউরেকা! ইউরেকা! পেয়েছি! পেয়েছি! সে কি যে আনন্দ! হাজার টাকার তোড়া বা গুপ্তধন পেয়েও কেউ তেমন আনন্দ উপভোগ করেছেন কিনা, জানিনে। আবদুল করিম যখন বৃদ্ধ বয়সে এ কাহিনী বলতেন, তখন তাঁর দন্তহীন মুখে যে হাসি ফুটে উঠতো, তা দেঁতো হাসিকেও মাত করে দিতে দেখেছি। তখনও প্রাচীন হস্তাক্ষর পড়ার ক্ষমতা তাঁর হয়নি। পুঁথিখানি যে কি বই, তা কিছুতেই ঠিক করা গেল না। নানা স্তোক–বাক্যে চাষীটিকে ভুলিয়ে তিনি হস্তগত করলেন—সাত রাজার ধন এক মানিক। আহার নেই, নিদ্রা নেই, পাঠোদ্ধারের প্রচেষ্টা অবিরাম গতিতেই চললো। এক সপ্তাহের অদম্য প্রচেষ্টায় জানা গেল, পুঁথিটি কবি আলাওলের পদ্মাবতী।’
এই পুঁথি আবিস্কার আবদুল করিমের জীবনে এক নতুন প্রেরণা যোগায় এবং বলা যায় তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পুঁথির পাঠ উদ্ধার করে তিনি বুঝতে পারেন, এই পুঁথি প্রমাণ করে প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান কোন অংশে খাটো নয়। এতে তিনি অত্যন্ত প্রীত হন এবং সন্তোষ লাভ করেন। তাঁর মনে বিশ্বাস জন্মাল যে এই পান্ডুলিপি মুসলমানদের মুখ উজ্বল করেছে।
ড. এনামুল হক বলেন, ‘পদ্মাবতীর প্রাচীন পান্ডুলিপির আবিস্কার আবদুল করিমের জীবনের প্রথম ও স্মরণীয় ঘটনা। এটি জাতির পক্ষেও এক মূল্যবান আবিস্কার। এই আবিস্কারকে ভিত্তি করে আজ জাতির প্রাচীন সাহিত্য সাধনার সৌধ গড়ে উঠেছে।’
পদ্মাবতী আবিস্কারের পরে আবদুল করিমের মনে গবেষণার নেশা তীব্র হয়ে দেখা দেয়। এরপর থেকে পান্ডুলিপি সংগ্রহে তাঁর প্রচেষ্টা আরও দূর্বার আকার ধারণ করে। তিনি খোঁজ পান শিলাইগড়া গ্রামের মহুরি বাড়ির বুধা গাজী এলাকার একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুঁথি প্রেমিক, প্রতিদিন সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে পুঁথির আসর বসান। তাঁর কাছে অনেক প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহে আছে। আবদুল করিম একদিন মহুরি বাড়িতে এসে বুধা গাজীর সাথে পুঁথির আসরে অংশগ্রহণ করলেন। তখন তিনি দেখতে পেলেন এলাকার প্রবীণ সাহিত্যপ্রেমী বুধা গাজীর সংগ্রহে অনেক পুঁথি। তা দেখে তিনি অবাক হয়ে গেলেন। এতগুলো পুঁথি কীভাবে নেয়া যায়, তাই নিয়ে চিন্তায় মশগুল। বুধা গাজীও তাঁকে পেয়ে দারুণ খুশি। আবদুল করিমকে তিনি বাড়িতে কয়েকদিন থেকে যাবার অনুরোধ জানালে তাতে তিনিও রাজী হয়ে যান। আবদুল করিম চেয়েছিলেন বুধা গাজী নিজ থেকে যেন এই প্রস্তাবটি দেন। প্রায় সপ্তাহ ধরে মহুরি বাড়িতে পুঁথি পাঠের আসর বসালেন। ঐ আসরে নিকটবর্তী এলাকা থেকে বেশ কয়জন পন্ডিতের উপস্থিতি পুঁথিপাঠের জৌলুস আরও বাড়িয়ে দেয়। যতটুকু জানা যায় আবদুল করিম বুধা গাজীর কাছ থেকে প্রায় ২০টি প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহ করেছিলেন।
আবদুল করিম আনোয়ারা স্কুলে যে সাত বছর ছিলেন, ওই সময়ে তিনি আনোয়ারা থানার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে প্রচুর পুঁথি সংগ্রহ করেন এবং এই পুঁথি গুলিই তাঁর গ্র্রন্থাগারের নিউক্লিয়াস বা মূলাধারে পরিণত হয়। এই স্কুল থেকেই ডিভিশনাল ইনসপেক্টর অব স্কুলস্ এর অফিসে কেরানীর চাকরী নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসেন। পুঁথির প্রাপ্তিস্থান গ্রামেই, শহরে মাঝে মধ্যে দু’একটি পুঁথি পাওয়া গেলেও শহর পুঁথিরর প্রাপ্তিস্থান ছিল না। কিন্তু আবদুল করিম সারা জীবন পুঁথি সংগ্রহ করে যান।
