শিশুদের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) দেওয়ার নতুন পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির পরিচয় পত্র অনুবিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্মের পর ৫৪ দিনের মধ্যে শিশুর হাতে পৌছে দেওয়া হবে জাতীয় পরিচয়পত্র।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, একবার যে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দেওয়া হবে সেই নম্বরই সারাজীবন বহাল থাকবে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন বিধিমালা, ২০১০ অনুসারে ২০১৪ সালের ২৩ জুলাই একটি বিধিমালা প্রণয়ন করে নির্বাচন কমিশন। সেই বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটার হওয়ার যোগ্য নয় এমন নাগরিককেও জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি দেওয়া হবে। বিধিমালা-২০১৪ পরে প্রনণয় করা হলেও এখনও জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি অনেককে। ২০১৬ সালে ১৬ বছর বয়স থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার জন্য আবেদন করার কথা বলা হয়। অনেকেই আবেদন করলেও এখন এনআইডি পাননি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে আগামী বছর থেকে শিশুদের পরিচয় পত্র দেওয়ার কাজ শুরু করা হবে বলে জানা গেছে।

শূন্য বছর থেকে সব নাগরিককে ইউনিক(অদ্বিতীয়) এনআইডি দেওয়া হবে। যা জাতীয় পরিচয়পত্রের মতোই। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই কার্ড দিয়ে শুধু ভোট ছাড়া সব কাজই করতে পারবে শিশু-কিশোররা। এরপরে ১৮ বছর হয়ে গেলে তিনি নিজে নির্বাচন অফিসে গিয়ে হালনাগাদ করে আসবেন। এরপর থেকে ওই কার্ড ব্যবহার করে তিনি ভোট দিতে পারবেন। ভোটার হওয়ার আগে বিদেশ ভ্রমণ, ব্যাংক হিসাব খোলা, স্কুল ও কলেজসহ যাবতীয় স্থানে এই আইডি ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রথমে শিশুর সব ডাটা সংগ্রহ করবে জেলা বা উপজেলার জন্ম নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ। এরপরে ওই শিশুটির জন্য ১০ ডিজিটের একটি আইডি নম্বর দেওয়া হবে। আইডির নাম হবে ইউনিক আইডি। ওই শিশুর যাবতীয় তথ্যের সঙ্গে ১০ ডিজিটের একটি এনআইডি নম্বর সার্ভার থেকে অটোমেটিক যোগ হয়ে যাবে। এরপরে শিশুটির বয়স ৯ বছর পূর্ণ হলে তার বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করা হবে। কারণ ৯ বছরের আগে বায়োমেট্রিক করলে পরবর্তী সময়ে আবার পরিবর্তন করা লাগতে পারে।

শিশুরা যখন প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট (পিএসসি) পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করবে তখন তার স্কুল থেকেই তাকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে বা আঙুলের ছাপ নিয়ে রেজিস্টেশন করানো হবে। এরপরও যারা বাদ পড়ে যাবে তাদেরকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করানোর সময় দ্বিতীয় ধাপে বায়োমেট্রিক করে নেওয়া হবে। আর যাদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হবে না তাদেরকে বিভন্ন সময় নির্বাচন অফিস থেকে বায়োমেট্রিক করে নেওয়া হবে।

সব নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া এবং তাদের সব তথ্য সংগ্রহ করা নির্বাচন কমিশনের একটি মহাপরিকল্পনা। ধীরে ধীরে সবাই এনআইডি কার্ড পাবে।

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.