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ নিজেই তাঁর পুথি সংগ্রহের বিবরণ প্রকাশ করেন, দুই খন্ডে এই বিবরণ বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। প্রথমখন্ড দ্বিতীয় সংখ্যায় ৪৩৪ থেকে ৫০০ সংখ্যক পুঁথির বিবরণ প্রকাশিত হয় ১৩২০ বঙ্গাব্দে এবং প্রথম খন্ড প্রথম সংখ্যায় ১ থকে ৪৩৩ সংখ্যক পুঁথির বিবরণ প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দে। এই বিবরণ প্রকাশিত হওয়ার পরেও তিনি পুঁথি সংগ্রহ করেন। তাঁর জীবিতাবস্থায় ১৯৫০ সালে তিনি সংগৃহীত মুসলমান রচিত পুঁথিগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করেন, তার সংখ্যা–৬৯৫, এবং তাঁর মৃত্যুর পরে ১৯৫৩ সালে হিন্দু রচিত পুঁথিগুলো ড. আহমদ শরীফ রাজশাহী বরেন্দ্র গবেষণা যাদুঘরে দান করেন, যার সংখ্যা ৩৮১টি। পুঁথি পরিচিতি এবং বাংলা প্রাচীন পুঁথির বিবরণ ছাড়াও সাহিত্য বিশারদ নিজে ৯টি প্রাচীন বাংলা কাব্য সম্পাদন করেন। এছাড়া সাহিত্যবিশারদ এবং ড. এনামুল হক যৌথভাবে ১৯৩৫ সালে ‘আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য’ গ্রন্থটি প্রকাশ করেন। ১৯১৮ সনে চট্টগ্রাম সম্মেলনে অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি রূপে প্রদত্ত তাঁর ভাষণের সংশোধন ও সম্প্রসারণ করে তিনি ইসলামাবাদ নামে ধারাবাহিক প্রবন্ধ রচনা করেন। সাহিত্যবিশারদের শ্রেষ্ঠ কীর্তি আলাওলের পদ্মাবতী কাব্যের পান্ডুলিপি আবিস্কার ও তার সম্পাদনা করা। কিন্তু এর পুস্তকাকারে প্রকাশিত রূপ তিনি দেখে যেতে পারেননি।
১৩১০ বঙ্গাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তাঁকে পরিষদের বিশিষ্ট সদস্য বা ফেলো নির্বচিত করেন। স্মরণ রাখতে হবে যে এর দুই বছর আগে তার সম্পাদিত প্রথম পুস্তক ‘রাধিকার মানভঞ্জন’ সাহিত্য পরিষদ কতৃক প্রকাশিত হয়। বলা বাহুল্য মুসলমানদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই বিরল সম্মান লাভ করেন। সাহিত্য পরিষদ ১৩১৯ বঙ্গাব্দে তাঁকে আজীবন সহায়ক সদস্য করে নেন। ১৩২৪ বঙ্গাব্দে তিনি সাহিত্য পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটিতে শাখা পরিষদ থেকে সদস্য মনোনীত হন। ১৩২৫ বঙ্গাব্দে তিনি সাহিত্য পরিষদের চট্টগ্রাম শাখার অন্যতম সহসভাপতি নির্বাচিত হন। এই সহসভাপতির পদও তাঁর জন্য বিরল সম্মান বয়ে আনে। ১৯০৯ সালে চট্টলা ধর্মমন্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্যবিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং ১৯২০ সালে নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে ‘সাহিত্য সাগর’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্থান প্রতিষ্ঠা অবধি তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষক ছিলেন। ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে বাংলা অনার্স পরীক্ষার একটি পত্রের পরীক্ষক নিযুক্ত করেন।
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক ধ্যাননিমগ্ন যোগী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রীধারী না হলেও তিনি নিজের সাধনায় প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের বিস্মৃত বা উপেক্ষিত এমন রত্নভান্ডার উদ্ধার করেন এবং জনসমক্ষে প্রচার করেন যে তিনি উপরোক্ত সম্মান অর্জনের উপযুক্ত বিবেচিত হন। ১৯৫৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ পরলোক গমন করেন।
‘বাংলাভাষার আধুনিক রূপ গড়ে উঠেছে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানের সম্মিলিত সুদীর্ঘ পদযাত্রার মধ্য দিয়ে।’
–সাহিত্যবিশারদ আবদুল করিম
সূত্র: আবুল আহসান চৌধুরী সম্পাদিত আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ: ঐতিহ্য অন্বেষায় প্রাজ্ঞ পুরুষ, ২০১১, ঢাকা; আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, আহমদ শরীফ, ঢাকা
বাঙালীয়ানা/এজে/এসএল